চাঁপাইনবাবগঞ্জ প্রতিনিধি: চাঁপাইনবাবগঞ্জের ভোলাহাট টেকনিক্যাল ট্রেনিং ইন্সটিটিউট দখলের অভিযোগ উঠেছে যুবলীগ নেতা কোকিল আহমেদের বিরুদ্ধে। এ নিয়ে জেলা প্রশাসক বরাবর লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন জেলা মহিলাদলের শিক্ষা বিষয়ক সম্পাদক শাহনাজ খাতুন।
অভিযোগে বলা হয়, ২০২১ সালে প্রত্যন্ত অঞ্চলের অসহায় দুস্থ নারীদের কারিগরি শিক্ষায় দক্ষতা বৃদ্ধির করে বেকারত্ব দূরীকরণে গড়ে তোলা হয় ভোলাহাট টেকনিক্যাল ট্রেনিং ইন্সটিটিউট।
প্রতিষ্ঠার পর থেকে ওই প্রতিষ্ঠানের সদস্য ছিলেন ভোলাহাট উপজেলা পরিষদের সাবেক মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান ও জেলা মহিলাদলের শিক্ষা বিষয়ক সম্পাদক শাহনাজ খাতুন। বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে মামলা-হামলা দিয়ে তাকে প্রতিষ্ঠানে যেতে দেওয়া হয়নি। ৫ আগস্ট পট পরিবর্তনের পর ওই প্রতিষ্ঠানের রেজুলেশন ও চুক্তিনামাসহ প্রমাণাদী উদ্ধার করা হয়।
পরবর্তীতে জানতে পারেন প্রতিষ্ঠানের তৎকালিন সভাপতি যুবলীগ নেতা কোকিল আহমেদ জালিয়াতি করে পুরনো সদস্যদের বাদ দিয়ে অবৈধভাবে দখলে নেন প্রতিষ্ঠানটি।
একপর্যায়ে প্রতিষ্ঠাতা সদস্য শাহনাজ খাতুন ও এহসানুল হকের সদস্য বাতিল করে অবৈধ দখলের মাধ্যমে ভোলাহাট টেকনিক্যাল ট্রেনিং ইন্সটিটিউটের চেয়ারম্যান হন কোকিল আহমেদ। কখনো পরিচালক, চেয়ারম্যান ও সভাপতি হিসেবে দাবি করা কোকিলের বিরুদ্ধে স্বজনপ্রীতির অভিযোগ উঠে।
অভিযোগে আরও বলা হয়, প্রতিষ্ঠানের প্রশিক্ষক পদে একাধিক নিয়োগ দিয়ে মোটা অঙ্কের টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন। একই সঙ্গে আদর্শ টেকনিক্যাল ট্রেনিং ইন্সটিটিউট ও কেয়ার গেভার সেন্টার অবৈধভাবে প্রতিষ্ঠা করে নিয়োগ বাণিজ্যের মাধ্যমে মোটা অঙ্কের টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ রয়েছে। এছাড়া তিনি মন্ত্রীর লোক দাবি করে এলাকায় প্রভাব বিস্তার করেন।
এদিকে কথিত আদর্শ টেকনিক্যাল ট্রেনিং ইন্সটিটিউট ও কেয়ার গেভার সেন্টারের ভবন মালিক আল-আমিন বলেন, চলতি বছরের জানুয়ারী মাসে আমার ভবন নিয়ে কোকিল আহমেদ চুক্তিনামা করেন। কিন্তু ফেব্রুয়ারি মাস থেকে ভাড়া দেওয়ার কথা থাকলেও এ পর্যন্ত ভাড়া দেয়নি। এমনকি ওই দুটি প্রতিষ্ঠান আমার ভবনে নিয়ে আসেনি। তার সাথে যোগাযোগ করেও তিনি সাড়া দেননি। আসলে প্রতিষ্ঠান দুটি ভুয়া কিনা তা নিয়ে শঙ্কায় আছি।
ভোলাহাট টেকনিক্যাল ট্রেনিং ইন্সটিটিউটের প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান শাহজাদী খাতুন বলেন, আমার হাতে গড়ে তোলা হয় ভোলাহাট টেকনিক্যাল ট্রেনিং ইন্সটিটিউট। তখন আমি চেয়ারম্যানের পদে ছিলাম। সে সময়ে সভাপতি ছিলেন কোকিল আহমেদ। তিনি এখন আমার চেয়ারম্যানের পদে বাগিয়ে নিয়ে পুরো প্রতিষ্ঠানটি জবর দখলে নিয়েছেন।
এ বিষয়ে কোকিল আহমেদ অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, আমি প্রতিষ্ঠানটি প্রতিষ্ঠা করেছি। আমি কোন রাজনীতির সাথে জড়িত নয়। এসব প্রতিষ্ঠানে রেজুলেশনের প্রয়োজন হয় না। এটি দখলের প্রশ্নই আসে না।
অভিযোগের বিষয়টি নিশ্চিত করে জেলা প্রশাসক আবু ছালেহ মো. মুসা জঙ্গী বলেন, খোঁজখবর নেওয়া হচ্ছে। এটি তদন্তের বিষয় নাকি অন্য কাউকে রেফার্ড করার বিষয়, সেটি খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
—জা.অর্থনীতি/এনজে