দিনাজপুর প্রতিনিধি: দিনাজপুরের সীমান্তঘেঁষা হাকিমপুর উপজেলায় চলতি মৌসুমে অনুকূল আবহাওয়ায় আমের বাম্পার ফলন হলেও বাজারদর কম থাকায় হতাশ হয়ে পড়েছেন স্থানীয় চাষি ও বাগান মালিকেরা। এবার লক্ষ্যমাত্রা অর্জিত হলেও ন্যায্য দাম না পাওয়ায় অনেক ব্যবসায়ী লোকসানের মুখে পড়েছেন। চলতি বছর উপজেলায় ৪৭ হেক্টর জমিতে আম চাষ হয়েছে, যেখানে প্রতি হেক্টরে উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ১২.৫৬ মেট্রিক টন।
বাজার ঘুরে দেখা গেছে, হাড়িভাঙা, নাকফজলি, খিরসাপাত ও ল্যাংড়া জাতের আম মাত্র ৪০ থেকে ৫০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। জামাল নামে এক ক্রেতা জানান, তিনি ৪৫ টাকা কেজি দরে বড় আকারের সুস্বাদু নাকফজলি আম কিনেছেন। তবে চাষিদের অভিযোগ ভিন্ন। পৌরসভার গোহারা এলাকার আম চাষি নিরঞ্জন বলেন, “৬ বিঘা জমিতে আমার ৪০০ গাছ রয়েছে। ফলন ভালো হলেও দাম পাচ্ছি না। তার ওপর পাইকারদের প্রতি মণে ৫ কেজি করে ‘ঢলন’ (বাড়তি আম) দিতে হচ্ছে। আড়তেও একই অবস্থা। না দিলে ব্যাপারীরা আম কিনতে চায় না।” একই ক্ষোভ প্রকাশ করে খট্টামাধবপাড়া এলাকার বাগান ক্রেতা আব্দুর মান্নান জানান, ২ লাখ টাকা লাভের আশা করলেও বাজার মন্দা থাকায় এবার আসল টেকানোই দায়।
প্রশাসনের ‘ম্যাঙ্গো ক্যালেন্ডার ২০২৬’ অনুযায়ী, গত ১৫ মে থেকে গুটি আম পাড়ার মধ্য দিয়ে বাজারে আম নামানো শুরু হয়। এরপর পর্যায়ক্রমে ২৫ মে গোপালভোগ, ৩০ মে খিরসাপাত, ১২ জুন ল্যাংড়া এবং ১৫ জুন থেকে আম্রপালি গাছ থেকে সংগ্রহের সময় নির্ধারণ করা হয়। আগামী ২৫ জুন থেকে ফজলি ও হাড়িভাঙা এবং আগস্টের ১০ তারিখে গৌরমতি আম সংগ্রহের মধ্য দিয়ে এই মৌসুম শেষ হবে। হাকিমপুর উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অফিসার আরজেনা বেগম জানান, প্রাকৃতিক কোনো বড় দুর্যোগ না হলে শেষ পর্যন্ত চাষি ও বাগান মালিকেরা আমের এই ভালো ফলনে লোকসান কাটিয়ে উঠতে পারবেন।
—জা. অর্থনীতি/এলএটি
