৭০০ মিটারের অবহেলায় থমকে আছে নদীতীর পর্যটন সম্ভাবনা
ছবি: জাতীয় অর্থনীতি

বরিশাল প্রতিনিধি: কীর্তনখোলা নদীকে ঘিরে গড়ে ওঠা নান্দনিক শহর বরিশালের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ নদীতীর এখন দখল ও অব্যবস্থাপনার প্রতীকে পরিণত হয়েছে। সংশ্লিষ্টদের মতে, নগরীর ডিসিঘাট থেকে মুক্তিযোদ্ধা পার্ক পর্যন্ত মাত্র ৭০০ মিটার নদীতীর পরিকল্পিতভাবে উন্নয়ন করা গেলে বরিশালের পর্যটন শিল্পে নতুন সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচিত হতে পারে।

শনিবার (৪ জুলাই) সরেজমিনে দেখা যায়, প্রতিদিন হাজারো মানুষ এই ব্যস্ত পথটি ব্যবহার করলেও ভাঙা বাঁধের সুযোগ নিয়ে সেখানে গড়ে উঠেছে অবৈধ অস্থায়ী বসতি, হাঁস-মুরগি ও ছাগলের খামার। 

নদীভাঙন প্রতিরোধে ১৯৮৬ সালে নির্মিত প্রতিরক্ষা বাঁধ ও পায়ে হাঁটার পথটি দীর্ঘ চার দশকেও সংস্কার না হওয়ায় বর্তমানে ভাঙাচোরা ও বেদখল হয়ে পড়েছে।এছাড়া নৌ পুলিশ, কোস্ট গার্ড ও খাদ্য বিভাগের জেটি এলোমেলোভাবে স্থাপিত হওয়ায় পরিকল্পিত রূপ ব্যাহত হচ্ছে।

বরিশাল নৌবন্দর কর্তৃপক্ষের কর্মকর্তা আসাদুজ্জামান জানান, নদীতীরবর্তী এলাকা তাদের অধীনে থাকলেও প্রতিরক্ষা বাঁধের দায়িত্ব পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) এবং সৌন্দর্যবর্ধনের কাজ সিটি করপোরেশনের। অন্যদিকে, পাউবোর নির্বাহী প্রকৌশলী জাবেদ ইকবাল জানান, নদীতীর সংরক্ষণ ও বাঁধ নির্মাণ প্রকল্প ২০২৩ সালে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।

বরিশাল সিটি করপোরেশনের প্রশাসক বিলকিস আক্তার জাহান শিরীন জানান, কীর্তনখোলা নদীর তীরজুড়ে প্রায় ১১ কিলোমিটার ওয়াকওয়ে নির্মাণের পরিকল্পনা রয়েছে। নৌবন্দর কর্তৃপক্ষ ও পানি উন্নয়ন বোর্ড বাঁধের কাজ শেষ করলেই তারা সৌন্দর্যবর্ধনের কাজ শুরু করবেন।

নগর পরিকল্পনাবিদদের মতে, এই ৭০০ মিটার অংশকে অবৈধ দখলমুক্ত করে আধুনিক ওয়াকওয়ে, বসার স্থান, দৃষ্টিনন্দন আলোকসজ্জা ও শিশুদের বিনোদনকেন্দ্র গড়ে তোলা হলে এটি দক্ষিণাঞ্চলের অন্যতম আকর্ষণীয় পর্যটনকেন্দ্রে পরিণত হবে। তাই সংশ্লিষ্ট সব সংস্থার সমন্বিত উদ্যোগে দ্রুত এই নদীতীরের উন্নয়ন এখন সময়ের দাবি।

—জা. অর্থনীতি/এলএটি