গাজীপুরে শ্রমিক-পুলিশ সংঘর্ষে ৩০ জন আহত, ৬০ কারখানা ছুটি
ছবি: জাতীয় অর্থনীতি

গাজীপুর প্রতিনিধি: ন্যূনতম ৩০ হাজার টাকা বেতন বৃদ্ধির দাবিতে গাজীপুরের বিভিন্ন শিল্পাঞ্চলে পোশাক শ্রমিকদের তীব্র আন্দোলন, মহাসড়ক অবরোধ ও পুলিশের সঙ্গে দফায় দফায় ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটেছে। এতে পুলিশ সদস্য ও আন্দোলনকারী শ্রমিকসহ অন্তত ৩০ জন আহত হয়েছেন। অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়াতে ও বিশৃঙ্খলা রোধে অন্তত ৬০টি পোশাক কারখানা ছুটি ঘোষণা করেছে কর্তৃপক্ষ। এদিকে কারখানা ও মহাসড়কে হামলার অভিযোগে উসকানিদাতা ও ৭ নাশকতাকারীকে গ্রেপ্তার করেছে শিল্প পুলিশ।

মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) সকাল সাড়ে ৯টা থেকে দুপুর পর্যন্ত গাজীপুরের ভোগড়া, নাওজোর, মৌচাক ও পল্লী বিদ্যুৎ এলাকায় এসব সংঘাতের ঘটনা ঘটে।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, সকাল সাড়ে ৯টার দিকে মহানগরীর নাওজোড় এলাকায় ‘প্যানিসিয়া লিমিটেড’ কারখানার শ্রমিকেরা কাজ বন্ধ করে বের হয়ে ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কের উড়ালসড়কের পশ্চিম পাশে অবস্থান নেন। এতে ব্যস্ততম মহাসড়কটির উভয় পাশে যানবাহন চলাচল পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যায়।

প্রায় একই সময়ে কোনাবাড়ীর বে-ফুটওয়্যার, মৌচাক এলাকার পূর্বাণি এবং তেলিচালা এলাকার লগোস অ্যাপারেলস ও এটিএস অ্যাপারেলস কারখানার শ্রমিকেরা কর্মবিরতি পালন করে রাজপথে নেমে এসে বিক্ষোভ প্রদর্শন করতে থাকেন। খবর পেয়ে গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের (জিএমপি) উপ-কমিশনার (ক্রাইম অ্যান্ড অপারেশন্স) মোহাম্মদ বেলায়েত হোসেনের নেতৃত্বে পুলিশ ও বিজিবি সদস্যরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা চালান। একপর্যায়ে সাউন্ড গ্রেনেড ও কাঁদানে গ্যাসের শেল নিক্ষেপ করে শ্রমিকদের মহাসড়ক থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়।

অন্যদিকে, ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কের ভোগড়া বাইপাস এলাকায় একাধিক কারখানার শ্রমিকেরা মহাসড়কে টায়ার জ্বালিয়ে বিক্ষোভ শুরু করেন। পুলিশ ও বিজিবি গিয়ে তাদের সরিয়ে দিতে চাইলে আন্দোলনকারীরা আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে লক্ষ্য করে ব্যাপক ইটপাটকেল নিক্ষেপ করে। ইটের আঘাতে কয়েকজন পুলিশ সদস্য আহত হলে পুলিশ লাঠিচার্জ ও কাঁদানে গ্যাসের শেল ছুড়ে বিক্ষোভকারীদের ছত্রভঙ্গ করে দেয়।

উল্লেখ্য, গত শনিবার থেকে বেতনের দাবিতে কালিয়াকৈরের চন্দ্রা, পল্লী বিদ্যুৎ, মৌচাক, সফিপুর ও কোনাবাড়ী এলাকার শ্রমিকেরা ধারাবাহিক বিক্ষোভ, ভাঙচুর, পুলিশ বক্সে অগ্নিসংযোগ ও কারখানা গুদামে আগুন দেওয়ার মতো সংঘাতময় ঘটনা ঘটিয়ে আসছে। এসব সংঘাতের ঘটনায় কোনাবাড়ী, বাসন ও কালিয়াকৈর থানায় পুলিশ বাদী হয়ে তিনটি পৃথক মামলা দায়ের করেছে, যাতে কয়েক হাজার অজ্ঞাতপরিচয় শ্রমিককে আসামি করা হয়েছে।

পরিস্থিতি সামাল দিতে নিরাপত্তা ব্যবস্থা ব্যাপক জোরদার করা হয়েছে। গাজীপুর জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সহকারী কমিশনার (মিডিয়া) আরিফ হোসাঈন জানান, নতুন এক প্লাটুনসহ জেলায় মোট ১১ প্লাটুন বিজিবি মোতায়েন করা হয়েছে। পাশাপাশি আইনশৃঙ্খলা রক্ষা ও ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনায় ২৫ জন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মাঠপর্যায়ে দায়িত্ব পালন করছেন।

গাজীপুর শিল্পাঞ্চল পুলিশের পুলিশ সুপার (এসপি) আমজাদ হোসাইন জানান, অসন্তোষ ছড়িয়ে পড়ায় অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে বেলা ১১টার পর থেকে অন্তত ৬০টি কারখানা সাময়িক ছুটি ঘোষণা করে কর্তৃপক্ষ। তিনি আরও বলেন, "অভিযান চালিয়ে ৭ জন নাশকতাকারীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। প্রাথমিক তদন্তে নিশ্চিত হওয়া গেছে যে গ্রেপ্তারকৃতরা কোনো তৈরি পোশাক কারখানার শ্রমিক নন, বরং বাইরে থেকে এসে উসকানি ও বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির চেষ্টা করছিলেন।"

গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের (জিএমপির) উপ-কমিশনার মোহাম্মদ বেলায়েত হোসেন বলেন, "শ্রমিকদের সঙ্গে স্বাভাবিক আলোচনার পরপরই হঠাৎ করে পুলিশের ওপর পেছন থেকে ঢিল ছোড়া শুরু হয়। ধারণা করা হচ্ছে, বিশেষ কোনো স্বার্থান্বেষী মহল শ্রমিক আন্দোলনকে ইস্যু বানিয়ে রাজনৈতিক ও সামাজিক অস্থিরতা তৈরি করতে চাচ্ছে। বর্তমানে মহাসড়কের ব্যারিকেড সরিয়ে যানবাহন চলাচল স্বাভাবিক করা হয়েছে এবং সার্বিক পরিস্থিতি পুলিশের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।"

—জা. অর্থনীতি/এলএটি