নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা: বাজারে পণ্য ও সেবার দাম যে হারে বাড়ছে, সে হারে বাড়ছে না শ্রমজীবী মানুষের মজুরি। ফলে আয় বাড়লেও বাড়তি খরচ সামলাতে হিমশিম খেতে হচ্ছে সীমিত আয়ের মানুষকে। টানা তিন মাস ধরে দেশে মজুরি বৃদ্ধির হার সার্বিক মূল্যস্ফীতির নিচে রয়েছে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের অর্থনৈতিক সূচক প্রতিবেদন অনুযায়ী, সেপ্টেম্বরে দেশে সার্বিক মূল্যস্ফীতি ছিল ৮ দশমিক ৩৪ শতাংশ। বিপরীতে জাতীয় পর্যায়ে মজুরি বৃদ্ধির হার ছিল ৭ দশমিক ৯০ শতাংশ। অর্থাৎ মূল্যস্ফীতির তুলনায় মজুরি বৃদ্ধির হার কম ছিল শূন্য দশমিক ৪৪ শতাংশীয় পয়েন্ট।
এর আগে জুলাইয়ে ৮ দশমিক ৩২ শতাংশ মূল্যস্ফীতির বিপরীতে মজুরি বেড়েছিল ৮ দশমিক ২২ শতাংশ। আগস্টে ৮ দশমিক ২৬ শতাংশ মূল্যস্ফীতির বিপরীতে মজুরি বৃদ্ধির হার ছিল ৮ দশমিক ০৫ শতাংশ। তিন মাসেই মূল্যস্ফীতির তুলনায় মজুরি বৃদ্ধির হার কমেছে।
খাতভিত্তিক হিসাবেও মজুরি বৃদ্ধির গতি কমেছে। সেপ্টেম্বরে কৃষি খাতে মজুরি বৃদ্ধির হার ছিল ৭ দশমিক ৮৯ শতাংশ, শিল্পে ৭ দশমিক ৮৬ শতাংশ এবং সেবা খাতে ৮ দশমিক ০৭ শতাংশ। আগের মাসের তুলনায় তিনটি খাতেই মজুরি বৃদ্ধির হার কমেছে।
বিভাগভিত্তিক হিসাবে সেপ্টেম্বরে সবচেয়ে কম মজুরি বেড়েছে সিলেটে— ৭ দশমিক ৬১ শতাংশ। চট্টগ্রামে এ হার ছিল ৭ দশমিক ৬৫ শতাংশ। বিপরীতে ঢাকা বিভাগে মজুরি বৃদ্ধির হার ছিল ৮ দশমিক ১১ শতাংশ।
এদিকে সেপ্টেম্বরে খাদ্য মূল্যস্ফীতি বেড়ে ৭ দশমিক ২২ শতাংশে দাঁড়িয়েছে, যা আগস্টে ছিল ৭ দশমিক ০২ শতাংশ। অখাদ্য মূল্যস্ফীতি কিছুটা কমলেও ছিল ৯ দশমিক ৩০ শতাংশ।
সংশ্লিষ্টরা বলছে, মূল্যস্ফীতির তুলনায় মজুরি কম হারে বাড়ায় শ্রমজীবী মানুষের প্রকৃত আয় ও ক্রয়ক্ষমতার ওপর চাপ তৈরি হচ্ছে। ফলে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য ও সেবার বাড়তি ব্যয়ের সঙ্গে তাল মেলানো সীমিত আয়ের পরিবারের জন্য কঠিন হয়ে উঠতে পারে।