অনলাইন ডেস্ক: মধ্যপ্রাচ্যে ক্রমবর্ধমান সংঘাত এবং ইরানের ওপর সম্ভাব্য মার্কিন হামলার আশঙ্কার প্রেক্ষাপটে বিশ্ববাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম উল্লম্ফন করে গত ছয় মাসের মধ্যে সর্বোচ্চ স্তরে পৌঁছেছে।
শুক্রবার (২৩ অক্টোবর) অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের আন্তর্জাতিক বেঞ্চমার্ক 'ব্রেন্ট ক্রুড' ফিউচার্সের দর ৩.১ শতাংশ (+৩.৫৫ ডলার) বেড়ে ব্যারেল প্রতি ১১৬.৭২ ডলারে পৌঁছে থিতু হয়—যা গত ২৯ এপ্রিলের পর থেকে ব্রেন্ট ফিউচার্সের সর্বোচ্চ ক্লোজিং প্রাইস। একইভাবে যুক্তরাষ্ট্রের অপরিশোধিত তেলের বেঞ্চমার্ক 'ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট' (ডব্লিউটিআই) সূচকে ক্রুডের দাম ৩.৮ শতাংশ এক লাফে বেড়ে ব্যারেল প্রতি ১০৩.২৭ ডলারে গিয়ে ঠেকেছে।
অপরিশোধিত তেলের মূল্যের এই ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা আন্তর্জাতিক বাজারে টানা তৃতীয় সপ্তাহের মতো দরবৃদ্ধির ধারা বজায় রাখল। সাপ্তাহিক হিসাবে ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ৬.২ শতাংশ এবং ডব্লিউটিআই-এর দাম ২ শতাংশ বেড়েছে।
সাম্প্রতিক সময়ে ইরান সংঘাত নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের শীর্ষ নেতাদের মারমুখী ও আক্রমণাত্মক বক্তব্যের পর আন্তর্জাতিক বাজারদর দ্রুত উর্ধ্বমুখী হতে শুরু করে। গত ২১ অক্টোবর মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প স্পষ্ট জানিয়ে দেন যে, তেহরানের সাথে ওয়াশিংটন বর্তমানে কোনো ধরনের আলোচনা বা সমঝোতা করছে না। একই সঙ্গে তিনি এ-ও জানান যে, "শিগগিরই বড় কিছু ঘটতে যাচ্ছে।"
এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তাদের উদ্ধৃতি দিয়ে আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমগুলো জানিয়েছে, দেশটির আসন্ন মধ্যবর্তী নির্বাচনের পরপরই ইরানের সামরিক ও কৌশলগত অবকাঠামোর ওপর যৌথ হামলার পরিকল্পনা করছে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল।
বাজারের এই অস্থিতিশীলতাকে আরও বাড়িয়ে দিয়ে ইরানের সামরিক বাহিনীর প্রধান দেশটির রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমকে জানিয়েছেন, সম্প্রতি প্রতিরক্ষা সক্ষমতা আধুনিকায়নের পর যেকোনো 'অসম যুদ্ধ' লড়তে ইরানের সেনাবাহিনী পুরোপুরি প্রস্তুত।
একই সাথে, সৌদি আরবের কৌশলগত জ্বালানি অবকাঠামোয় হুতি বিদ্রোহীদের অব্যাহত ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা বিশ্ববাজারে তেল সরবরাহ বিঘ্নিত হওয়ার আশঙ্কা বহুগুণ বাড়িয়ে দিয়েছে। ক্রমবর্ধমান এই নিরাপত্তা হুমকির মুখে, মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর সৌদি আরব থেকে তাদের আবশ্যক নন—এমন কর্মীদের দ্রুত সরিয়ে নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে।
সৌদি আরবের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমের তথ্যানুযায়ী, গত ২১ অক্টোবর পূর্বাঞ্চলীয় শায়বাহ তেলক্ষেত্র লক্ষ্য করে পরিচালিত এক ড্রোন হামলায় ২ জন নিহত এবং ২ জন আহত হন। তার পাশাপাশি দাম্মামের কিং ফাহাদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৃথক এক হামলায় অন্তত ২ জন নিহত এবং ৮ জন গুরুতর আহত হন।
পর পর এই বিধ্বংসী হামলার পর, সৌদির রাষ্ট্রীয় তেল জায়ান্ট– আরামকো তাদের দাহরানে অবস্থিত সদর দপ্তরের কর্মীদের দ্রুত নিরাপদ স্থানে সরে যাওয়ার এবং বাসায় থেকে দাপ্তরিক কাজকর্ম (হোম অফিস) করার নির্দেশ দিয়েছে।
—জা.অর্থনীতি/আইবিএম