এক রাতেই বাতিল ৮৬ শতাংশ মূদ্রা, তারপর কী হয়েছিল? (ভিডিও)
ছবি: জাতীয় অর্থনীতি

জাতীয় অর্থনীতি ডেস্ক: ২০১৬ সালের ৮ নভেম্বর। রাত তখন আটটা। ভারতের টেলিভিশনে হাজির হলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। তার ঘোষণায় বদলে গেল দেশের অর্থনৈতিক বাস্তবতা। জানানো হলো, রাত ১২টার পর থেকে ৫০০ ও ১ হাজার রুপির পুরোনো নোট আর বৈধ মুদ্রা হিসেবে চলবে না। ভারতের প্রচলিত নগদ টাকার মূল্যের প্রায় ৮৬ শতাংশই ছিল এই দুই নোট। ফলে এক ঘোষণায় বিপুল পরিমাণ নগদ অর্থের স্বাভাবিক ব্যবহার থেমে গেল।

সরকার এই সিদ্ধান্তের নাম দিল নোটবন্দি বা ডিমনিটাইজেশন। লক্ষ্য ছিল কালো টাকা, জাল নোট, দুর্নীতি এবং সন্ত্রাসে অর্থায়ন দমন। পাশাপাশি নগদনির্ভর অর্থনীতিকে ব্যাংকিং ব্যবস্থার আওতায় আনা, করের পরিধি বাড়ানো এবং ডিজিটাল লেনদেনকে উৎসাহ দেওয়ার কথাও বলা হয়। সরকারের যুক্তি ছিল, হিসাবের বাইরে থাকা নগদ টাকা ব্যাংকে জমা দিতে গেলে তার উৎসের ব্যাখ্যা দিতে হবে। এতে অঘোষিত সম্পদের তথ্য সামনে আসবে।

কিন্তু ঘোষণার পরপরই শুরু হয় ভিন্ন এক বাস্তবতা। পুরোনো নোট বদলানো বা জমা দেওয়ার জন্য ব্যাংক ও এটিএমের সামনে দীর্ঘ লাইন পড়ে। নগদ সংকটে দৈনন্দিন কেনাকাটা, ছোট ব্যবসা, কৃষিকাজ এবং শ্রমিকের মজুরি পরিশোধে সমস্যা দেখা দেয়। কারণ ভারতের অর্থনীতির বড় একটি অংশ তখনো নগদ লেনদেনের ওপর নির্ভরশীল। নতুন নোট ছাপানো ও সারা দেশে পৌঁছে দেওয়াও ছিল চ্যালেঞ্জ। নিয়ম ও সীমা বারবার বদলানোয় মানুষের ভোগান্তি বেড়ে যায়।

তবে নোটবন্দির সবচেয়ে বড় প্রশ্ন তৈরি হয় পরে। রিজার্ভ ব্যাংক অব ইন্ডিয়ার ২০১৭-১৮ সালের বার্ষিক প্রতিবেদন জানায়, বাতিল হওয়া নোটের প্রায় ৯৯ দশমিক ৩ শতাংশই ব্যাংকিং ব্যবস্থায় ফিরে এসেছে। মোট ১৫ লাখ ৪১ হাজার কোটি রুপির নোটের মধ্যে প্রায় ১৫ লাখ ৩১ হাজার কোটি রুপি জমা পড়ে। অর্থাৎ খুব সামান্য পরিমাণ নোটই ফেরত আসেনি।

তাহলে কি কালো টাকা ধরা পড়েনি? বিষয়টি এত সরল নয়। ব্যাংকে টাকা ফেরত আসা মানেই সেটি বৈধ সম্পদ, এমন নয়। জমা হওয়া অর্থের উৎস খতিয়ে দেখা এবং কর ফাঁকির প্রমাণ বের করা আলাদা প্রক্রিয়া। আবার ফেরত না আসা টাকাই কালো টাকা—এমন সিদ্ধান্তও সঠিক নয়।

অর্থনীতিতেও ধাক্কা লাগে। বিশ্বব্যাংকের মূল্যায়নে, নগদ সংকটে নগদনির্ভর খাতের কর্মকাণ্ড ব্যাহত হয় এবং ২০১৬-১৭ অর্থবছরের তৃতীয় প্রান্তিকে ভারতের প্রবৃদ্ধি কমে ৭ শতাংশে নামে, আগের দুই প্রান্তিকের ৭ দশমিক ৩ শতাংশ থেকে। অন্যদিকে ডিজিটাল লেনদেনের ব্যবহার বাড়ে।

তাই নোটবন্দিকে এক কথায় সফল বা ব্যর্থ বলা কঠিন। কালো টাকা নির্মূলের লক্ষ্য কতটা পূরণ হয়েছিল, তা নিয়ে বিতর্ক রয়ে গেছে। কিন্তু একটি রাতের ঘোষণায় কোটি মানুষের জীবনযাত্রা ও ভারতের অর্থনীতিতে যে পরিবর্তন এসেছিল, তা ইতিহাসে গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় হয়ে আছে।

২০১৬ সালের ৮ নভেম্বর। রাত আটটায় ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ঘোষণা দিলেন, ৫০০ ও ১ হাজার রুপির নোট আর বৈধ থাকছে না। বাতিল হলো দেশের প্রচলিত নগদ টাকার প্রায় ৮৬ শতাংশ। উদ্দেশ্য ছিল কালো টাকা ও দুর্নীতি দমন। কিন্তু ব্যাংকের সামনে দীর্ঘ লাইন, নগদ সংকট আর অর্থনৈতিক ধাক্কায় বিপাকে পড়ে সাধারণ মানুষ। সবচেয়ে অবাক করা বিষয়, বাতিল হওয়া টাকার ৯৯ দশমিক ৩ শতাংশই ফিরে এসেছিল ব্যাংকে! তাহলে নোটবন্দিতে আসলে কী অর্জন করেছিল ভারত?  

—জা. অর্থনীতি/এলএটি