নিজস্ব প্রতিবেদক: ঈদযাত্রা সামনে রেখে ট্রেন চলাচল স্বাভাবিক ও নিয়ন্ত্রণে রয়েছে বলে জানিয়েছেন রেলপথ মন্ত্রী শেখ রবিউল আলম। তিনি বলেন, সামান্য কিছু বিলম্ব ছাড়া সার্বিকভাবে ট্রেন চলাচল ‘স্মুথলি’ চলছে।
রোববার (২৪ মে) ঢাকা রেলওয়ে স্টেশনে ঈদযাত্রার ব্যবস্থাপনা পরিদর্শনে গিয়ে সাংবাদিকদের তিনি এসব কথা বলেন।
রেলমন্ত্রী জানান, সকাল থেকে তিনটি ট্রেন কিছুটা বিলম্বিত হয়েছে। এর মধ্যে একটি ট্রেনের চাকা (হুইল) স্লিপ করার কারণে দেরি হয়।
তিনি বলেন, “অনাকাঙ্ক্ষিতভাবে রেললাইনের ওপর প্রচুর খড় ও ধানের অবশিষ্টাংশ শুকানোর জন্য ছড়িয়ে রাখা হয়েছিল। এর ফলে ট্রেনের হুইল স্লিপ করে। পরে রিলিফ ট্রেন পাঠিয়ে সেটিকে উদ্ধার করা হয়েছে। এ কারণে দুটি বা তিনটি ট্রেন বিলম্বিত হয়েছে। একটি প্রায় ২০ মিনিট, একটি এক ঘণ্টা এবং আরেকটি সম্ভবত দুই ঘণ্টা দেরি হতে পারে। তবে বাকি ট্রেন চলাচল স্বাভাবিক রয়েছে।”
মন্ত্রী বলেন, দেশের ট্রেনের সংখ্যা এখনো যাত্রী চাহিদার তুলনায় পর্যাপ্ত নয়। বর্তমানে আন্তনগর ট্রেনে প্রতিদিন প্রায় ৩২ হাজার যাত্রীকে যাতায়াতের সুযোগ দেওয়া সম্ভব হচ্ছে। ঈদ উপলক্ষে অতিরিক্ত ২৫ শতাংশ আসন বাড়িয়ে আরও প্রায় ৪ হাজার যাত্রীর ভ্রমণের ব্যবস্থা করা হয়েছে।
তিনি বলেন, “লাখ লাখ মানুষের ট্রেনে ভ্রমণের আগ্রহ রয়েছে। কিন্তু সেই তুলনায় ট্রেন, রেললাইন, লোকোমোটিভ ও কোচের সংখ্যা বাড়ানো সম্ভব হয়নি। এটি বাস্তবতা।”
রেলপথের নিরাপত্তা প্রসঙ্গে শেখ রবিউল আলম বলেন, দুর্ঘটনা বা লাইনচ্যুতির ঝুঁকিপূর্ণ স্থানগুলো চিহ্নিত করে ঈদের আগে বিশেষ ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে এবং তা এখনও চলমান রয়েছে।
তার ভাষায়, “সবসময় আমরা সতর্ক আছি। বর্তমান পরিস্থিতিতে বড় কোনো বিপর্যয় হবে না বলে আশা করছি। রেলওয়ের ব্যবস্থাপনায় সর্বোচ্চ মনোযোগ দেওয়া হয়েছে।”
মন্ত্রী আরও বলেন, রেললাইন ও স্টেশন নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কিছু বাস্তব চ্যালেঞ্জ রয়েছে। অনেক জায়গায় রেললাইনের ওপর খড় শুকাতে দেওয়া হয়, যা সরাতে গেলে রেলকর্মীরা স্থানীয়দের ক্ষোভের মুখেও পড়েন। এছাড়া অনেক স্টেশন এখনো পুরোপুরি নিয়ন্ত্রিত বা সুরক্ষিত করা সম্ভব হয়নি।
তিনি বলেন, “যে ব্যবস্থাপনা রয়েছে, সেটি নিয়েই আমরা সর্বোচ্চ চেষ্টা করছি। পরিবেশ ও সেবার মান আগের তুলনায় উন্নত হয়েছে। যাত্রীরাও জানিয়েছেন, আগে যে জরাজীর্ণ অবস্থা ছিল, এখন তার চেয়ে সার্ভিস, পরিবেশ ও সময়সূচি অনেক ভালো।”
টিকিট বিক্রি প্রসঙ্গে মন্ত্রী বলেন, অনলাইনভিত্তিক টিকিট ব্যবস্থায় অনিয়ম বা সিন্ডিকেটের সুযোগ কমেছে এবং আগে আবেদনকারীরা টিকিট পাওয়ার সুযোগ পাচ্ছেন।
এ সময় রেলপথ প্রতিমন্ত্রী হাবিবুর রশিদ হাবিব, রেলপথ মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. ফাহিমুল ইসলাম, বাংলাদেশ রেলওয়ের মহাপরিচালক মো. আফজাল হোসেনসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
—জা. অর্থনীতি/আরএস
