আকাশ থেকে যেন ঝরছে আগুনের ফুলকি, আর বাতাস দিচ্ছে তপ্ত নিঃশ্বাস। তীব্র তাপদাহে খাঁ খাঁ করছে চারপাশ। আবহাওয়া অধিদপ্তরের পূর্বাভাস অনুযায়ী, দেশের ওপর দিয়ে বয়ে চলা এই অসহনীয় তাপপ্রবাহ সহজে কমছে না। প্রচণ্ড গরমে ঘরের ভেতরে-বাইরে কোথাও শান্তি নেই; জনজীবন পুরোপুরি বিপর্যস্ত, শরীর ক্লান্ত-শ্রান্ত আর মন ওষ্ঠাগত। একটুখানি শীতল হাওয়া আর এক ফোঁটা বৃষ্টির জন্য চাতক পাখির মতো চেয়ে আছে পুরো দেশের মানুষ। তীব্র এই গরমে ছটফট করতে থাকা মানুষগুলো যখন কোথাও কোনো ছায়া পাচ্ছে না, তখন একটুখানি স্বস্তির খোঁজে হাজির হয়েছে পরম করুণাময় রবের দুয়ারে।
ইসলামী বিশ্বাস অনুযায়ী, পৃথিবীর প্রতিটি পরিস্থিতি—তা সুখের হোক বা কষ্টের—সবই মহান আল্লাহ তাআলার পক্ষ থেকে আসে। হাদিস শরিফে গরমের এই তীব্রতাকে আল্লাহর ক্রোধের প্রকাশ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। আর এই কঠিন পরিস্থিতি থেকে বাঁচতে রাসুলুল্লাহ (সা.) উম্মতকে বেশি বেশি দান-সদকা করার পরামর্শ দিয়েছেন এবং একটি বিশেষ দোয়া শিখিয়েছেন। একজন প্রকৃত মুমিন এই চরম বিপদেও হতাশ না হয়ে আল্লাহর রহমতের দিকেই তাকিয়ে থাকেন।
তীব্র গরম, শারীরিক কষ্ট এবং আল্লাহর যেকোনো ধরনের শাস্তি ও ক্রোধ থেকে মুক্তি পেতে রাসুলুল্লাহ (সা.) এই দোয়াটি নিয়মিত পাঠ করার শিক্ষা দিয়েছেন:
اللَّهُمَّ إِنِّي أَعُوذُ بِكَ مِنْ زَوَالِ نِعْمَتِكَ وَتَحَوُّلِ عَافِيَتِكَ وَفُجَاءَةِ نِقْمَتِكَ وَجَمِيعِ سَخَطِكَ
উচ্চারণ: আল্লাহুম্মা ইন্নি আউজুবিকা মিন জাওয়ালি নিমাতিকা ওয়া তাহাউলি আফিয়াতিকা ওয়া ফুজাআতি নিকমাতিকা ওয়া জামিয়ি সাখাতিকা।
অর্থ: হে আল্লাহ! আমি আপনার কাছে আশ্রয় চাই আপনার নেয়ামত (বা অনুগ্রহ) দূর হয়ে যাওয়া থেকে, আপনার দেওয়া নিরাপত্তা ও সুস্থতা পরিবর্তন হওয়া থেকে, আপনার আকস্মিক শাস্তি থেকে এবং আপনার যাবতীয় অসন্তুষ্টি ও ক্রোধ থেকে। (সহিহ মুসলিম: ২৭৩৯)
প্রকৃতির এই রুদ্ররূপ কেবল আমাদের শারীরিক কষ্টই দেয় না, বরং মনে করিয়ে দেয় পরকালের কঠিন আজাবের কথা। তাই গরমে অতিষ্ঠ হয়ে ভাগ্যকে দোষারোপ না করে, আমাদের উচিত বেশি বেশি ইস্তিগফার করা। রবের শেখানো দোয়ার মাধ্যমে তাঁরই দরবারে প্রশান্তি ও রহমতের বৃষ্টি প্রার্থনা করা। আল্লাহ তাআলা আমাদের এই তীব্র তাপদাহ থেকে রক্ষা করুন এবং যাপিত জীবনে স্বস্তি ও শীতলতা দান করুন। আমিন।
জা. অর্থনীতি/ উমার
