Print Date & Time : 20 October 2026 Tuesday 10:15 pm

‘বাস চালাচ্ছিলেন সুপারভাইজার, সিটে ঘুমাচ্ছিলেন চালক’

image

নাটোর প্রতিনিধি: নাটোরে দুর্ঘটনাকবলিত আরপি পরিবহনের বাসটি চালাচ্ছিলেন সুপারভাইজার সোহেল রানা। এ সময় পেছনের সিটে ঘুমাচ্ছিলেন চালক ও সহকারী। এ তথ্য জানিয়েছেন বাসের ৩ জন যাত্রী।

নিহত সোহেল রানার (৩৮) বাড়ি রাজশাহীর গোদাগাড়ি উপজেলার ফরাদপুর গ্রামে। তার স্ত্রী ও দুই ছেলে–মেয়ে।

তার পরিবারের সদস্যরা জানান, সোহেল রানা আগে বাসচালক ছিলেন। বছর দুয়েক আগে তিনি বাসের সুপারভাইজার হিসেবে কাজ শুরু করেন।

মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) ভোর ৪টার দিকে নাটোরের বড়াইগ্রাম উপজেলার বনপাড়ায় নাটোর-পাবনা মহাসড়কে আরপি স্পেশাল পরিবহনের একটি বাসের সঙ্গে বালুবোঝাই একটি ট্রাকের সংঘর্ষে ১৪ জন নিহত হন। আহত হন অন্তত ৩২ জন।

দুর্ঘটনায় আহত বাসযাত্রী চাঁপাইনবাবগঞ্জের গোমস্তাপুর উপজেলার রমজান আলী (২৮) বনপাড়া পাটোয়ারী হাসপাতালে চিকিৎসা নেন। তিনি গণমাধ্যমকে বলেন, আমি বাসের চালকের সিটের দুই সিট পেছনে বসে ছিলাম। বাসটি রাত আনুমানিক ৩টার দিকে পাবনার ঈশ্বরদীতে পৌঁছালে চালকের আসন থেকে চালক উঠে যান এবং সুপারভাইজার বাস চালাতে শুরু করেন। বাসের দরজা বন্ধ করে চালক ও তার সহকারী পেছনের সিটে ঘুমাতে যান। এর ঘণ্টা খানেক পর বাসটি বনপাড়ায় পৌঁছালে বিপরীত দিক থেকে আসা একটি ট্রাকের সঙ্গে মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। 

নাটোরে নিহতদের মধ্যে ১২ জনের পরিচয় শনাক্ত

আহত হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আরও দুই যাত্রী ইয়াকুব আলী ও আব্দুস সালাম জানান, দুর্ঘটনার সময় বাসের সুপারভাইজার বাসটি চালাচ্ছিলেন। চালক ও হেলপার (চালকের সহকারী) পেছনের সিটে বসে ছিলেন। বাসটি বরগুনা জেলা শহর থেকে ছেড়ে আসে সোমবার সন্ধ্যা ৭টার দিকে। ঈশ্বরদীতে কিছু সময় বিরতি দিয়ে আবার বাসটি চালু হওয়ার সময় চালকের আসনে বসেন বাসটির সুপারভাইজার। এর কিছু সময় পর দুর্ঘটনা ঘটে।

তবে বনপাড়া হাইওয়ে থানার উপরিদর্শক (এসআই) আলমগীর হোসেন বলেন, দুর্ঘটনার বিষয়টি তদন্ত করা হবে। তদন্ত না করে এ ব্যাপারে নিশ্চিত কিছু বলা যাচ্ছে না।

—জা. অর্থনীতি/এনজে