সাইদুর রহমান, চট্টগ্রাম: চট্টগ্রামের শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরকে আঞ্চলিক এভিয়েশন হাবে রূপান্তরের পরিকল্পনা নিয়ে এগোচ্ছে সরকার। প্রাথমিকভাবে ২৮০ থেকে ৩০০ মিলিয়ন ডলার ব্যয়ে ১৮ মাসের মধ্যে বিমানবন্দরটির সক্ষমতা বাড়ানোর লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। তবে এই উদ্যোগের সাফল্য শুধু রানওয়ে, যাত্রী টার্মিনাল ও কার্গো অবকাঠামো সম্প্রসারণ নয়; বরং বিদেশি বিমান সংস্থাকে আকৃষ্ট করতে নীতিগত সুবিধা, প্রতিযোগিতামূলক মাশুল এবং পর্যাপ্ত যাত্রী ও পণ্য পরিবহনের চাহিদা তৈরির ওপর নির্ভর করবে।
এভিয়েশন বিশেষজ্ঞদের মতে, বিমানবন্দরকে আঞ্চলিক হাবে পরিণত করতে অবকাঠামো উন্নয়নের পাশাপাশি আন্তর্জাতিক রুটে চলাচলকারী বিমান সংস্থাগুলোর জন্য ব্যবসাবান্ধব পরিবেশ তৈরি করা জরুরি। অন্যদিকে অর্থনীতিবিদেরা বলছেন, বড় অঙ্কের বিনিয়োগের আগে প্রকৃত চাহিদা, সম্ভাব্য আয় এবং বিনিয়োগের অর্থনৈতিক প্রতিদান সতর্কতার সঙ্গে মূল্যায়ন করতে হবে। চট্টগ্রামের কয়েকটি বড় অবকাঠামো প্রকল্পে প্রত্যাশিত সুফল নিয়ে প্রশ্ন ওঠায় নতুন এই উদ্যোগের অর্থনৈতিক টেকসইতা নিয়েও আলোচনা শুরু হয়েছে।
অবসরপ্রাপ্ত উইং কমান্ডার ও এভিয়েশন বিশেষজ্ঞ এ টি এম নজরুল ইসলামের মতে, ‘চট্টগ্রামের বাণিজ্যিক গুরুত্ব, শিল্পাঞ্চলের নৈকট্য এবং আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে চট্টগ্রাম বন্দরের ভূমিকা বিমানবন্দরটিকে আঞ্চলিক এভিয়েশন হাবে পরিণত করার শক্তিশালী ভিত্তি তৈরি করেছে। বিশেষ করে সমুদ্র ও আকাশপথের সমন্বয়ে চট্টগ্রামকে আন্তর্জাতিক কার্গো হাব হিসেবে গড়ে তোলার সম্ভাবনা রয়েছে। তবে শুধু অবকাঠামো উন্নয়ন করলেই এ লক্ষ্য অর্জন সম্ভব নয়। বড় উড়োজাহাজের উপযোগী ট্যাক্সিওয়ে ও পার্কিং সুবিধা, ডেডিকেটেড কার্গো উড়োজাহাজ, কার্যকর আন্তর্জাতিক সংযোগ এবং দেশীয় এয়ারলাইনসের সক্ষমতা বাড়ানোর পাশাপাশি বিদেশি বিমান সংস্থাগুলোর জন্য প্রতিযোগিতামূলক সুবিধা নিশ্চিত করতে হবে।’
অর্থনৈতিক সম্ভাব্যতা যাচাইয়ের তাগিদ
প্রস্তাবিত প্রকল্পের অর্থনৈতিক সম্ভাব্যতা নিয়ে সতর্ক করেছেন অর্থনীতিবিদেরা। তাদের মতে, বড় অবকাঠামো প্রকল্পের পরিকল্পনায় সম্ভাব্য চাহিদা ও ভবিষ্যৎ আয় নিয়ে অতিরিক্ত আশাবাদী পূর্বাভাস দেওয়া হলে বিনিয়োগের বিপরীতে প্রত্যাশিত সুফল নাও মিলতে পারে।
চট্টগ্রামের কর্ণফুলী টানেল ও এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ের ক্ষেত্রে প্রত্যাশিত যানবাহন চলাচল নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে। অন্যদিকে মিরসরাইয়ের জাতীয় বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চলও প্রত্যাশিত মাত্রায় বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণ করতে পারেনি। এসব অভিজ্ঞতা বিবেচনায় নিয়ে বিমানবন্দরকে আঞ্চলিক হাবে রূপান্তরের আগে প্রকৃত বাজার চাহিদা ও সম্ভাব্য অর্থনৈতিক প্রতিদান নিরূপণের ওপর গুরুত্ব দিচ্ছেন বিশেষজ্ঞরা।
চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের অধ্যাপক ড. নাঈম হাসান চৌধুরী বলেন, জাতীয় বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চল, চীনা অর্থনৈতিক অঞ্চল এবং আনোয়ারায় প্রস্তাবিত মুক্ত বাণিজ্য অঞ্চলগুলো পূর্ণ সক্ষমতায় পরিচালিত হলে আকাশপথে পণ্য পরিবহন ও যাত্রীসেবার চাহিদা উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়তে পারে।
তবে এসব অর্থনৈতিক অঞ্চল যদি বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণে ব্যর্থ হয়, তাহলে প্রস্তাবিত এভিয়েশন হাবও প্রত্যাশিত ফল নাও দিতে পারে বলে সতর্ক করেন তিনি। তার মতে, প্রকল্পটির অর্থনৈতিক স্থায়িত্ব নিশ্চিত করতে অর্থনৈতিক অঞ্চলগুলোর উন্নয়ন ও কার্যকর পরিচালনার ওপর সরকারকে গুরুত্ব দিতে হবে।
৩০০ মিলিয়ন ডলারের পরিকল্পনা
এই বাস্তবতায় শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরকে আঞ্চলিক এভিয়েশন ও লজিস্টিকস হাবে রূপান্তরের প্রস্তাবিত প্রকল্পের আনুমানিক ব্যয় ২৮০ থেকে ৩০০ মিলিয়ন ডলার। প্রথম ধাপে ১৮ মাসের মধ্যে বড় উড়োজাহাজ পরিচালনা, আন্তর্জাতিক ট্রান্সফার যাত্রী এবং বাড়তি এয়ার কার্গো হ্যান্ডলিংয়ের সক্ষমতা তৈরির লক্ষ্য রয়েছে।
প্রস্তাবিত ‘চট্টগ্রাম আঞ্চলিক এয়ার হাব প্রকল্প’ উন্নয়ন অর্থায়নের জন্য এশীয় উন্নয়ন ব্যাংকের (এডিবি) সমন্বিত প্রবৃদ্ধি নেটওয়ার্ক উন্নয়ন উদ্যোগের আওতায় অন্তর্ভুক্ত করার অনুরোধ জানিয়েছে অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগ (ইআরডি)। এ লক্ষ্যে একটি প্রাথমিক উন্নয়ন প্রকল্প প্রস্তাবও প্রস্তুত করা হয়েছে। প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক ব্যবস্থা নিতে প্রস্তাবটি বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয় এবং বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের (বেবিচক) কাছে পাঠানো হয়েছে।
ইআরডি সচিব শাহরিয়ার কাদের সিদ্দিকী জানিয়েছেন, সরকার প্রাথমিকভাবে চট্টগ্রাম বিমানবন্দরকে আঞ্চলিক এয়ার হাবে রূপান্তরের পরিকল্পনা নিয়ে কাজ করছে। তবে প্রকল্পের ব্যয় ও অন্যান্য প্রয়োজনীয়তা এখনও চূড়ান্ত হয়নি। বিশেষ করে কার্গো হ্যান্ডলিংয়ের সক্ষমতা বাড়াতে দ্রুত এগোনোর বিষয়ে আলোচনা চলছে।
গত ১৬ সেপ্টেম্বর এডিবির কান্ট্রি ডিরেক্টর এডিমন গিন্টিংকে পাঠানো চিঠিতে প্রকল্পটির জন্য উন্নয়ন অর্থায়নের অনুরোধ জানিয়েছে ইআরডি। এর আগে গত ১৫ আগস্ট অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরীর কাছে চট্টগ্রাম চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির সভাপতি মোহাম্মদ আমিরুল হক বিমানবন্দরটির সক্ষমতা বাড়িয়ে আঞ্চলিক বাণিজ্য ও লজিস্টিকস কেন্দ্র গড়ে তোলার প্রস্তাব দেন।
প্রস্তাবিত প্রথম ধাপে সরকারি বিনিয়োগের প্রয়োজন ধরা হয়েছে প্রায় ২৫০ মিলিয়ন ডলার। এর মধ্যে এডিবিসহ উন্নয়ন সহযোগীদের কাছ থেকে ১৭৫ মিলিয়ন ডলার সংগ্রহের পরিকল্পনা রয়েছে। বাকি ৭৫ মিলিয়ন ডলার সরকার ও বেবিচক দেবে। বাণিজ্যিক ও আতিথেয়তা-সংশ্লিষ্ট অবকাঠামো নির্মাণে ২০ থেকে ২৫ বছর মেয়াদি সরকারি-বেসরকারি অংশীদারত্বের মাধ্যমে আরও ৩০ থেকে ৫০ মিলিয়ন ডলার বেসরকারি বিনিয়োগের সম্ভাবনাও বিবেচনা করা হচ্ছে।
যাত্রী ও কার্গো সক্ষমতা বাড়ানোর পরিকল্পনা
বর্তমানে শাহ আমানত বিমানবন্দরের রানওয়ে ২ হাজার ৯৪০ মিটার দীর্ঘ। রয়েছে দুটি যাত্রী ওঠানামার সেতু এবং ১১টি ছোট ও মাঝারি আকারের উড়োজাহাজের পার্কিং স্ট্যান্ড। বছরে প্রায় ৪০ হাজার টন কার্গো হ্যান্ডলিংয়ের সক্ষমতা রয়েছে বিমানবন্দরটির।
প্রস্তাবিত পরিকল্পনায় রানওয়ে ও উড়োজাহাজ চলাচলের অবকাঠামো উন্নয়নে প্রায় ১১৫ মিলিয়ন ডলার ব্যয়ের কথা বলা হয়েছে। এর আওতায় রানওয়ের সমান্তরাল ট্যাক্সিওয়ে, দ্রুত উড়োজাহাজ বের হওয়ার ট্যাক্সিওয়ে এবং রানওয়ে শক্তিশালী করা হবে। ভবিষ্যতে রানওয়ের দৈর্ঘ্য ৩ হাজার ৬০০ মিটার পর্যন্ত বাড়ানোর সুযোগ তৈরির পরিকল্পনাও রয়েছে। পাশাপাশি ৬ থেকে ৮টি বড় উড়োজাহাজের পার্কিং স্ট্যান্ড নির্মাণ করা হবে।
প্রকল্প প্রস্তাব অনুযায়ী, উন্নত রানওয়েতে বোয়িং ৭৭৭ ও ৭৮৭ এবং এয়ারবাস এ৩৩০ ও এ৩৫০ ধরনের বড় উড়োজাহাজ পরিচালনার সুযোগ তৈরি হবে।
যাত্রী টার্মিনাল সম্প্রসারণ ও বোর্ডিং সুবিধা উন্নয়নে ব্যয় ধরা হয়েছে প্রায় ৪৩ মিলিয়ন ডলার। এর মধ্যে ২৫ মিলিয়ন ডলার ব্যয়ে টার্মিনাল সম্প্রসারণ ও পুনর্বিন্যাস করা হবে। এতে বার্ষিক যাত্রী ধারণক্ষমতা বর্তমানের প্রায় ৫০ লাখ থেকে বেড়ে ৮০ লাখ থেকে ১ কোটি হবে বলে প্রস্তাবে লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।
আরও চারটি বোর্ডিং সেতু নির্মাণ করে মোট সংখ্যা ছয়ে উন্নীত করার পরিকল্পনা রয়েছে। এর মধ্যে অন্তত চারটি বড় উড়োজাহাজের জন্য ব্যবহারযোগ্য হবে। পাশাপাশি ১০ মিলিয়ন ডলার ব্যয়ে আঞ্চলিক ট্রান্সফার সেন্টার নির্মাণের প্রস্তাব রয়েছে। এতে পৃথক নিরাপত্তাব্যবস্থা, অভিবাসন কাউন্টার ও ট্রানজিট লাউঞ্জ থাকবে। ফলে বিমানবন্দরটি শুধু যাত্রীর যাত্রা শুরু ও শেষের স্থান হিসেবে নয়, এক ফ্লাইট থেকে অন্য ফ্লাইটে যাত্রী স্থানান্তরের কেন্দ্র হিসেবেও কাজ করতে পারবে।
কার্গো ব্যবস্থাপনায় ২৫ মিলিয়ন ডলার ব্যয়ে পৃথক কার্গো ভিলেজ, শীতলীকরণ সুবিধা ও শুল্ক-নিয়ন্ত্রিত গুদাম নির্মাণের প্রস্তাব রয়েছে। এতে বছরে কার্গো হ্যান্ডলিং সক্ষমতা ৭৫ হাজার থেকে ১ লাখ টনে উন্নীত করার লক্ষ্য নেওয়া হয়েছে। বড় কার্গো উড়োজাহাজের জন্য অ্যাপ্রন ও ভূমিতে ব্যবহৃত সহায়ক যন্ত্রপাতি কেনায় আরও ৮ মিলিয়ন ডলার ব্যয়ের প্রস্তাব রয়েছে।
ডিজিটাল ও নিরাপত্তা অবকাঠামো উন্নয়নে ১৯ মিলিয়ন ডলার এবং যাত্রীদের স্থলপথে যাতায়াতের সুবিধা বাড়াতে বহু মাধ্যমভিত্তিক পরিবহন কেন্দ্র নির্মাণে ১০ মিলিয়ন ডলার বরাদ্দের প্রস্তাব রয়েছে। ডিজিটাল ব্যবস্থার আওতায় কাস্টমস, বেবিচক, বিমান সংস্থা ও লজিস্টিকস প্রতিষ্ঠানের মধ্যে সমন্বয়ের জন্য স্বয়ংক্রিয় ‘চট্টগ্রাম এয়ারপোর্ট সিঙ্গেল উইন্ডো’ চালুর পরিকল্পনা রয়েছে।
দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনায় বিমানবন্দরকে চট্টগ্রাম বন্দর ও আশপাশের অর্থনৈতিক অঞ্চলগুলোর সঙ্গে যুক্ত করতে দ্রুতগামী সড়ক, পৃথক রেল সংযোগ এবং কার্গো করিডোরের ধারণাও রাখা হয়েছে।
প্রথম ধাপের পর দ্বিতীয় পর্যায়ে ৪০০ থেকে ৬০০ মিলিয়ন ডলার এবং তৃতীয় পর্যায়ে ৭০০ মিলিয়ন থেকে ১ বিলিয়ন ডলার পর্যন্ত বিনিয়োগের সম্ভাবনা রয়েছে। ভবিষ্যতে দ্বিতীয় রানওয়ে, উড়োজাহাজের রক্ষণাবেক্ষণ ও মেরামতকেন্দ্র এবং বছরে ২ কোটি থেকে ২ কোটি ৫০ লাখ যাত্রী পরিচালনার সক্ষমতা তৈরির পরিকল্পনাও বিবেচনায় রয়েছে।
ব্যবসায়ীদের প্রস্তাব: ২৪ ঘণ্টা চালু ও কম মাশুল
চট্টগ্রাম চেম্বারের সভাপতি মোহাম্মদ আমিরুল হক অর্থমন্ত্রীকে দেওয়া চিঠিতে বিমানবন্দরটি ২৪ ঘণ্টা চালু রাখা, আন্তর্জাতিক রুটে ৪০ শতাংশ অগ্রাধিকারমূলক ট্যারিফ এবং দীর্ঘপাল্লার ফ্লাইটের বিরতিতে যাত্রী ওঠানামার সুযোগ দেওয়ার প্রস্তাব করেন। ট্রানজিট ও জ্বালানি নেওয়ার সুবিধা এবং সরকারি-বেসরকারি অংশীদারত্বসহ বিভিন্ন বিনিয়োগ কাঠামোয় কার্গো ভিলেজ ও অভ্যন্তরীণ কনটেইনার ডিপো বা কনটেইনার ফ্রেইট স্টেশন গড়ে তোলার প্রস্তাবও দেন তিনি।
আমিরুল হকের মতে, চট্টগ্রামের বন্দর, শিল্পভিত্তি ও অর্থনৈতিক অবকাঠামো শহরটিকে আঞ্চলিক এভিয়েশন ও লজিস্টিকস প্রবেশদ্বার হিসেবে গড়ে তোলার সুযোগ তৈরি করেছে। এ লক্ষ্য বাস্তবায়নে ব্যবসায়ী সম্প্রদায় সহযোগিতা করতে প্রস্তুত।
বিশেষজ্ঞদের মতে, এ ধরনের প্রস্তাব বাস্তবায়নের আগে বিমান সংস্থাগুলোর পরিচালন ব্যয়, সম্ভাব্য যাত্রী ও কার্গো চাহিদা এবং প্রতিদ্বন্দ্বী আঞ্চলিক বিমানবন্দরগুলোর সঙ্গে প্রতিযোগিতার সক্ষমতা মূল্যায়ন করা প্রয়োজন। একই সঙ্গে নতুন অবকাঠামোর ব্যবহার নিশ্চিত করতে চট্টগ্রাম বন্দরের সঙ্গে পণ্য পরিবহনের সংযোগ এবং অর্থনৈতিক অঞ্চলগুলোতে বিনিয়োগ বাড়ানোর বিষয়টিও গুরুত্বপূর্ণ।
পরিকল্পিত চট্টগ্রাম ফোরামের সহসভাপতি প্রকৌশলী সুভাষ বড়ুয়ার মতে, ‘যথাযথ সম্ভাব্যতা যাচাই ও বাস্তব চাহিদা নিরূপণ ছাড়া বড় প্রকল্প নেওয়ার প্রবণতা দেশের অর্থনীতির ওপর বাড়তি চাপ তৈরি করছে। কর্ণফুলী টানেল ও এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ের মতো প্রকল্পে প্রত্যাশিত সুফল না পাওয়ার উদাহরণ তুলে ধরে তিনি বলেন, চট্টগ্রাম বিমানবন্দরকে আঞ্চলিক এভিয়েশন হাবে পরিণত করার ক্ষেত্রেও শুধু অবকাঠামো নির্মাণকে অগ্রাধিকার দিলে চলবে না। বিমানবন্দরের মাশুল কমানো, জ্বালানি সরবরাহে প্রতিযোগিতামূলক সুবিধা এবং আন্তর্জাতিক এয়ারলাইনসকে আকৃষ্ট করার মতো নীতিগত সুযোগ নিশ্চিত না করে বড় বিনিয়োগ করলে তা ঝুঁকিতে পড়তে পারে।’
তার মতে, ‘উন্নয়ন প্রকল্প গ্রহণের ক্ষেত্রে জনগণের মৌলিক চাহিদা ও খাদ্যনিরাপত্তাকে অগ্রাধিকার দেওয়া জরুরি। বড় প্রকল্পের ঋণ ও ব্যয়ের বোঝা শেষ পর্যন্ত করদাতাদের ওপর পড়ে। তাই প্রকল্পের সম্ভাব্যতা, আর্থিক লাভ-ক্ষতি ও দেশের দীর্ঘমেয়াদি স্বার্থ বিবেচনা করেই বিনিয়োগের সিদ্ধান্ত নিতে হবে। একই সঙ্গে দেশের প্রকৌশলী, বিশ্ববিদ্যালয় ও দক্ষ জনশক্তিকে কাজে লাগিয়ে নিজস্ব প্রযুক্তিগত সক্ষমতা বাড়ানোর ওপর জোর দেন তিনি।’ তার মতে, ‘জাতীয় সক্ষমতা থাকা সত্ত্বেও গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো পরিচালনায় অতিরিক্ত বিদেশিনির্ভরতা দীর্ঘমেয়াদে দেশের স্বার্থের জন্য ঝুঁকি তৈরি করতে পারে।’