নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা: ইসলামী ব্যাংকের চট্টগ্রামের জুবিলী রোড শাখা থেকে ৬৩ কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগে সাবেক ভূমিমন্ত্রী সাইফুজ্জামান চৌধুরী জাবেদসহ ১৫ জনের বিরুদ্ধে মামলা করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। গতকাল মঙ্গলবার রাজধানীর সেগুনবাগিচায় দুদকের প্রধান কার্যালয়ে সংস্থাটির উপপরিচালক (জনসংযোগ কর্মকর্তা) মো. আকতারুল ইসলাম এ তথ্য নিশ্চিত করেন। দুদকের চট্টগ্রাম সমন্বিত জেলা কার্যালয়ে সংস্থাটির উপ-সহকারী পরিচালক মো. রুবেল হোসেন বাদী হয়ে এই মামলাটি করেন।
মামলায় সাবেক ভূমিমন্ত্রী সাইফুজ্জামান চৌধুরী ছাড়া অন্য আসামিরা হলেন- তার স্ত্রী ও আরামিট সিমেন্টের এমডি রুকমীলা জামান, ইউনাইটেড কমার্শিয়াল ব্যাংকের সাবেক পরিচালক মোহাম্মদ শাহ আলম, ইসলামী ব্যাংকের প্রিন্সিপাল অফিসার মো. মহিউদ্দীন ও মোহাম্মদ আখতার হোসেন, ইনভেস্টমেন্ট ইনচার্জ ও সিনিয়র প্রিন্সিপাল অফিসার মো. আব্দুল কাদির ও মো. শহিদুল্লাহ, ভাইস প্রেসিডেন্ট ও শাখা ব্যবস্থাপক মোহাম্মদ আব্দুল হক, এফভিপি ও ম্যানেজার অপারেশন মোহাম্মদ নিজাম উদ্দীন, এসভিপি আবুল কালাম আজাদ ও মোহাম্মদ মহসীন আলী, ব্যাংকটির এসপিও রিদুয়ানুল হক এবং আরামিট সিমেন্টের এজিএম (হিসাব) একেএম মারুফ।
মামলার এজাহারে বলা হয়, ২০১৭ থেকে ২০২১ সালের মধ্যে আসামিরা পরস্পর যোগসাজশে ক্ষমতার অপব্যবহার করে আরামিট সিমেন্ট লিমিটেডের নামে ভুয়া ও জাল দলিলপত্র তৈরি করেন। সাইফুজ্জামান চৌধুরীর মালিকানাধীন আরামিট গ্রুপের কর্মচারী এবং এজিএম (হিসাব) মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর আলমকে ব্যবসায়ী ও সরবরাহকারী হিসেবে সাজানো হয়। এছাড়া ‘ক্লাসিক ট্রেডিং’ নামের একটি অস্তিত্বহীন ও নামসর্বস্ব প্রতিষ্ঠানকে কাঁচামাল সরবরাহকারী হিসেবে দেখানো হয়। বাস্তবে কোনো ধরনের কাঁচামাল সরবরাহ না করেই ভুয়া বিল ও জাল ইনভয়েস তৈরি করে ব্যাংকে জমা দেওয়া হয়। পরবর্তী সময়ে ইসলামী ব্যাংক, জুবলী রোড শাখা, চট্টগ্রাম থেকে ২৭টি মুরাবাহা ডিল (ঋণ) বাবদ মোট ৬৩ কোটি ৭৯ লাখ ৫০ হাজার টাকা আত্মসাৎ করা হয়। এই অর্থ বিভিন্ন ব্যাংক হিসাবে স্থানান্তর, হস্তান্তর ও রূপান্তরের মাধ্যমে মানিলন্ডারিং করা হয়েছে বলে দুদকের অনুসন্ধানে প্রমাণিত হয়। আসামিদের বিরুদ্ধে দুর্নীতি প্রতিরোধ আইনের ৫(২) ধারা এবং মানিলন্ডারিং প্রতিরোধ আইনের ৪(২) ও ৪(৩) ধারায় মামলা করা হয়।
সাইফুজ্জামান চৌধুরী জাবেদ ২০১৪ সাল থেকে ২০১৮ সাল পর্যন্ত ভূমি মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী এবং ২০১৯ সাল থেকে ২০২৩ সাল পর্যন্ত একই মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। সাইফুজ্জামান দুর্নীতি ইস্যুতে অনুসন্ধানের শুরুতে দুদক, সিআইডি ও এনবিআরের সমন্বয়ে সাত সদস্যের টাস্কফোর্স টিম কাজ করেছে। সর্বশেষ ২০২৫ সালের ৯ সেপ্টেম্বর দুদকের উপপরিচালক মো. মশিউর রহমানের নেতৃত্বে ৯ সদস্যের টিম অনুসন্ধান ও তদন্তের কাজ পরিচালনা করছে। তদন্ত টিম ইতোমধ্যে ৩০টির বেশি মামলা করেছে বলে জানা গেছে।
এদিকে গতকাল জাল সনদে ৩৮তম বিসিএসে নিয়োগ পাওয়ার অভিযোগে প্রশাসন ক্যাডারের সঞ্জয় দাস ও পররাষ্ট্র ক্যাডারের আবু সালেহ মো. মুসার দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা দিয়েছেন আদালত। দুদকের মামলার পরিপ্রেক্ষিতে এ আদেশ দেওয়া হয়। এছাড়া ১১৯ টন চাল অবৈধভাবে মজুদ ও দুই কোটি টাকার খাদ্যশস্য আত্মসাতের অভিযোগে কুড়িগ্রামের খাদ্য নিয়ন্ত্রকসহ চারজনের বিরুদ্ধে মামলা করার তথ্যও জানায় দুদক।