জামালপুরে অটোরিকশা চালক জুয়েল শেখ হত্যা মামলার ৪ আসামি গ্রেপ্তার

জামালপুর প্রতিনিধি: জামালপুরের ইসলামপুরে অটোরিকশা চালক জুয়েল শেখ হত্যা মামলার রহস্য উদঘাটন এবং চাঞ্চল্যকর এই হত্যাকান্ডের সাথে জড়িত চারজনকে আটক করেছে পুলিশ। একই সময় উদ্ধার করা হয়েছে অটোরিকশাটি।

মামলা সূত্রে জানা গেছে, মেলান্দহ উপজেলার পূর্ব শ্যামপুর গ্রামের অটোরিকশা চালক জুয়েল শেখ ২০২৬ সালের ৬ এপ্রিল ভোরে অটোরিকশা নিয়ে যাত্রী পরিবহনের উদ্দেশ্যে বাড়ি থেকে বের হবার পর নিখোঁজ হন। পরদিন  সকালে ইসলামপুর উপজেলার পশ্চিম শংকরপুর এলাকার একটি ভুট্টা ক্ষেত থেকে  পলিথিন ও স্কচটেপ দ্বারা মোড়ানো অবস্থায় তার বস্তাবন্দি মরদেহ উদ্ধার করা হয়। চাঞ্চল্যকর এ ঘটনায় ইসলামপুর থানায় হত্যা মামলা দায়ের করা হয়। 

জেলা পুলিশ প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে জানায়, মামলা দায়েরের পর পুলিশ সুপারের সার্বিক দিক নির্দেশনায় ইসলামপুর সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মোঃ ইমরুল হাসানের নেতৃত্বে ইসলামপুর থানা পুলিশের একটি আভিযানিক দল মাঠে নামে। এ সময় তারা প্রথমে মেলান্দহের কাজীরপাড়ার বাদশা শেখের পুত্র সুজনকে গ্রেপ্তারের পর রিমান্ডে নেয়। রিমান্ডে থাকা আসামী সুজনের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে পুলিশ ৬ এপ্রিল শেরপুরের ঝিনাইগাতী এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে আরও ৩ জনকে গ্রেপ্তার করে। গ্রেপ্তারকৃত আসামীরা হলেন, শেরপুরের ঝিনাইগাতীর বন্ধভাটপাড়ার মৃত ইসমাইল হোসেনের পুত্র মোঃ সাইদুল ইসলাম, গরুচরণ দুধনই গ্রামের জয়নাল আবেদীনের পুত্র 

আসমত আলী এবং পূর্ব বাকাকুড়া গ্রামের হায়দর আলীর পুত্র মো. খুরুম।

এসময় আসামীদের তথ্যানুযায়ী হত্যাকাণ্ডে লুট হওয়া নিহতের অটোরিকশাটি ঝিনাইগাতীর বাকাকুড়া এলাকা থেকে উদ্ধার করা হয়।

পুলিশ জানায়, আসামীরা পূর্ব পরিকল্পিতভাবে জুয়েল শেখকে হত্যা করে তার ব্যবহৃত অটোরিকশা ও মোবাইল ফোন লুট করে এবং লাশ গুমের উদ্দেশ্যে ভুট্টা ক্ষেতে ফেলে রাখে।

গ্রেপ্তারকৃত আসামীর মধ্যে আসমত আলী আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি প্রদান করে জানায়, সে চুরি করা অটোরিকশা ক্রয়- বিক্রয় করে। 

গ্রেপ্তারকৃত আসামীদের ৭ এপ্রিল আদালতে প্রেরণ করা হয়েছে এবং মামলার তদন্ত কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে।

 —জা. অর্থনীতি/আরএস