আন্তর্জাতিক ডেস্ক: পশ্চিমবঙ্গের বিধানসভা নির্বাচনের বুথফেরত জরিপের পূর্বাভাস সরাসরি প্রত্যাখ্যান করেছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি দৃঢ়তার সাথে দাবি করেছেন যে, তাঁর দল তৃণমূল কংগ্রেস আবারও বিপুল জনসমর্থন নিয়ে রাজ্যে ‘মা, মাটি, মানুষের সরকার’ গঠন করবে। বৃহস্পতিবার একাধিক সংস্থার সমীক্ষায় তৃণমূল ও প্রধান বিরোধী দল বিজেপির মধ্যে হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ের ইঙ্গিত দেওয়ার পর এক ভিডিও বার্তায় তিনি এই প্রতিক্রিয়া জানান। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় মনে করেন, সাধারণ মানুষের রায় শেষ পর্যন্ত তাঁর দলের পক্ষেই যাবে।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে পোস্ট করা ওই ভিডিও বার্তায় মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় তাঁর সরকারের ওপর পূর্ণ আস্থা প্রকাশ করে বলেন, তৃণমূল এবার ২২৬টিরও বেশি আসনে জয়ী হয়ে নতুন রেকর্ড গড়বে। উল্লেখ্য যে, গত নির্বাচনে তাঁর দল ২১৫টি আসনে জয়লাভ করেছিল, যা এবার ছাপিয়ে যাওয়ার লক্ষ্য নিচ্ছেন তিনি। পশ্চিমবঙ্গের ২৯৪টি আসনে গত ২৩ ও ২৯ এপ্রিল দুই দফায় ভোটগ্রহণ সম্পন্ন হয়েছে, যেখানে ৯০ শতাংশের বেশি রেকর্ড সংখ্যক ভোটার উপস্থিত হয়ে তাঁদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করেছেন।
অন্যদিকে, বিজেপিও পশ্চিমবঙ্গে ঐতিহাসিক জয়ের ব্যাপারে জোরালো দাবি তুলেছে। কর্ণাটক বিজেপির সভাপতি বি ওয়াই বিজয়েন্দ্র বৃহস্পতিবার জানান, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের বলিষ্ঠ নেতৃত্বে এবং তৃণমূল পর্যায়ের কর্মীদের কঠোর পরিশ্রমে এবার রাজ্যে প্রথমবারের মতো ভারতীয় জনতা পার্টি ক্ষমতায় আসতে যাচ্ছে। তিনি আরও বলেন, কেবল পশ্চিমবঙ্গেই নয় বরং তামিলনাড়ুসহ অন্যান্য রাজ্যেও বিজেপি নেতৃত্বাধীন এনডিএ জোট অভাবনীয় ফলাফল অর্জন করবে।
বুধবার প্রকাশিত বিভিন্ন বুথফেরত জরিপে মূলত বিভক্ত ফলাফলের ইঙ্গিত পাওয়া গেছে। পি-মার্ক তাদের জরিপে বিজেপিকে ১৫০ থেকে ১৭৫টি আসনে এগিয়ে রেখেছে, যেখানে তৃণমূলের জন্য ১১৮ থেকে ১৩৮টি আসনের সম্ভাবনা দেখিয়েছে। ম্যাট্রিজ এবং চাণক্য স্ট্র্যাটেজিসের মতো সংস্থাগুলোও বিজেপিকে সংখ্যাগরিষ্ঠতার কাছাকাছি অবস্থান দিচ্ছে। তবে এর ঠিক বিপরীতে ‘পিপলস পালস’ তৃণমূলের জন্য একচেটিয়া জয়ের পূর্বাভাস দিয়ে জানিয়েছে যে, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের দল ১৭৮ থেকে ১৮৭টি আসন পেতে পারে এবং বিজেপি ৯৫ থেকে ১১০টি আসনে সীমাবদ্ধ থাকবে।
অধিকাংশ সমীক্ষার গড় অনুযায়ী ২৯৪ আসনের বিধানসভায় বিজেপি ও তৃণমূল উভয়েই ১৪৫টি করে আসন পেতে পারে বলে একটি সমান্তরাল চিত্র উঠে এসেছে। তবে বুথফেরত জরিপ সবসময় চূড়ান্ত ফলাফলের সাথে না-ও মিলতে পারে, তাই রাজনৈতিক দলগুলো এখন ৪ মে-র আনুষ্ঠানিক ফল ঘোষণার দিকে তাকিয়ে আছে। বিপুল ভোটার উপস্থিতি এবং রাজনৈতিক মেরুকরণের এই আবহে পশ্চিমবঙ্গের ক্ষমতার মসনদ শেষ পর্যন্ত কার দখলে থাকে, তা নিয়ে দেশজুড়ে চরম কৌতূহল বিরাজ করছে।
জেএ/অভি