দায়ীদের জবাবদিহি নিশ্চিত না করে সরকার অর্থায়ন করলে একটি নেতিবাচক দৃষ্টান্ত তৈরি হবে

ড. মোস্তফা কে. মুজেরী: দেশের ব্যাংক খাত বর্তমানে গভীর সংকটের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। অনিয়ম, ঋণ জালিয়াতি, সুশাসনের অভাব ও বিপুল খেলাপি ঋণের কারণে বেশ কয়েকটি ব্যাংকের আর্থিক ভিত্তি দুর্বল হয়ে পড়েছে। এ পরিস্থিতিতে সংকটাপন্ন ব্যাংকগুলোকে পুনরুজ্জীবিত করা কিংবা সেগুলোর কার্যক্রম বন্ধ করে দেওয়ার মতো কঠিন সিদ্ধান্তের মুখোমুখি বাংলাদেশ ব্যাংক। ব্যাংক খাতের স্থিতিশীলতা রক্ষা এবং আমানতকারীদের স্বার্থ সুরক্ষার যুক্তিতে দুর্বল ব্যাংকগুলোকে আর্থিক সহায়তা দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। এ লক্ষ্যে ৬০ হাজার কোটি টাকার সহায়তার যে পরিকল্পনার কথা সামনে এসেছে, তা বাস্তবায়নের আগে কয়েকটি মৌলিক প্রশ্নের উত্তর খোঁজা জরুরি।

প্রথমত, এ বিপুল অর্থের সংস্থান কীভাবে হবে? দ্বিতীয়ত, আর্থিক সহায়তা পেলে সংকটাপন্ন ব্যাংকগুলো সত্যিকার অর্থে ঘুরে দাঁড়াতে পারবে কি না। তৃতীয়ত, ব্যাংক খাতের সংকটের জন্য দায়ী ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের জবাবদিহি নিশ্চিত না করে জনগণের অর্থ দিয়ে ক্ষতি পূরণের উদ্যোগ কতটা যৌক্তিক? এসব প্রশ্নের উত্তর না খুঁজে কেবল আর্থিক সহায়তার মাধ্যমে ব্যাংক খাতের সংকট সমাধানের চেষ্টা দীর্ঘমেয়াদে সুফল না-ও আনতে পারে।

ব্যাংক খাতের পুনর্বাসনে ৬০ হাজার কোটি টাকা ব্যয়ের পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হলে এর অর্থায়ন কীভাবে হবে, তা স্পষ্ট করা প্রয়োজন। সরকার যদি বাজেট থেকে এ অর্থের জোগান দেয়, তাহলে স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন উঠবে, বিপুল এ অর্থের সংস্থান করতে গিয়ে কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ ও অগ্রাধিকারপ্রাপ্ত খাতগুলোতে সরকারি ব্যয় সংকুচিত করতে হবে। আবার ঋণ নিয়ে অর্থের জোগান দেওয়া হলে সরকারের ঋণের বোঝা ও সুদ পরিশোধের চাপ আরও বাড়তে পারে।

বাংলাদেশের রাজস্ব আহরণের সক্ষমতা এমনিতেই সীমিত। রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা পূরণে ধারাবাহিক ঘাটতি রয়েছে। ফলে সরকারকে উন্নয়ন ও পরিচালন ব্যয় নির্বাহে ঋণের ওপর নির্ভর করতে হচ্ছে। এ অবস্থায় ব্যাংক খাতের পুনর্বাসনে বিপুল অঙ্কের অর্থ ব্যয়ের সিদ্ধান্তকে সামগ্রিক অর্থনৈতিক বাস্তবতা ও সরকারি ব্যয়ের অগ্রাধিকারের আলোকে মূল্যায়ন করা প্রয়োজন।

সরকারি অর্থের প্রতিটি ব্যয়েরই একটি বিকল্প ব্যয় রয়েছে। অর্থাৎ একটি খাতে অর্থ ব্যয় করা হলে একই অর্থ অন্য কোনো খাতে ব্যবহারের সুযোগ হারাতে হয়। ৬০ হাজার কোটি টাকা ব্যাংক খাতে ব্যয় করা হলে সেই অর্থ স্বাস্থ্য, শিক্ষা, সামাজিক সুরক্ষা, কৃষি কিংবা অবকাঠামো উন্নয়নে ব্যবহার করা সম্ভব হতো কি না, তা বিবেচনায় নিতে হবে। এসব খাতের অনেক ক্ষেত্রেই প্রয়োজনের তুলনায় সরকারি বরাদ্দ সীমিত। জনস্বাস্থ্য, মানসম্মত শিক্ষা, কর্মসংস্থান সৃষ্টি ও সামাজিক সুরক্ষার মতো মৌলিক চাহিদা পূরণেই যেখানে পর্যাপ্ত অর্থের সংস্থান করা কঠিন, সেখানে ব্যাংক খাতের পুনর্বাসনে বিপুল অর্থ ব্যয়ের যৌক্তিকতা নির্ধারণ করা জরুরি।

অবশ্য ব্যাংক খাতের স্থিতিশীলতাও জাতীয় অর্থনীতির জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ব্যাংকব্যবস্থা কার্যকর না থাকলে বিনিয়োগ, কর্মসংস্থান, ব্যবসা-বাণিজ্য ও সামগ্রিক অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড ক্ষতিগ্রস্ত হয়। আমানতকারীদের অর্থের নিরাপত্তা বিঘ্নিত হলে তার প্রভাবও ব্যাপক হতে পারে। ফলে ব্যাংক খাতে সরকারি সহায়তা দেওয়ার প্রয়োজনীয়তা একেবারে উড়িয়ে দেওয়ার সুযোগ নেই। তবে প্রশ্ন হচ্ছে, প্রস্তাবিত অর্থ ব্যয় করলে তার বিপরীতে কতটা অর্থনৈতিক সুফল পাওয়া যাবে এবং এর চেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কোনো খাতে ব্যয় করলে দেশের মানুষের কল্যাণ বেশি নিশ্চিত হতো কি না।

এ কারণে ব্যাংক পুনর্বাসনে অর্থ বরাদ্দের সিদ্ধান্ত কোনো বিচ্ছিন্ন আর্থিক সিদ্ধান্ত হিসেবে নেওয়া উচিত নয়। বরং জাতীয় উন্নয়ন, জনকল্যাণ ও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার সামগ্রিক অগ্রাধিকারের ভিত্তিতে এর যৌক্তিকতা নির্ধারণ করতে হবে।

ব্যাংক খাতের বর্তমান সংকটের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো দায় নির্ধারণ। যেসব অনিয়ম, ঋণ জালিয়াতি, দুর্বল তদারকি ও সুশাসনের ঘাটতি ব্যাংকগুলোকে সংকটের মুখে ঠেলে দিয়েছে, সেগুলোর দায় সাধারণ আমানতকারী কিংবা দেশের করদাতাদের নয়। অথচ সরকারি অর্থ দিয়ে ব্যাংকগুলোর ক্ষতি পূরণ করা হলে শেষ পর্যন্ত সেই ব্যয়ের বোঝা জনগণের ওপরই পড়তে পারে।

এখানে ন্যায়বিচার ও জবাবদিহির প্রশ্নটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। যারা অনিয়মের মাধ্যমে ব্যাংকগুলোর আর্থিক ভিত্তি দুর্বল করেছেন, ঋণের অর্থ আত্মসাৎ করেছেন কিংবা দায়িত্বে অবহেলা করে সংকট সৃষ্টি করেছেন, তাদের বিরুদ্ধে কী ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে? আত্মসাৎ করা অর্থ উদ্ধারে কী পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে? সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের সম্পদ শনাক্ত, জব্দ এবং আইনানুগ প্রক্রিয়ায় উদ্ধার করার উদ্যোগ কতটা কার্যকর? এসব প্রশ্নের উত্তর ছাড়া ব্যাংক খাতে আর্থিক সহায়তা দেওয়ার পরিকল্পনা গ্রহণযোগ্যতা হারাতে পারে।

দায়ীদের জবাবদিহি নিশ্চিত না করে সরকারি অর্থ দিয়ে ক্ষতি পূরণ করা হলে একটি নেতিবাচক দৃষ্টান্ত তৈরি হবে। এতে ভবিষ্যতে ব্যাংক ব্যবস্থাপনার সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তিদের মধ্যে এমন ধারণা সৃষ্টি হতে পারে যে অনিয়মের মাধ্যমে ব্যাংককে বিপর্যস্ত করলেও শেষ পর্যন্ত সরকারই ক্ষতি পূরণে এগিয়ে আসবে। এ ধরনের প্রত্যাশা নৈতিক ঝুঁকি বাড়াবে এবং ব্যাংক খাতে দায়িত্বশীলতা ও সুশাসন প্রতিষ্ঠার প্রচেষ্টাকে দুর্বল করবে।

তাই ব্যাংক পুনর্বাসনের যেকোনো পরিকল্পনার সঙ্গে দায়ীদের বিরুদ্ধে কার্যকর আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ এবং আত্মসাৎ করা অর্থ উদ্ধারের উদ্যোগকে যুক্ত করতে হবে। আর্থিক সহায়তা যেন কোনোভাবেই অনিয়মের দায় থেকে অব্যাহতি পাওয়ার সুযোগ সৃষ্টি না করে, তা নিশ্চিত করা প্রয়োজন।

সংকটাপন্ন ব্যাংকগুলোকে সহায়তা দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হলেও সব ব্যাংককে একইভাবে বিবেচনা করা সমীচীন হবে না। কোনো ব্যাংক সাময়িক তারল্য  সংকটে পড়েছে, কোনো ব্যাংকের মূলধন ঘাটতি রয়েছে, আবার কোনো ব্যাংকের সম্পদের মান ও ব্যবস্থাপনা এতটাই দুর্বল যে, শুধু অর্থের জোগান দিয়ে তাকে টিকিয়ে রাখা কঠিন হতে পারে। এসব ব্যাংকের সংকটের ধরন ও গভীরতা আলাদা। ফলে প্রতিটি ব্যাংকের জন্য পৃথক মূল্যায়ন ও পুনর্বাসন পরিকল্পনা প্রয়োজন।

এ ক্ষেত্রে ফরেনসিক অডিট গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। এর মাধ্যমে ব্যাংকের প্রকৃত আর্থিক অবস্থা, ঋণ বিতরণে অনিয়ম, সংশ্লিষ্ট পক্ষকে দেওয়া ঋণ, সম্পদের গুণগত মান, সম্ভাব্য আর্থিক দায় এবং অর্থ আত্মসাতের ঘটনা সম্পর্কে বিস্তারিত ধারণা পাওয়া সম্ভব। কেবল ব্যাংকের প্রকাশিত হিসাব বা ঘোষিত মূলধন ঘাটতির ভিত্তিতে সহায়তার পরিমাণ নির্ধারণ করলে প্রকৃত পরিস্থিতি আড়ালে থেকে যেতে পারে।

ফরেনসিক অডিটের ফলাফলের ভিত্তিতে নির্ধারণ  করতে হবে কোন ব্যাংককে সহায়তা দিলে তা কার্যকর হবে, কত অর্থ প্রয়োজন এবং কত সময়ের মধ্যে ব্যাংকটি আর্থিকভাবে স্বাবলম্বী হতে পারবে। যেসব ব্যাংকের ব্যবসায়িক সম্ভাবনা রয়েছে এবং সুশাসন প্রতিষ্ঠা ও ব্যবস্থাপনা সংস্কারের মাধ্যমে ঘুরে দাঁড়ানোর সুযোগ আছে, সেগুলোর পুনর্বাসন বিবেচনা করা যেতে পারে। বিপরীতে, যেসব ব্যাংক দীর্ঘমেয়াদে টেকসই হওয়ার বাস্তব সম্ভাবনা দেখাতে পারবে না, সেগুলোর ক্ষেত্রে একীভূতকরণ, পুনর্গঠন কিংবা আইনসম্মতভাবে অবসায়নের মতো বিকল্প বিবেচনা করা প্রয়োজন।

অর্থাৎ ব্যাংক বাঁচিয়ে রাখাই যেন একমাত্র লক্ষ্য না হয়। বরং কোন পদ্ধতিতে আমানতকারীদের স্বার্থ সবচেয়ে ভালোভাবে সুরক্ষিত হবে, আর্থিক ব্যবস্থার স্থিতিশীলতা বজায় থাকবে এবং সরকারি অর্থের সর্বোত্তম ব্যবহার নিশ্চিত হবে, সেটিই হওয়া উচিত সিদ্ধান্ত গ্রহণের মূল বিবেচনা।

সরকারি অর্থে কোনো ব্যাংককে পুনর্বাসনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হলে তার সঙ্গে একটি সুস্পষ্ট ও সময়সীমাবদ্ধ কর্মপরিকল্পনা থাকতে হবে। শুধু মূলধন জোগান বা আর্থিক সহায়তা দিলেই ব্যাংকের সংকটের সমাধান হবে না। ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদ ও ব্যবস্থাপনায় প্রয়োজনীয় সংস্কার, ঋণ বিতরণে শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠা, খেলাপি ঋণ আদায়, ব্যয় নিয়ন্ত্রণ এবং অভ্যন্তরীণ নিরীক্ষা ও ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা জোরদার করতে হবে।

এছাড়া সহায়তার অর্থ কোন খাতে কীভাবে ব্যয় করা হচ্ছে, তা নিয়মিত পর্যবেক্ষণ করতে হবে। নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রা অনুযায়ী ব্যাংকটির আর্থিক অবস্থার উন্নতি হচ্ছে কি না, খেলাপি ঋণ কমছে কি না, আমানতকারীদের আস্থা ফিরছে কি না এবং ব্যাংকটি নিজস্ব আয় ও মূলধনের ভিত্তিতে পরিচালিত হওয়ার সক্ষমতা অর্জন করছে কি না, তা মূল্যায়নের ব্যবস্থা থাকতে হবে।

পুনর্বাসন পরিকল্পনায় নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে অর্জনযোগ্য লক্ষ্য নির্ধারণ করা জরুরি। নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে ব্যর্থ হলে পরবর্তী অর্থ ছাড় স্থগিত করা, ব্যবস্থাপনায় পরিবর্তন আনা কিংবা বিকল্প ব্যবস্থা গ্রহণের বিধান থাকতে হবে। অন্যথায় আর্থিক সহায়তা সাময়িক স্বস্তি দিলেও ব্যাংকগুলোর মৌলিক দুর্বলতা থেকে যাবে। এক পর্যায়ে আবারও সরকারি অর্থের প্রয়োজন দেখা দেবে।

বাংলাদেশে রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকগুলোকে দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্নভাবে আর্থিক সহায়তা দেওয়ার অভিজ্ঞতা রয়েছে। তার পরও এসব ব্যাংকের একাংশের আর্থিক দুর্বলতা ও খেলাপিঋণের সমস্যা পুরোপুরি কাটেনি। এ অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষা নিয়ে বেসরকারি ব্যাংকের পুনর্বাসনেও যেন একই ধরনের নির্ভরশীলতার চক্র সৃষ্টি না হয়, তা নিশ্চিত করতে হবে।

ব্যাংক খাতের সংকট মোকাবিলায় সরকারের সামনে মূল চ্যালেঞ্জ শুধু অর্থের জোগান দেওয়া নয়; বরং এমন একটি ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা করা, যেখানে অনিয়মের দায় এড়ানোর সুযোগ থাকবে না এবং সরকারি সহায়তার ওপর নির্ভর করে দুর্বল ব্যাংকগুলো অনির্দিষ্টকাল টিকে থাকতে পারবে না। এ জন্য আর্থিক সহায়তার পাশাপাশি ব্যাংক খাতের সুশাসন, নিয়ন্ত্রক সংস্থার তদারকি এবং জবাবদিহি নিশ্চিত করা জরুরি।

প্রস্তাবিত ৬০ হাজার কোটি টাকার সহায়তা যদি সত্যিকার অর্থে ব্যাংক খাতের স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনে, আমানতকারীদের স্বার্থ সুরক্ষিত করে এবং অর্থনীতিতে দীর্ঘমেয়াদি সুফল নিশ্চিত করে, তাহলে তা বিবেচনার যুক্তি রয়েছে। কিন্তু এর আগে প্রমাণ করতে হবে যে, এ অর্থ ব্যয়ের মাধ্যমে টেকসই ফল পাওয়া সম্ভব এবং একই অর্থ অন্য কোনো খাতে ব্যয় করলে জাতীয় কল্যাণের তুলনামূলক বেশি সুযোগ হারাতে হবে না।

সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো, ব্যাংক খাতের সংকটের দায় জনগণের ওপর চাপিয়ে দেওয়া যাবে না। যারা অনিয়ম ও অব্যবস্থাপনার মাধ্যমে ব্যাংকগুলোকে দুর্বল করেছেন, তাদের জবাবদিহি নিশ্চিত করতে হবে। আত্মসাৎ করা অর্থ উদ্ধারে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে এবং সরকারি সহায়তার প্রতিটি টাকার ব্যবহার স্বচ্ছ ও জবাবদিহিমূলক করতে হবে।

সুতরাং ব্যাংক খাতে আর্থিক সহায়তা দেওয়ার আগে জাতীয় অগ্রাধিকার নির্ধারণ, ব্যাংকগুলোর প্রকৃত আর্থিক অবস্থা যাচাই, দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ এবং সময়সীমাবদ্ধ পুনর্বাসন পরিকল্পনা প্রণয়ন— এই চারটি বিষয় নিশ্চিত করা প্রয়োজন। লক্ষ্য হওয়া উচিত শুধু দুর্বল ব্যাংকগুলোকে টিকিয়ে রাখা নয়, বরং ব্যাংক খাতে এমন আর্থিক শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠা করা, যাতে ভবিষ্যতে একই সংকটের পুনরাবৃত্তি না ঘটে এবং জনগণের অর্থ দিয়ে বারবার ব্যাংক উদ্ধারের প্রয়োজন না হয়।

নির্বাহী পরিচালক, ইনস্টিটিউট ফর ইনক্লুসিভ ফিন্যান্স অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট (আইএনএম) এবং সাবেক মহাপরিচালক, 
বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব ডেভেলপমেন্ট স্টাডিজ (বিআইডিএস)