আন্তর্জাতিক ডেস্ক: ভারতের মন্দিরগুলোতে সাধারণত ফল, মিষ্টি কিংবা নানা ধরনের খাবার প্রসাদ হিসেবে নিবেদন করা হয়। তবে বিহারের একটি মন্দিরে প্রচলিত রীতি একেবারেই আলাদা। সেখানে দেবতার উদ্দেশে বিড়ি নিবেদন করেন ভক্তরা। তাদের বিশ্বাস, এই নিবেদনেই সন্তুষ্ট হন দেবতা এবং বিপদ থেকে রক্ষা করেন ভক্তদের।
ভারতীয় সংবাদমাধ্যম আনন্দবাজারের প্রতিবেদন অনুযায়ী, মন্দিরটির নাম মুসহরওয়া বাবা মন্দির। এটি বিহারের কৈমূর জেলার ভগবানপুর ব্লকে পাহাড়ের কোলে অবস্থিত। জেলা সদর থেকে প্রায় ২৫ কিলোমিটার দূরে ভভুয়া-অধোরা প্রধান সড়কের পাশে প্রায় ১ হাজার ৪০০ ফুট উচ্চতায় মন্দিরটির অবস্থান।
স্থানীয় লোকবিশ্বাস অনুযায়ী, মুসহরওয়া বাবা অত্যন্ত জাগ্রত দেবতা। দীর্ঘদিন ধরে এখানে বিড়ি নিবেদনের প্রথা চলে আসছে। ভক্তদের ধারণা, পাহাড়ি পথে যাত্রা শুরুর আগে দেবতার উদ্দেশে বিড়ি নিবেদন করলে যাত্রাপথের বিপদ ও দুর্ঘটনা থেকে রক্ষা পাওয়া যায়। এ কারণে অনেক তীর্থযাত্রী ও সাধু-সন্ন্যাসী মন্দিরে এসে বিড়ি নিবেদন করে কিছুক্ষণ অপেক্ষা করার পর গন্তব্যের উদ্দেশে রওনা হন।
কারও কাছে বিড়ি না থাকলে মন্দিরের দানবাক্সে বিড়ি কেনার জন্য অর্থ দেওয়ারও প্রচলন রয়েছে। স্থানীয়দের দাবি, মুসহরওয়া বাবা শুধু যাত্রাপথের বিপদ থেকেই রক্ষা করেন না, ভক্তদের মনোবাসনাও পূরণ করেন।
বিহারের বাইরেও উত্তরপ্রদেশ, ছত্তীসগঢ় ও মধ্যপ্রদেশ থেকে অনেকে এখানে আসেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। তবে বিড়ি নিবেদনে সত্যিই মনোবাসনা পূরণ হয় কি না, তার কোনো নিশ্চিত প্রমাণ নেই। এই প্রথার উৎপত্তিও স্পষ্ট নয়। লোকবিশ্বাসের ওপর ভর করেই প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে টিকে আছে ব্যতিক্রমী এই রীতি।
জা.অর্থনীতি/এসআই