জাতীয় অর্থনীতি ডেস্ক: ব্রিটেনের সরকার হঠাৎ নাগরিকদের ঘরে তিন দিনের খাবার ও পানি মজুদ রাখতে বলছে কেন? যুদ্ধ, সাইবার হামলা, নাকি বড় কোনো বিপর্যয়ের আশঙ্কা? বিষয়টি নিয়ে আতঙ্কিত হওয়ার আগে জেনে নেওয়া যাক সরকারের নির্দেশনায় কী বলা হয়েছে।
২২ অক্টোবর ‘বি রেডি’ নামে নতুন প্রচার অভিযান শুরু করেছে ব্রিটিশ সরকার। এর মাধ্যমে পরিবারগুলোকে অন্তত ৭২ ঘণ্টা চলার মতো প্রয়োজনীয় খাবার, পানি ও জরুরি সামগ্রী ঘরে রাখার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী এনডি বার্নাম বলেছেন, অপ্রত্যাশিত ঘটনা ক্রমেই বাড়ছে। তবে তার বার্তা আতঙ্ক ছড়ানো নয়; বরং শান্ত থেকে সম্ভাব্য জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলায় আগাম প্রস্তুতি নেওয়া।
কিন্তু কেন এমন সতর্কতা? ভয়াবহ ঝড়, বন্যা, দাবানল কিংবা সাইবার হামলার মতো ঘটনায় স্বাভাবিক জীবনযাত্রা ব্যাহত হতে পারে। বিদ্যুৎ, পানি ও ইন্টারনেট সেবা বন্ধ হয়ে গেলে দোকানপাট, যোগাযোগ এবং নিত্যপণ্যের সরবরাহেও সমস্যা তৈরি হতে পারে। পাশাপাশি রাশিয়াসহ শত্রুভাবাপন্ন রাষ্ট্রের সম্ভাব্য হামলা নিয়েও উদ্বেগের কথা সামনে এসেছে।
সরকারি নির্দেশনায় বলা হয়েছে, ঘরে দীর্ঘদিন সংরক্ষণ করা যায় এমন কৌটাজাত খাবার রাখতে হবে। পাশাপাশি রান্না ছাড়াই খাওয়া যায় এমন খাবার, ফল, সবজি ও পানীয় পানি মজুদ রাখার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। জরুরি সামগ্রীর তালিকায় রয়েছে প্রয়োজনীয় ওষুধ, প্রাথমিক চিকিৎসার বাক্স, টর্চ, বাড়তি ব্যাটারি, পাওয়ার ব্যাংক, ব্যাটারিচালিত রেডিও এবং কিছু নগদ অর্থ। শিশু ও পোষা প্রাণীর জন্য দরকারি জিনিসও রাখতে বলা হয়েছে।
পানির হিসাবেও রয়েছে নির্দিষ্ট পরামর্শ। জনপ্রতি প্রতিদিন অন্তত আড়াই থেকে তিন লিটার পানীয় পানি রাখা যেতে পারে। সে হিসাবে তিন দিনের জন্য একজনের প্রয়োজন প্রায় সাত থেকে নয় লিটার পানি।
তবে সরকার স্পষ্ট করেছে, এই প্রস্তুতির অর্থ আতঙ্কিত হয়ে অতিরিক্ত কেনাকাটা করা নয়। বরং প্রয়োজন বুঝে ধীরে ধীরে জরুরি সামগ্রী গুছিয়ে রাখাই লক্ষ্য। অর্থাৎ, বিপদ ঘটবেই এমন ঘোষণা নয়; সম্ভাব্য সংকটে পরিবারগুলো যেন অন্তত কয়েক দিন নিজেদের সামলাতে পারে, সেটিই এই উদ্যোগের মূল উদ্দেশ্য।
আগে থেকে পরিকল্পনা থাকলে সেবা বন্ধ বা সরবরাহে বিঘ্ন ঘটলেও পরিবারের প্রয়োজন মেটানো সহজ হয়। তাই নিজের পরিবারের চাহিদা বুঝে ধীরে ধীরে প্রস্তুতি নেওয়ার কথাই বলছে কর্তৃপক্ষ। এটাই মূল বার্তা।
—জা. অর্থনীতি/এলএটি
