Print Date & Time : 25 October 2026 Sunday 09:00 am

শেখ হাসিনার পতনের পেছনে ছিল প্রভাবশালী ৪ জন

image

অনলাইন ডেস্ক: শেখ হাসিনার ক্ষমতাচ্যুতি ও দেশত্যাগের জন্য দায়ী ৪ জনের একটি প্রভাবশালী চক্র। ওই ৪ জন শেখ হাসিনাকে দেশের বাস্তব পরিস্থিতি থেকে বিচ্ছিন্ন করে রেখেছিলেন। এমন দাবি করেছেন আওয়ামী লীগের এক নেতা।

ভারতীয় সংবাদমাধ্যম দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস-এ ২০২৪ সালে প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে এসেছে।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, আওয়ামী লীগের একাধিক নেতা মনে করেন, শেখ হাসিনা দেশ ছেড়ে চলে যাওয়ায় তারা চরম অনিশ্চয়তার মধ্যে পড়েছেন। বিক্ষুব্ধ জনতার হামলার লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হয়েছে তাদের বাড়িঘর ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান।

আওয়ামী লীগের এক নেতা বলেন, ৫ আগস্ট বিকেল ৩টার দিকে সেনাপ্রধান যখন জাতির উদ্দেশে ভাষণ দিচ্ছিলেন এবং মানুষ টেলিভিশনে সেই বক্তব্য দেখছিল, তখনই তারা বাড়ি থেকে বের হওয়ার সুযোগ পান।

সাবেক সরকারের এক মন্ত্রী নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, ধরা পড়লে পরিবারসহ আমাকে জীবন্ত পুড়িয়ে মারা হতো।

আরও পড়ুন: ৫ আগস্ট, রাজনৈতিক ইতিহাসে এক নতুন ভোরের সূচনা

প্রতিবেদনটিতে বলা হয়, জুলাই মাসে শিক্ষার্থীসহ আন্দোলনকারীদের ওপর গুলি চালানোর ঘটনায় আওয়ামী লীগের কিছু নেতা পরে অনুশোচনায় ভুগেছিলেন। এমনকি ৩ ও ৪ আগস্ট দেশজুড়ে সাধারণ মানুষ রাস্তায় নামলে তাদের কেউ কেউ সেই আন্দোলনেও অংশ নেন।

এক নেতা অভিযোগ করেন, শেখ হাসিনা ধীরে ধীরে দলের নেতাদের মতামত শোনা বন্ধ করে দিয়েছিলেন। এর জন্য দলের অভ্যন্তরের ‘গ্যাং অব ফোর’ নামে পরিচিত একটি প্রভাবশালী চক্রকে দায়ী করেন তিনি।

ওই চক্রে ছিলেন- শেখ হাসিনার ছেলে প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও যোগাযোগপ্রযুক্তি বিষয়ক উপদেষ্টা সজীব ওয়াজেদ জয়, বেসরকারি শিল্প ও বিনিয়োগবিষয়ক উপদেষ্টা সালমান এফ রহমান, আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের এবং তৎকালীন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান।

ওই নেতার দাবি, এই “গ্যাং অব ফোর” শেখ হাসিনাকে পতনের দিকে ঠেলে দিয়েছে। তাদের ওপর তার অন্ধ বিশ্বাস তৈরি হয়েছিল। এতে অতীতে যে রাজনৈতিক প্রজ্ঞা ছিল, সেটিও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

আরও পড়ুন: ‘আওয়ামী লীগ জনরোষের মুখে অন্তত দুইবার ক্ষমতাচ্যুত হয়েছে’

দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেসের প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, জাতীয় নির্বাচনে বিএনপিকে অংশগ্রহণের সুযোগ না দেওয়াকে আওয়ামী লীগের কয়েকজন নেতা শেখ হাসিনার অন্যতম বড় রাজনৈতিক ভুল হিসেবে মনে করেন।

সূত্রের বরাতে সংবাদমাধ্যমটি জানায়, লন্ডনে অবস্থানরত বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের সঙ্গে যোগাযোগের উদ্যোগ নিয়েছিলেন আওয়ামী লীগের কয়েকজন নেতা। তবে ২০২৩ সালের জানুয়ারিতে, অর্থাৎ নির্বাচনের প্রায় এক বছর আগে তারেক রহমানের সঙ্গে আলোচনার সেই প্রস্তাবে শেখ হাসিনা সাড়া দেননি।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক আওয়ামী লীগের কয়েকজন নেতা বলেন, দুর্নীতি, চাঁদাবাজি এবং পুলিশের নৃশংস আচরণের কারণে মানুষের মধ্যে যে ক্ষোভ তৈরি হয়েছিল, তা আমরা বুঝতে পেরেছিলাম। বিএনপি নির্বাচনে অংশ নিলে সেই ক্ষোভ অনেকটাই প্রশমিত হতে পারত। এরপরও আমরা নির্বাচনে জয়ী হতে পারতাম এবং দল ক্ষমতায় থাকত।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, আওয়ামী লীগের কয়েকজন নেতা শেখ হাসিনার সঙ্গে ছাত্র আন্দোলনের নেতাদের বৈঠকের উদ্যোগ নিয়েছিলেন। কিন্তু সেই চেষ্টা সফল হয়নি। পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে ওঠে যখন গোয়েন্দা পুলিশ ছাত্রনেতাদের আটক করে এবং আন্দোলন প্রত্যাহারের প্রতিশ্রুতি নিয়ে তাদের ছেড়ে দেয়।

আরও পড়ুন: ‘মার্চ টু ঢাকা’ কেন একদিন এগিয়ে আনা হয়েছিল?

ওই কৌশল উল্টো ফল দেয়। মুক্তি পাওয়ার পর ছাত্রনেতারা প্রকাশ্যে জানান, কীভাবে তাদের ওপর আন্দোলন প্রত্যাহারের চাপ দেওয়া হয়েছিল। এরপর একের পর এক ঘটনার মধ্য দিয়ে পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে পৌঁছে যে শেষ পর্যন্ত শেখ হাসিনাকে দেশ ছাড়তে হয়।

দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস-এর সঙ্গে কথা বলা আওয়ামী লীগের নেতারা মনে করেন, ৭৫ বছর আগে প্রতিষ্ঠিত দলটি বাংলাদেশের স্বাধীনতা সংগ্রামে নেতৃত্ব দিয়েছে এবং বর্তমান সংকট কাটিয়েও একসময় ঘুরে দাঁড়াতে সক্ষম হবে।

দলের এক নেতার মতে, হয়তো এতে দীর্ঘ সময় লাগবে। মানুষ এখনো ক্ষুব্ধ। তাদের সময় দিতে হবে।

—জা.অর্থনীতি/এনজে