মাউশির ডিডি রোকসানার বিরুদ্ধে এমপিওভুক্তিতে দুর্নীতির অভিযোগ
ছবি: জাতীয় অর্থনীতি

রংপুর প্রতিনিধি: মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা (মাউশি) রংপুর অঞ্চলের ভারপ্রাপ্ত উপপরিচালক (ডিডি) মোছা. রোকসানা বেগমের বিরুদ্ধে এমপিওভুক্তিতে লাখ লাখ টাকা ঘুষ গ্রহণ, নিয়মনীতি লঙ্ঘন ও ব্যাপক দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে। তার বিরুদ্ধে ঘুষের টাকা কম আনায় মাইদুল ইসলাম নামের এক শিক্ষককে পুলিশে সোপর্দ করার মতো গুরুতর অভিযোগও পাওয়া গেছে। শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের আইনকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে ডিডি রোকসানা বেগম এবং তার কার্যালয়ের অফিস সহকারী কাম-কম্পিউটার মুদ্রাক্ষরিক আশরাফুল আলম মন্ডল যোগসাজশ করে সিন্ডিকেটের মাধ্যমে দীর্ঘদিন ধরে শিক্ষকদের কাছ থেকে মোটা অঙ্কের অর্থ হাতিয়ে নিচ্ছেন বলে ভুক্তভোগী শিক্ষকেরা সংবাদ সম্মেলনে অভিযোগ করেছেন।

এই দুর্নীতি সিন্ডিকেটের মূল হোতা ও সুবিধাভোগী ব্যক্তিরা হলেন— মাউশি রংপুর অঞ্চলের ভারপ্রাপ্ত উপপরিচালক মোছা. রোকসানা বেগম, তার সহযোগী অফিস সহকারী আশরাফুল আলম মন্ডল, গাইবান্ধার বিনাশ্বর উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষক মোছা. রিনা খাতুন এবং রহিমা খাতুন সিদ্দিকা মেমোরিয়াল বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের সহকারী প্রধান শিক্ষক মো. হারুন অর রশিদ সরকার।

প্রাপ্ত তথ্যে জানা যায়, গত বছরের ৩০ এপ্রিল দায়িত্ব পাওয়ার পর থেকেই ডিডি রোকসানা বেগম ও অফিস সহকারী আশরাফুল আলম মন্ডল যুগলবন্দী হয়ে বদলি বাণিজ্যসহ নানা অপকর্ম চালিয়ে যাচ্ছেন। তারা ইতিপূর্বে নীলফামারী, রংপুর ও গাইবান্ধা জেলা শিক্ষা অফিসে এক যুগেরও বেশি সময় একসাথে ক্ষমতার দাপট দেখিয়ে চাকরি করেছেন। গাইবান্ধার বিনাশ্বর উচ্চ বিদ্যালয়ের সমাজবিজ্ঞানের শিক্ষক রিনা খাতুনের ফাইলের ত্রুটি থাকায় পূর্ববর্তী ডিডি তা রিজেক্ট করলেও রোকসানা বেগম মোটা অঙ্কের টাকার বিনিময়ে তা অনুমোদন (অ্যাপ্রুভ) করেন। একইভাবে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে, দারুল ইহসান ও জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের দুটি বিএড সনদধারী শিক্ষক হারুন অর রশিদ সরকারের কাছ থেকে কয়েক লাখ টাকা ঘুষ নিয়ে তার এমপিও ফাইল অনুমোদন করা হয়। অভিযোগ রয়েছে, রোকসানা বেগম নিজে ফাইল যাচাই না করে বিশ্বস্ত সহকারী আশরাফুলকে দিয়ে সব কাজ করাতেন। এই অবৈধ উপার্জনে সামান্য একজন অফিস সহকারী হয়েও আশরাফুল গাইবান্ধা শহরের শাপলা পাড়ায় কোটি টাকার জায়গা কিনে চার তলা ভবন নির্মাণ করেছেন।

এদিকে, ঘুষের টাকা কম আনায় এক শিক্ষককে পুলিশে দেওয়ার চাঞ্চল্যকর অভিযোগও উঠেছে ডিডি রোকসানার বিরুদ্ধে। ভুক্তভোগী শিক্ষক মাইদুল ইসলাম এক সংবাদ সম্মেলনে জানান, তার বাবার দান করা কাজাইকাটা উচ্চবিদ্যালয়ের সাত শিক্ষক-কর্মচারীর এমপিওভুক্তির জন্য ডিডি রোকসানা বেগমের সাথে ১৫ লাখ টাকায় সমঝোতা হয়। গত ১৬ ফেব্রুয়ারি দুপুরে তিনি ৮ লাখ টাকা নিয়ে ডিডির কার্যালয়ে যান। টাকা কম হওয়ায় রোকসানা বেগম উত্তেজিত হয়ে কর্মচারীদের ডেকে মাইদুলকে পুলিশে সোপর্দ করেন এবং পরে দুদক তার বিরুদ্ধে মামলা করে। ভয়ভীতি দেখিয়ে তখন মুখ বন্ধ রাখা হলেও এখন স্কুল বাঁচানোর স্বার্থে তিনি এই দুর্নীতির বিচার দাবি করছেন।

অভিযোগের বিষয়ে উপপরিচালক রোকসানা বেগম বলেন, “শিক্ষক মাইদুল ইসলাম নিজের গা বাঁচানোর জন্য এখন সংবাদ সম্মেলন করে আমার বিরুদ্ধে নানা মিথ্যা কথা বলে বেড়াচ্ছেন।” তবে রংপুরের বিভিন্ন এমপিওভুক্ত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ভুক্তভোগী শিক্ষক-কর্মচারীরা এই দুর্নীতিবাজ কর্মকর্তা ও তার সহকারীর বিরুদ্ধে উচ্চপর্যায়ের তদন্ত সাপেক্ষে দ্রুত বিভাগীয় ও আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

—জা. অর্থনীতি/এলএটি