আন্তর্জাতিক ডেস্ক: পশ্চিমবঙ্গের পূর্ব বর্ধমান জেলার কেতুগ্রামের নিরল গ্রামে বিজয়া দশমী মানেই ব্যতিক্রমী এক আয়োজন। দুর্গাপূজার বিসর্জনকে ঘিরে প্রায় ৩০০ বছর ধরে চলে আসছে গরু ছোটানোর প্রথা। সময়ের সঙ্গে গ্রামের জীবনযাত্রায় পরিবর্তন এলেও ঐতিহ্যটি ধরে রেখেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।
আধুনিকতার প্রভাবে গ্রামে গরু-মোষ পালনের সংখ্যা কমেছে। একসময় কৃষিকাজে ব্যবহারের জন্য অনেক বাড়িতেই এসব পশু পালন করা হতো। তবে সেই পুরোনো রীতির টানে বিজয়া দশমীর বিকেলে এখনো নিরল গ্রামে জড়ো হন স্থানীয়রা।
স্থানীয় বাসিন্দা রতন চক্রবর্তী জানান, দুপুরে খাওয়াদাওয়ার পর বেলা ২টা থেকে শুরু হয় গরু ছোটানোর আয়োজন। যাদের বাড়িতে গরু, ষাঁড় কিংবা মোষ রয়েছে, তারা এতে অংশ নেন। পশুর সংখ্যা কমে এলেও বর্তমানে ৫০টির বেশি গরু-মোষ এই আয়োজনে অংশ নেয়। কোনো কোনো বছর অংশগ্রহণকারীর সংখ্যা প্রায় ১০০-তে পৌঁছায়।
একসময় কৃষিপ্রধান এই গ্রামে গরু ছোটানোর মাধ্যমে পশুর গতি ও শক্তি প্রদর্শন করা হতো। পরে তা ধীরে ধীরে প্রতিযোগিতার রূপ নেয়।
এই প্রথার সঙ্গে জড়িয়ে রয়েছে স্থানীয় লোকবিশ্বাসও। প্রচলিত ধারণা অনুযায়ী, প্রতিমা বিসর্জনের রাস্তা দিয়ে গরু ছোটানোর সময় পশুর গোবর পড়ত। পরে রাস্তা পরিষ্কার করা হতো। গোবরের মাধ্যমে বিসর্জনের পথ শুদ্ধ হয়-এমন বিশ্বাস থেকেই প্রথাটির সূচনা হয়েছে বলে মনে করা হয়। তবে এর প্রকৃত ঐতিহাসিক উৎস নিয়ে একাধিক মত রয়েছে।
জা.অর্থনীতি/এসআই