স্টাইলিশ ভেপিং কি আসলেই নিরাপদ?
ছবি: সংগৃহীত

হাতে একটা ছোট ডিভাইস, মুখ দিয়ে বের হচ্ছে ঘন ধোঁয়া আর স্ট্রবেরি বা চকলেটের মিষ্টি সুবাস—বর্তমান তরুণ প্রজন্মের কাছে ‘ই-সিগারেট’ বা ‘ভেপিং’ এখন এক ট্রেন্ডি ফ্যাশন। কোম্পানিগুলো প্রচার করছে, এটা নাকি সাধারণ সিগারেটের চেয়ে নিরাপদ। কিন্তু জানেন কি, এই আকর্ষণীয় মোড়কের আড়ালে লুকিয়ে আছে নিকোটিন আসক্তির এক ভয়ঙ্কর ফাঁদ? সম্প্রতি গবেষণা প্রতিষ্ঠান ‘প্রজ্ঞা’ উদ্বেগ প্রকাশ করে জানিয়েছে, নতুন আইনে এই ই-সিগারেট নিষিদ্ধের বিধান বাদ পড়ায় দেশের তরুণ সমাজ চরম ঝুঁকির মুখে। আইন আর বিজ্ঞানের এই টানাপোড়েনের মাঝে আমাদের পবিত্র ধর্ম ইসলাম এই আধুনিক আসক্তি নিয়ে কী বলে? চলুন জেনে নিই এর একটি যুগোপযোগী ও ইসলামিক সমাধান।

বাংলাদেশে বর্তমানে প্রায় ৩.৭৮ কোটি মানুষ তামাক ব্যবহার করে। প্রতি বছর প্রাণ হারায় প্রায় ২ লাখ মানুষ। অথচ, তামাক কোম্পানিগুলো শিশু-কিশোরদের টার্গেট করে ই-সিগারেট বা নিকোটিন পাউচকে ‘কম ক্ষতিকর’ বলে বাজারজাত করছে, যা সম্পূর্ণ মিথ্যা। তামাকজনিত স্বাস্থ্য ক্ষতিতে প্রতি বছর সরকারের ক্ষতি হচ্ছে প্রায় ৮৭ হাজার কোটি টাকা, যা এই খাত থেকে আসা রাজস্বের দ্বিগুণেরও বেশি!

ধূমপান, জর্দা কিংবা আধুনিক ভেপিং—সবই বিষ। পবিত্র কুরআনে সুরা আল-বাকারার ১৯৫ আয়াতে আল্লাহ তায়ালা স্পষ্ট বলেছেন, “নিজের জীবনকে ধ্বংসের সম্মুখীন করো না।”। রাসুলুল্লাহ (সা.) সুনানে ইবনে মাজাহ-র হাদিসে পরিষ্কার নির্দেশ দিয়েছেন, “ক্ষতি করাও যাবে না, ক্ষতি সহাও যাবে না।” যেহেতু বিজ্ঞান প্রমাণ করেছে যে ই-সিগারেট ও তামাক ক্যানসারের মতো প্রাণঘাতী রোগ তৈরি করে, তাই আধুনিক যুগের শীর্ষ ইসলামিক স্কলাররা একে সরাসরি ‘হারাম’ ফতোয়া দিয়েছেন।

ফ্যাশনের নামে ভেপিং বা ধূমপানে টাকা ওড়ানো স্পষ্ট অপব্যয়। কুরআনুল কারিমের সুরা বনী-ইসরাঈলের ২৭ আয়াতে বলা হয়েছে, “নিশ্চয় অপব্যয়কারীরা শয়তানের ভাই।”। যে টাকা দিয়ে একজন ক্ষুধার্তের অন্ন সংস্থান করা যেত, তা ধোঁয়া বানিয়ে উড়িয়ে দেওয়া কোনো মুমিনের কাজ হতে পারে না।

এই ফাঁদ থেকে তরুণদের বাঁচাতে প্রজ্ঞার দাবি—আসন্ন বাজেটে সব ধরনের তামাকপণ্যের দাম তরুণদের ক্রয়ক্ষমতার বাইরে নিয়ে যেতে হবে। আর ব্যক্তিগত স্তরে সমাধান হলো ‘দৃঢ় সংকল্প’। ফ্যাশনের মোহে নিজের ফুসফুস ও ইমানকে ধ্বংস করবেন না। আজই এই ক্ষতিকর অভ্যাস ত্যাগের সিদ্ধান্ত নিন, আল্লাহর ওপর ভরসা রাখুন। কারণ, একটি সুস্থ তরুণ প্রজন্মই পারে একটি সুন্দর ও তামাকমুক্ত সমাজ গড়তে।

জা.অর্থনীতি/ উমার