নিজস্ব প্রতিবেদক: বাংলাদেশ ইঞ্জিনিয়ারিং শিল্প মালিক সমিতির (বাইশিমাস) ২০২৬-২০২৮ মেয়াদের নির্বাচনের সকল কার্যক্রম স্থগিত করা হয়েছে। আগামী ২৪ অক্টোবর রাজধানীর বিয়াম অডিটোরিয়ামে ভোটগ্রহণের কথা ছিল। ভোটের মাত্র পাঁচ দিন আগে, ১৯ অক্টোবর পূজার ছুটির আগের শেষ কার্যদিবসের রাতে এই স্থগিতাদেশ আসে। প্রার্থীদের অভিযোগ, প্রতিদ্বন্দ্বী প্যানেলের সভাপতি প্রার্থীর অবৈধ প্রভাবে আইনকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে আদালতের কোনো আদেশ ছাড়া, বাণিজ্য মন্ত্রণালয় থেকে এই স্থগিতাদেশ দেওয়া হয়েছে, যা অবৈধ ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত।
বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের একটি স্মারকের ভিত্তিতে নির্বাচন বোর্ড ১৯ অক্টোবর নোটিশ জারি করে স্থগিতাদেশ দেয়। নোটিশে স্থগিতের কোনো কারণ উল্লেখ নেই। প্রার্থীরা জানান, সিদ্ধান্তের আগে তাদের কোনো শুনানিও হয়নি। নোটিশটি নির্বাচন বোর্ডের চেয়ারম্যানের পরিবর্তে একজন সদস্যের স্বাক্ষরে জারি হয়েছে। এরপর টানা পাঁচ দিনের ছুটি থাকায় এই সময়ে প্রতিকার চাওয়ারও সুযোগ নেই।
তফসিল অনুযায়ী চূড়ান্ত ভোটার তালিকা প্রকাশ, প্রার্থীদের ব্যালট নম্বর বরাদ্দ ও ভোটকেন্দ্র নির্ধারণসহ সকল প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছিল। সমিতির ৪১৯ জন ভোটারের মধ্যে ১৭৯ জন ঢাকার বাইরের বিভিন্ন জেলার। তাদের অনেকে ইতোমধ্যে যাতায়াতের ব্যবস্থা ও হোটেল বুকিং করেছেন। শেষ মুহূর্তের স্থগিতাদেশে তারা আর্থিক ক্ষতি ও অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছেন। প্রার্থীরাও তফসিল মেনে মাসের পর মাস প্রচারণায় বিপুল অর্থ ও সময় ব্যয় করেছেন, যা এখন অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে। প্রার্থীরা বলছেন, বারবার পরিবর্তন ও স্থগিতাদেশের পর ভোটারদের আবার ভোটকেন্দ্রে আনা একটি বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াবে।
এ সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে ১৯ জন প্রার্থী যৌথভাবে এবং আরও ৬ জন প্রার্থী পৃথকভাবে বাণিজ্যসচিবের কাছে লিখিত আবেদন করেছেন। আবেদনে স্থগিতাদেশ প্রত্যাহার করে নির্ধারিত ২৪ অক্টোবর ভোটগ্রহণ এবং স্থগিতের কারণ ও আইনগত ভিত্তি লিখিতভাবে জানানোর দাবি করা হয়েছে।
সভাপতি পদপ্রার্থী এম এ সাত্তার খান বলেন, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান লাইট ইঞ্জিনিয়ারিং খাতকে অগ্রাধিকার দিয়ে আমদানি কমানো ও রপ্তানি বাড়ানোর স্পষ্ট দিকনির্দেশনা দিয়েছেন। রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরো এই খাতের অ্যাকশন প্ল্যান তৈরি করছে। সরকারের লক্ষ্য পরিষ্কার: দেশে উৎপাদন বাড়বে, আমদানি কমবে।
তিনি বলেন, ঠিক এই সময়ে আমদানিকারকদের একটি গোষ্ঠী যেকোনো উপায়ে সমিতির নেতৃত্ব দখল করতে চাইছে। দেশে মেশিন ও যন্ত্রাংশ তৈরি হলে তাদের আমদানি ব্যবসা কমে যায়। তাই নেতৃত্ব পেলে তারা নিজেদের প্রয়োজনে এই শিল্পকে ধ্বংস করে দেবে, সেই লক্ষ্যেই তারা কাজ করছে। প্রতিদ্বন্দ্বী সভাপতি প্রার্থী মূলত আমদানিকারক এবং ৩ মাস আগে হওয়া সমিতির সবচেয়ে নবীন সদস্য। তার এবং সহযোগী কয়েকজন প্রার্থীর নিজস্ব কারখানা বা সদস্য হওয়ার যোগ্যতা নিয়েও প্রশ্ন রয়েছে।
তিনি আরও বলেন, ভোটারদের রায়ে জিততে পারবেন না বুঝেই তিনি নিজে প্রভাব খাটিয়ে বাণিজ্য মন্ত্রণালয় থেকে ছুটির আগের রাতে নির্বাচন স্থগিত করিয়েছেন। এটি সম্পূর্ণ অবৈধ। আমরা চাই ২৪ অক্টোবরেই ভোট হোক, সিদ্ধান্ত নেবেন ভোটাররা। স্থগিতাদেশ প্রত্যাহার না হলে আমরা সর্বোচ্চ আইনি লড়াই চালিয়ে যাব।