জাতীয় অর্থনীতি ডেস্ক: ইউরো চালুর আগে ইউরোপে ঠিক কয় ধরনের টাকা ছিল? এর উত্তর নির্ভর করে আপনি কোন সময় এবং কোন দেশগুলোর কথা বলছেন। পুরো ইউরোপে তখন অনেক জাতীয় মুদ্রা চালু ছিল। তবে ১৯৯৯ সালে ইউরো গ্রহণের প্রথম দলে ছিল ১১টি দেশ, আর তাদের ছিল ১১টি আলাদা মুদ্রা। এই পার্থক্যটি জানা জরুরি।
দেশগুলো হলো বেলজিয়ামের ফ্রাঁ, জার্মানির ডয়েচে মার্ক, ফ্রান্সের ফ্রাঁ, ইতালির লিরা, স্পেনের পেসেতা, নেদারল্যান্ডসের গিল্ডার, লুক্সেমবার্গের ফ্রাঁ, আয়ারল্যান্ডের পাউন্ড, অস্ট্রিয়ার শিলিং, পর্তুগালের এসকুদো এবং ফিনল্যান্ডের মার্কা। ১৯৯৯ সালের ১ জানুয়ারি ইউরো চালু হলে এসব দেশের মুদ্রার বিনিময় হার স্থায়ীভাবে ইউরোর সঙ্গে নির্ধারণ করা হয়। তবে তখনই মানুষের হাতে ইউরোর নোট বা কয়েন পৌঁছায়নি।
ইউরো প্রথমে ছিল হিসাবের একক এবং ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানের ইলেকট্রনিক লেনদেনের মুদ্রা। পুরোনো নোট ও কয়েন আরও তিন বছর দৈনন্দিন জীবনে চলেছে। ২০০২ সালের ১ জানুয়ারি ইউরোর নোট ও কয়েন বাজারে আসে। তখন প্রথম ১২টি দেশে নগদ ইউরো চালু হয়। কারণ গ্রিস ১৯৯৯ সালে প্রথম দলে ছিল না; দেশটি ২০০১ সালের ১ জানুয়ারি ইউরো গ্রহণ করে। ফলে গ্রিসের দ্রাখমাও ইউরোর জায়গা করে দেয়।
তবে ইউরোপের সব দেশ একসঙ্গে নিজস্ব মুদ্রা বাদ দেয়নি। ডেনমার্ক, সুইডেন ও যুক্তরাজ্য তখন ইউরো গ্রহণ করেনি। যুক্তরাজ্য ইউরোপীয় ইউনিয়নের সদস্য থাকলেও পাউন্ড রেখেছিল। তাই ইউরো চালুর আগে ইউরোপে মুদ্রার সংখ্যা ১১ বা ১২ বললে পুরো মহাদেশের হিসাব বোঝায় না। এই সংখ্যা শুধু প্রথম ইউরো গ্রহণকারী দেশগুলোর জাতীয় মুদ্রাকে বোঝায়।
তাহলে এতগুলো মুদ্রা এক করার প্রয়োজন কেন হয়েছিল? আলাদা মুদ্রার কারণে সীমান্ত পেরিয়ে ব্যবসায় বিনিময় খরচ, দামের অনিশ্চয়তা এবং মুদ্রার ওঠানামার ঝুঁকি ছিল। একক মুদ্রায় এসব বাধা কমে, দাম তুলনা সহজ হয় এবং ভ্রমণকারীদের বারবার টাকা বদলাতে হয় না। তবে সব দেশের অর্থনীতি এক রকম নয়, তাই একই মুদ্রানীতি সবার জন্য সমানভাবে সুবিধাজনকও নয়।
আরেকটি বিষয় মনে রাখা দরকার, ইউরো চালুর আগেও ইউরোপে মুদ্রা সহযোগিতার চেষ্টা হয়েছিল। ইউরোপীয় মুদ্রাব্যবস্থা এবং ইসিইউ নামের হিসাবের একক দেশগুলোর মুদ্রার মধ্যে সম্পর্ক তৈরিতে ভূমিকা রাখে। কিন্তু ইসিইউ সাধারণ মানুষের ব্যবহারের টাকা ছিল না। শেষ পর্যন্ত রাজনৈতিক সমঝোতা, অর্থনৈতিক শর্ত এবং কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নতুন কাঠামোর মাধ্যমে ইউরো বাস্তব হয়। এই পরিবর্তন ছিল ধাপে ধাপে নেওয়া সিদ্ধান্ত, রাতারাতি কোনো মুদ্রা বদল নয়। সুতরাং সহজ উত্তর হলো, ১৯৯৯ সালে ইউরো চালুর প্রথম পর্যায়ে ১১টি দেশের ১১ ধরনের জাতীয় মুদ্রা প্রতিস্থাপিত হয়। ২০০১ সালে গ্রিস যোগ দেওয়ার পর ১২টি দেশের মুদ্রা ইউরোর আওতায় আসে। আর ২০০২ সালে নগদ ইউরো মানুষের হাতে পৌঁছায়।
—জা. অর্থনীতি/এলএটি
