নিজস্ব প্রতিবেদক: বাংলাদেশ অতিমাত্রায় নিয়ন্ত্রিত ব্যবস্থায় পরিচালিত হয়। ব্যবসাসহ সকল ক্ষেত্রে সরলীকরণ বা উদারীকরণের কথা বলেছেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী।
রবিবার (২১ জুন) রাজধানীর গুলশানের একটি হোটেলে আয়োজিত 'সিপিডি বাজেট সংলাপ ২০২৬' এসব কথা বলেন অর্থমন্ত্রী।
অর্থমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশের অনেক সমস্যার মূলে আছে অতি মাত্রায় নিয়ন্ত্রিত ব্যবস্থা। বাংলাদেশ একটি অতি মাত্রায় নিয়ন্ত্রিত দেশ। আমরা সরলীকরণ করতে চাই। এজন্য এ অবস্থা থেকে উত্তরণে টাস্কফোর্স করা হয়েছে।
তিনি বলেন, বেসরকারি খাত থেকে সরকারের অর্থায়ন এখন ব্যয়বহুল হয়েছে, তাই সরকার বিকল্প অর্থায়নের কথা ভাবছে। বিকল্প অর্থায়নের যতগুলো সুযোগ আছে সবগুলোই বিবেচনা করছে। তিনি বলেন, প্রস্তাবিত বাজেটে বেসরকারি খাত থেকে ঋণের চাপ কমানো হয়েছে। এটি ধীরে কমানো হবে, রাতারাতি এটি কমিয়ে ফেলা সম্ভব নয়।
আমরা শিক্ষা খাতে জিডিপির ৫ শতাংশ বরাদ্দ রাখতে চাই। আমরা ডিগ্রির মাধ্যমে অনেক বেকারত্ব সৃষ্টি করছি। তাই আমরা কারিগরি শিক্ষায় জোর দিচ্ছি। কারিগরি দক্ষতা ছাড়া দক্ষ জনবল গড়ে তোলা সম্ভব নয়। আমরা কারিগরি শিক্ষায় আন্তর্জাতিক মানের স্বীকৃতি আনতে চাই।
আমির খসরু বলেন, স্বাস্থ্য খাতে আমরা স্বাস্থ্য কার্ড চালু করতে চাই। এটি খুবই চ্যালেঞ্জিং হলেও আমরা শুরু করতে চাই। প্রান্তিক পর্যায় থেকে সব পর্যায়ের মানুষের জন্য ইউনিভার্সাল হেলথ কার্ডে জোর দিচ্ছি। প্রযুক্তি খাতে তরুণদের সহযোগিতা করতে সব ধরনের প্রণোদনা দেওয়া হয়েছে।
অর্থমন্ত্রী বলেন, বিগত সরাকারে ১৩শ প্রকল্প বহন করছি। এগুলোর কিছু কিছু আগের সরকারের নিজস্ব স্বার্থে করা হয়েছে। এসব প্রকল্প আমাদের মানুষের জন্য বোঝা। এগুলোর কছু কিছু বাতিল করা হচ্ছে, কিছু কিছু চাইলেও বাতিল করা সম্ভব হচ্ছে না। অনেক প্রকল্প বাধ্য হয়েই চলমান রাখতে হচ্ছে।
বাংলাদেশের জ্বালানি খাতে সমস্যার কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, সরকারকে কমপক্ষে ২ বছর সময় দিতে হবে। জ্বালানির পাশাপাশি সরকারের ইন্টারনেট ব্যবস্থা শক্তিশালী করার পরিকল্পনা আছে। তিনি বলেন, ইন্টারনেট এবং প্রযুক্তি ছাড়া উন্নয়ন সম্ভব নয়। তাই ইন্টারনেটে ব্যবস্থা শক্তিশালী করার পরিকল্পনার কথা জানান তিনি।
প্রকল্প বাস্তবায়নে জোর দেওয়ার কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, একটা প্রকল্প উন্নয়ন কাজেই দেড় বছর যায়। এ ব্যাপারে আমরা জোর দিচ্ছি। একটি ড্যাশবোর্ড হবে যেখানে প্রকল্প বাস্তবায়নের হালনাগাদ তথ্য থাকবে।
ট্যাক্স জিডিপি রেশিওতে আমাদের সমস্যা আছে উল্লেখ করে অর্থমন্ত্রী বলেন, আমরা এনবিআরের নীতি বিভাগ এবং বাস্তবায়ন বিভাগ আলাদা করতে চাই। বাংলাদেশের বেশিরভাগ সমস্যা নীতিগত সমস্যার কারণে। আমরা নীতি বিভাগে যোগ্য লোকদের বসাতে চাই।
তিনি বলেন, আমরা কেউ ট্যাক্স দিতে চাই না। জাতি হিসেবে এটি আমাদের বিবেচনা করতে হবে। হাজার লক্ষ কোটি দোকান আছে যারা ট্যাক্স দেয় না। বাংলাদেশের মানুষ ট্যাক্স দিতে ভয় পায়। এখান থেকে বের হয়ে আসতে হবে।
রপ্তানি বহুমুখী করার বিষয় তুলে ধরে অর্থমন্ত্রী বলেন, আমরা রপ্তানি বহুমুখী করতে রপ্তানিতে অবারিত সুযোগ দেয়েছি। যে কেউ কোনো কিছু রপ্তানি করতে চায় তারা সকল সুযোগ পাবে। পণ্য রপ্তানিতে বন্ড সুবিধাসহ অন্যান্য সুবিধা আছে। যারা রপ্তানি করতে চায় তারা সকলেই বন্ড সুবিধা পাবে।
সৃজনশীল অর্থনীতির বিষয়ে উল্লেখ করে তিনি বলেন, আমরা এই শিল্পের মানুষকে মূল ধারায় যুক্ত করতে চাই। এই মানুষকে আমরা কোনোদিন মূল অর্থনীতিতে আনতে পারিন। আমরা তাদের জীবনমানের উন্নয়ন ঘটাতে চাই। পাশাপাশি এটি আমাদের ঐতিহ্য এবং সংস্কৃতির অংশ। আমরা আমাদের সংস্কৃতিকে তুলে ধরতে চাই। এতে এ খাতের মানুষের জীবনমানের উন্নতি হবে, আমাদের অর্থনীতির একটি সফট পাওয়ার হবে। আমাদের অর্থনীতিতে সফট পাওয়ার নেই। এটি আমাদের আমাদের ঐ সফট পাওয়ার হবে।
—জা. অর্থনীতি/এএইচএ
