এবার রাজনীতি ছাড়ছেন নির্মাতা রাজ চক্রবর্তী

বিনোদন ডেস্ক: ভারতের বিভিন্ন রাজ্যে অনুষ্ঠিত বিধানসভা নির্বাচনের ফলাফলের পর রাজনীতি নয়, অভিনয়েই বেশি মন দিতে চান বলে জানান টালিউড সুপারস্টার দেব। পশ্চিমবঙ্গে গেরুয়া ঝড়ে ধরাশায়ী হওয়ার পর এবার রাজনীতি ছাড়ান ঘোষণা দিয়েছেন তৃণমূল কংগ্রেসের রাজ চক্রবর্তী। তিনিও হাঁটছেন দেবের পথে। বৃহস্পতিবার (৭ মে) সামাজিক মাধ্যমে তিনি এই সিদ্ধান্তের কথা জানান। ভারতীয় সংবাদমাধ্যম আনন্দবাজার জানিয়েছে, ২০২১ সালে রাজনীতিতে যোগ দিয়ে ব্যারাকপুরে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের তৃণমূলের হয়ে ভোটে দাঁড়িয়েছিলেন এই পরিচালক। সেবার জিতে পাঁচ বছর বিধায়ক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন তিনি। 

রাজ্য সরকারের একাধিক প্রকল্পের প্রচারেও সক্রিয় ছিলেন রাজ। কিছুদিন আগে ‘লক্ষ্মীর ভাণ্ডার’ তথ্যচিত্রের পরিচালনাও করেছিলেন তিনি। তবে, রাজের এমন সিদ্ধান্ত নিয়ে টলিউডের ভেতরে-বাইরে শুরু হয়েছে তীব্র আলোচনা-সমালোচনা। বিশেষ করে পরিচালক ও নাট্যব্যক্তিত্ব সৌরভ পালোধি নাম না করে রাজকে উদ্দেশে কড়া সমালোচনা করেছেন। 

দীর্ঘ ১৫ বছর পর এবারের নির্বাচনে তৃণমূল কংগ্রেসের পরাজয় এবং বিজেপির জয়ের পর রাজ্য রাজনীতিতে বড় ধরনের পরিবর্তন আসে। বারাকপুর আসন থেকে পরাজিত হওয়ার পরপরই সক্রিয় রাজনীতি থেকে বিদায় নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন রাজ চক্রবর্তী। তার এই সিদ্ধান্তকে ইঙ্গিত করে সৌরভ পালোধি সামাজিক মাধ্যমে লিখেছেন, ‘হেরে গেলে কি রাজনৈতিক জীবন শেষ হয়ে যায়? এদেরকে কি মৌলিক রাজনৈতিক শিক্ষার কোনো বই উপহার দেওয়া যায় না?’ 

সৌরভ পালোধির এই মন্তব্য রাজ চক্রবর্তীর ‘পরাজয় মেনে নিতে না পারা’র দিকেই ইঙ্গিত বলে মনে করছেন নেটিজেনরা। টলিউড পাড়ায় বামপন্থী আদর্শের অনুসারী হিসেবে পরিচিত সৌরভ নিজের অবস্থান পরিষ্কার করে জানিয়েছেন, জয় বা পরাজয় যা-ই হোক না কেন, তিনি তার রাজনৈতিক আদর্শেই অবিচল থাকবেন। তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, রাজনীতি কেবল ক্ষমতায় থাকার বিষয় নয়, বরং রাজপথে লড়াই চালিয়ে যাওয়ার নাম। 

উল্লেখ্য, ২০২১ সালের নির্বাচনে জয়ী হয়ে বিধায়ক হিসেবে দায়িত্ব পালন করলেও ২০২৬-এর নির্বাচনে হেরে যাওয়ার ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই রাজনীতি ছাড়ার ঘোষণা দিলেন রাজ। টলিউডের এই হেভিওয়েট নির্মাতার রাজনীতি থেকে হঠাৎ এমন প্রস্থানে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে সংশ্লিষ্ট মহলে। তবে, রাজের পক্ষ থেকে সৌরভের এই সমালোচনার বিষয়ে এখন পর্যন্ত কোনো পাল্টা মন্তব্য পাওয়া যায়নি। 

—জা. অর্থনীতি/এনএ