নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা: ছাদভিত্তিক সৌরবিদ্যুতের সম্প্রসারণে বড় অঙ্কের অর্থায়ন, উদ্বৃত্ত বিদ্যুৎ বিক্রিতে প্রতি ইউনিট ১০ টাকা ৫০ পয়সা মূল্য, সহজ শর্তে ঋণ এবং নেট মিটারিং প্রক্রিয়া সহজ করার ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন বিদ্যুৎ খাতের নীতিনির্ধারক, আর্থিক প্রতিষ্ঠান ও উদ্যোক্তারা। তাদের মতে, আবাসিক ভবন ও শিল্পকারখানার ছাদে সৌরবিদ্যুৎ ব্যবস্থা স্থাপন বাড়ানো গেলে বিদ্যুৎ ব্যয় কমানোর পাশাপাশি জাতীয় গ্রিডের ওপর চাপ কমবে, জ্বালানি নিরাপত্তা জোরদার হবে এবং নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হবে।
গতকাল বুধবার রাজধানীর আগারগাঁওয়ে বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে অনুষ্ঠিত ‘বাংলাদেশ সোলার এক্সপো ২০২৬’ এর ‘ডোমেস্টিক অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিয়াল রুফটপ সোলার: এনশিওরিং এনার্জি সিকিউরিটি অ্যান্ড ক্রিয়েটিং এমপ্লয়মেন্ট’ শীর্ষক সেমিনারে বক্তারা এসব কথা বলেন। সেমিনারে সৌরবিদ্যুৎ খাতে সরকারি অর্থায়ন, আন্তর্জাতিক উন্নয়ন সহযোগীদের ঋণ, শিল্পকারখানায় তৃতীয় পক্ষের বিনিয়োগে সৌরপ্যানেল স্থাপন, উদ্বৃত্ত বিদ্যুৎ গ্রিডে বিক্রি এবং ব্যাটারি স্টোরেজের প্রয়োজনীয়তা নিয়ে আলোচনা হয়। পাশাপাশি সৌর সরঞ্জামের মান নিয়ন্ত্রণ, দ্বৈত ভ্যাট-ট্যাক্সের জটিলতা, অনলাইনে নেট মিটারিং সেবা এবং দুর্গম এলাকায় সৌরবিদ্যুৎ স্থাপনের বাড়তি ব্যয় নিয়েও প্রশ্ন তোলেন অংশীজনেরা।
বিদ্যুৎ বিভাগের সচিব মিরানা মাহরুখ জানান, সৌরবিদ্যুৎ খাতের উন্নয়নে সরকার নিজস্ব উৎস থেকে ১ হাজার ৫০০ কোটি টাকার তহবিল গঠন করেছে। বাংলাদেশ ইনফ্রাস্ট্রাকচার ফাইন্যান্স ফান্ড লিমিটেড (ইডকল) এবং পল্লী কর্ম-সহায়ক ফাউন্ডেশনের (পিকেএসএফ) মাধ্যমে এ অর্থায়ন কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে। এছাড়া বিশ্বব্যাংকের ৫০ কোটি মার্কিন ডলারের অর্থায়ন প্যাকেজ নিয়ে আলোচনা চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে বলে জানান তিনি। এশীয় অবকাঠামো বিনিয়োগ ব্যাংকের (এআইআইবি) সঙ্গে আরও ৫০ কোটি ডলারের ঋণ নিয়ে আলোচনা চলছে। এশীয় উন্নয়ন ব্যাংকও (এডিবি) বাংলাদেশে সৌরবিদ্যুৎ খাতের জন্য বিশেষ উন্নয়ন তহবিল গঠনে কাজ করছে।
পল্লী কর্ম-সহায়ক ফাউন্ডেশনের (পিকেএসএফ) ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) মো. ফজলুল কাদের বলেন, সারা দেশে ১৭০টি সহযোগী প্রতিষ্ঠানের প্রায় ১৭ হাজার শাখা কার্যালয়ের মাধ্যমে ক্ষুদ্র উদ্যোক্তাদের কাছে সৌরবিদ্যুৎ অর্থায়ন পৌঁছে দেওয়ার সুযোগ রয়েছে। পিকেএসএফ ইতোমধ্যে ১৪ হাজার ক্ষুদ্র উদ্যোগে সৌরপ্রযুক্তি ব্যবহারের জন্য অর্থায়ন করেছে।
বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের (পিডিবি) চেয়ারম্যান প্রকৌশলী মো. রেজাউল করিম বলেন, নেট মিটারিং চালুর ক্ষেত্রে আবেদন, সম্ভাব্যতা যাচাই, সাইট পরিদর্শন, স্থাপন, মূল্যায়ন ও চুক্তি— এই ছয়টি ধাপ রয়েছে। নির্ধারিত প্রক্রিয়ায় সর্বোচ্চ ১৫ দিনের মধ্যে এ সুবিধা চালুর বাধ্যবাধকতার কথা তুলে ধরেন তিনি।
গত মঙ্গলবার রাজধানীর আগারগাঁওয়ে বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে ‘ছাদের প্রতিটি ইঞ্চি কাজে লাগান, সৌরবিদ্যুৎ থেকে আয় বাড়ান’ প্রতিপাদ্যে দুই দিনব্যাপী ‘বাংলাদেশ সোলার এক্সপো ২০২৬’-এর উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। বাংলাদেশ সোলার এক্সপোর শেষ দিনেও বিভিন্ন স্টলে দর্শনার্থীদের ভিড় দেখা যায়। সোলার প্যানেল, ইনভার্টার, ব্যাটারি, এনার্জি স্টোরেজ, হাইব্রিড সোলার সিস্টেম ও বিদ্যুৎ সাশ্রয়ী প্রযুক্তি সম্পর্কে তথ্য নেন আগ্রহীরা। দেশি-বিদেশি প্রতিষ্ঠানগুলো তাদের প্রযুক্তি ও পণ্য প্রদর্শনের পাশাপাশি প্রকল্প বাস্তবায়ন, অর্থায়ন, কারিগরি সহায়তা এবং বিনিয়োগের সম্ভাবনা তুলে ধরে।
বিদ্যুৎ বিভাগ, বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয় এবং ইডকল যৌথভাবে প্রথমবারের মতো এ এক্সপোর আয়োজন করে। প্রদর্শনীতে সৌরবিদ্যুতের সম্প্রসারণ, সরকারি প্রণোদনা, কর ও শুল্ক সুবিধা, সবুজ অর্থায়ন, কার্বন ক্রেডিট এবং দক্ষতা উন্নয়নের সুযোগ নিয়ে আলোচনা হয়।
