ক্রীড়া ডেস্ক: মিরপুর শেরেবাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে সাকিব আল হাসানকে নিয়ে চলমান আলোচনার পরিপ্রেক্ষিতে নতুন দৃষ্টিভঙ্গি তুলে ধরেছেন বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) সভাপতি তামিম ইকবাল। তিনি উল্লেখ করেন যে, গত দেড়-দুই বছর ধরে কেবল একজন নির্দিষ্ট ক্রিকেটারকে (সাকিব) কেন্দ্র করে সব প্রশ্ন ও আলোচনা আবর্তিত হচ্ছে। তবে বাস্তব চিত্র হলো, সাকিবের মতোই একই ধরনের পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যাচ্ছেন আরও দুই সাবেক অধিনায়ক মাশরাফি বিন মর্তুজা এবং নাইমুর রহমান দুর্জয়। তামিমের মতে, এই তিন ক্রিকেটারের বিষয়টি আলাদা করে না দেখে সামগ্রিকভাবে বিবেচনা করা প্রয়োজন।
তামিম ইকবাল সাংবাদিকদের প্রতি বিশেষ অনুরোধ জানিয়ে বলেন, উদ্ভূত পরিস্থিতিতে এই তিন তারকা ক্রিকেটারই বর্তমানে সমান সংকটের সম্মুখীন। অথচ আলোচনায় বারবার শুধু সাকিবের নাম উঠে আসায় বিষয়টি একপাক্ষিক হয়ে যাচ্ছে। বিসিবি সভাপতি সাংবাদিকদের বলেন, যখনই এই পরিস্থিতি নিয়ে প্রশ্ন করা হবে, তখন যেন সাকিবের নামের পাশাপাশি মাশরাফি ও দুর্জয়ের নামও উল্লেখ করা হয়। তিনি মনে করেন, তাঁদের প্রত্যেকের অবদানই দেশের ক্রিকেটের জন্য গুরুত্বপূর্ণ এবং তাঁদের বর্তমান অবস্থাও একই সূত্রে গাঁথা।
সাকিব, মাশরাফি কিংবা দুর্জয়ের ক্রিকেটে ফেরা বা তাঁদের বর্তমান সমস্যা নিরসনে বিসিবির অবস্থানও পরিষ্কার করেছেন বোর্ড প্রধান। তামিম জানান, ক্রিকেট সংশ্লিষ্ট বা টেকনিক্যাল যেসব বিষয়ে বোর্ডের সাহায্য করার সুযোগ রয়েছে, সেখানে বিসিবি সবসময় তাঁদের পাশে থাকবে। তবে তাঁদের ব্যক্তিগত বা রাজনৈতিক কারণে তৈরি হওয়া আইনি সমস্যাগুলো নিজেদেরই সমাধান করে আসতে হবে। তামিম জোর দিয়ে বলেন, যদি তাঁরা যথাযথ প্রক্রিয়া অনুসরণ করে সমস্যাগুলো মিটিয়ে ফিরে আসেন, তবে বিসিবি তাঁদের ‘উন্মুক্ত বাহুতে’ স্বাগত জানাতে প্রস্তুত রয়েছে।
এই সংকট নিরসনে সরকারের উচ্চ পর্যায়ের মনোভাবও ইতিবাচক বলে ইঙ্গিত দিয়েছেন তামিম ইকবাল। তিনি যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রীর বরাত দিয়ে জানান যে, মন্ত্রণালয় থেকেও এ বিষয়ে নমনীয় বা সহনশীল মনোভাব দেখানোর কথা বলা হয়েছে। সরকারের এই ইতিবাচক সংকেত সাবেক এই অধিনায়কদের জন্য স্বস্তির বার্তা হতে পারে। বিসিবি প্রধানের বক্তব্যে এটি স্পষ্ট যে, প্রশাসনিক স্তরে সমাধানের দরজা সবার জন্যই খোলা রাখা হয়েছে, তবে সেই পথে হাঁটার প্রাথমিক উদ্যোগ সংশ্লিষ্ট খেলোয়াড়দেরই নিতে হবে।
উল্লেখ্য, অন্তর্বর্তী সরকারের সময় থেকে সাকিব আল হাসানের দেশে ফেরা এবং ক্রিকেটে নিয়মিত হওয়া নিয়ে দীর্ঘ সময় ধরে নানা গুঞ্জন ও অনিশ্চয়তা চলছে। বর্তমানে তামিম ইকবালের এই নতুন বক্তব্য বিষয়টিকে আরও বিস্তৃত করেছে, যেখানে মাশরাফি ও দুর্জয়ের বর্তমান পরিস্থিতিকেও সামনে আনা হয়েছে। বোর্ড প্রধানের এই অবস্থান থেকে বোঝা যায়, বিসিবি কেবল একজন নয় বরং জাতীয় দলের সকল সাবেক গুরুত্বপূর্ণ সদস্যের সমস্যা সমাধানে ভারসাম্যপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে আগ্রহী। এখন দেখার বিষয়, সংশ্লিষ্ট খেলোয়াড়রা তাঁদের ব্যক্তিগত জটিলতা কাটিয়ে পুনরায় ক্রিকেটে কত দ্রুত ফিরতে পারেন।
জেএ/অভি