সুইজারল্যান্ড জাতীয় ফুটবল দল
সুইজারল্যান্ডের ডাকনাম: ‘নাতি’ বা ‘এ-টিম’ এবং ‘রোসোক্রোসিয়াতি’ (লাল ক্রস)
কনফেডারেশন: উয়েফা
কোচ: মুরাত ইয়াকিন
ফিফা র্যাংকিং: ১৯
কোয়ালিফিকেশন যাত্রা
সুইজারল্যান্ড উয়েফা বাছাইপর্বের ‘বি’ গ্রুপে দাপুটে ফুটবল খেলেছে। তারা কোনো ম্যাচ না হেরে ১৪ পয়েন্ট নিয়ে গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন হিসেবে সরাসরি মূল পর্বে জায়গা করে নেয়।
খেলার ধরন
দলটি মূলত সুসংগঠিত রক্ষণভাগ, শক্তিশালী শারীরিক সক্ষমতা এবং দ্রুতগতির কাউন্টার-অ্যাটাকের সমন্বয়ে ফুটবল খেলে থাকে। দল হিসেবে তারা অত্যন্ত সুশৃঙ্খল এবং বড় দলগুলোর বিপক্ষেও চমক দেখানোর জন্য বেশ পরিচিত।
তারকা খেলোয়াড়
বর্তমান দলে অভিজ্ঞতার কেন্দ্রবিন্দু হলেন দলের অধিনায়ক ও মিডফিল্ডার গ্রানিত জাকা। রক্ষণভাগে নেতৃত্ব দিচ্ছেন ইন্টার মিলানের ডিফেন্ডার মানুয়েল আকানজি এবং গোলরক্ষক হিসেবে ডর্টমুন্ডের গ্রেগর কোবেল গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করছেন।
উদীয়মান খেলোয়াড়
নতুন প্রজন্মের মধ্যে নটিংহ্যাম ফরেস্টের ফরোয়ার্ড ড্যান নদোয়ে এবং জুরিখের আক্রমণভাগের খেলোয়াড়দের পারফরম্যান্স বেশ নজরকাড়া।
কোচের কৌশল
ডিফেন্স থেকে নিচ থেকে বল বিল্ড-আপ করা এবং গোলরক্ষককে অতিরিক্ত ‘সেন্টার-ব্যাক’ হিসেবে ব্যবহার করা তার কৌশলের প্রধান অংশ। উইং-ব্যাক ও মিডফিল্ডারদের মধ্যে চমৎকার পজিশন পরিবর্তন দেখা যায়। লেফট উইং-ব্যাক অনেক সময় সেন্ট্রাল মিডফিল্ডে চলে আসেন।
শক্তি ও দুর্বলতা
অভিজ্ঞ খেলোয়াড়দের নিয়ে গঠিত মিডফিল্ড অত্যন্ত শক্তিশালী ও জমাট। কোনো একক সুপারস্টারের ওপর নির্ভর না করে দল হিসেবে খেলা এবং দ্রুত কাউন্টার-অ্যাটাক করা তাদের বড় শক্তি। কৌশলগত পরিপক্বতার কারণে তারা যে কোনো ফেভারিট দলকে চমকে দিতে সক্ষম। বক্সের ভেতর সুযোগ তৈরি হলেও নিয়মিত গোল করার মতো স্ট্রাইকারের অভাব রয়েছে। প্রতিপক্ষ খুব হাই-প্রেস করলে মাঝমাঠে কখনও কখনও বল হারিয়ে ফেলে এবং ডিফেন্সে চাপ তৈরি হয়।
বিশ্বকাপ ইতিহাস
১৯৩৪ সালের ইতালি বিশ্বকাপে প্রথমবার মূল মঞ্চে পা রাখে সুইজারল্যান্ড। বিশ্বকাপে সুইজারল্যান্ডের সেরা সাফল্য হলো তিনবার কোয়ার্টার-ফাইনালে (১৯৩৪, ১৯৩৮ এবং ১৯৫৪) পৌঁছানো। ২০০৬ সাল থেকে শুরু করে প্রতি বিশ্বকাপেই তারা নিয়মিত খেলছে এবং একাধিকবার নকআউট পর্ব বা শেষ ষোলো নিশ্চিত করেছে।
স্মরণীয় মুহূর্ত
নিজেদের দেশে ১৯৫৪ বিশ্বকাপের কোয়ার্টার-ফাইনালে অস্ট্রিয়ার বিপক্ষে তারা ৭-৫ গোলে হেরে গিয়েছিল। ১২ গোলের এই ম্যাচটি আজও পুরুষ বিশ্বকাপের ইতিহাসে এক ম্যাচে সর্বোচ্চ গোল হওয়ার অবিশ্বাস্য রেকর্ড।
সংস্কৃতি ও সমর্থক
সুইজারল্যান্ডে চারটি দাপ্তরিক ভাষা (জার্মান, ফরাসি, ইতালিয়ান এবং রোমান) রয়েছে। জাতীয় দলের স্কোয়াডেও বিভিন্ন সংস্কৃতির খেলোয়াড়দের সংমিশ্রণ দেখা যায়। সুইস স্টেডিয়ামগুলোতে স্থানীয় ক্লাবগুলোর ম্যাচ ঘিরে দারুণ উৎসবমুখর পরিবেশ তৈরি হয়। জাতীয় দলের খেলা উপলক্ষে পুরো দেশ লাল ও সাদা রঙের পতাকায় ছেয়ে যায়।
মজার তথ্য
জার্সির মূল রঙ লাল এবং শর্টস সাদা। এই লাল রঙ দিয়ে মূলত দেশের শক্তি, জাতীয় ঐক্য, মানুষের আবেগ এবং ফুটবলে তাদের শৃঙ্খলার প্রতীক ফুটিয়ে তোলা হয়। এছাড়া দলের অ্যাওয়ে জার্সির মূল রঙ থাকে সাদা এবং শর্টস লাল।
সম্ভাব্য ফরমেশন
সুইজারল্যান্ড সাধারণত রক্ষণভাগকে শক্তিশালী রেখে ৩-৪-২-১ অথবা ১-৫-৪-১ ফরমেশনে খেলতে পছন্দ করে।
গ্রুপ বিশ্লেষণ
সুইজারল্যান্ড ফিফা বিশ্বকাপের ড্র অনুযায়ী ‘বি’ গ্রুপে কানাডা, কাতার এবং বসনিয়া ও হার্জেগোভিনার মতো দলগুলোর মুখোমুখি হচ্ছে। শক্তিশালী রক্ষণভাগ ও ট্যাকটিক্যাল কৌশলের কারণে দলটি যেকোনো দলের জন্যই বড় চ্যালেঞ্জ।
ভবিষ্যদ্বাণী
সুইজারল্যান্ডকে বর্তমান ফুটবল বিশ্বে ‘ডার্ক হর্স’ বা আন্ডারডগ হিসেবে বিবেচনা করা হলেও, তাদের গ্রুপ ‘বি’ থেকে নকআউট বা রাউন্ড অফ ৩২-এ উত্তরণের সম্ভাবনা প্রবল। বিশেষজ্ঞদের পূর্বাভাস অনুযায়ী, দলটি কোয়ার্টার ফাইনাল পর্যন্ত লড়াই করার সক্ষমতা রাখে।
উক্তি
‘একের জন্য সবাই, সবার জন্য এক’।
