সাশ্রয়ী খরচে মার্কিন নাগরিকত্ব ত্যাগের সুযোগ (ভিডিও)
ছবি: জাতীয় অর্থনীতি

জাতীয় অর্থনীতি ডেস্ক: যুক্তরাষ্ট্রের পাসপোর্ট হাতে পাওয়ার জন্য বছরের পর বছর অপেক্ষা করেন লাখ লাখ মানুষ। এই খবর কারও অজানা নয়। তবে নতুন খবর হলো, নিজ দেশের নাগরিকত্ব ছাড়তে চান অনেক আমেরিকান। তাদের দাবি, আইনি প্রক্রিয়ার উচ্চ খরচ নাগরিকত্ব ত্যাগে বাধা হয়ে যাচ্ছে। দর্শক, এই পর্বে জেনে নেবো কেনো নিজ দেশের পাসপোর্ট ছাড়তে চান আমেরিকানদের একটি অংশ। আর কিভাবে খরচের বিষয়টি সমাধান করলো সরকার।  আবারো নতুন তথ্য জানাতে আপনাদের সামনে এলাম সন্দিপা দাস মন্দিরা।

 

গণতন্ত্র আর ব্যক্তি স্বাধীনতার দেশ আমেরিকা। নাগরিকরা চাইলেই পারেন নাগরিকত্ব ছেড়ে দিতে। এতে প্রয়োজন হয় নির্দিষ্ট প্রশাসনিক খরচ। এক দশক ধরে পাসপোর্ট সারেন্ডার করার ফি দুই হাজার ৩৫০ ডলার চলে আসছিলো। এই খরচ চড়া বলে দাবি করে আসছিলেন অনেক নাগরিক। এবার সেই জায়গায় এলো বড় পরিবর্তন। আনুষ্ঠানিকভাবে মার্কিন নাগরিকত্ব ত্যাগের সরকারি ফি প্রায় ৮১ শতাংশ কমিয়েছে ট্রাম্প প্রশাসন। নতুন ফি করা হয়েছে ৪৫০ ডলার। গত এপ্রিল থেকে এই নিয়ম কার্যকর করে মার্কিন স্টেট ডিপার্টমেন্ট। নাগরিকত্ব ত্যাগের আইনি প্রক্রিয়ার গুরুত্বপূর্ণ নথি ‘সার্টিফিকেট অব লস অব ন্যাশনালিটি পেতে সাশ্রয় হবে এক হাজার ৯০০ ডলার।

আচ্ছা, মনে প্রশ্ন আসছে না। কেনো আমেরিকার নাগরিকত্ব ছেড়ে দিতে চান সিটিজেনদের একটি অংশ। বিশ্বজুড়ে আমেরিকানদের একটি অংশ রয়েছে যারা জন্মসূত্রে নাগরিক হয়েও থাকেন না দেশটিতে। তারা বসবাস করেন অন্য কোন দেশে।  তারা অ্যাকসিডেন্টাল আমেরিকান নামে পরিচিত। তবে দেশে না থাকলেও ভিনদেশে থাকা মার্কিন নাগরিকদের নিয়মিত যেতে হয় কর ও আর্থিক ব্যবস্থার জটিল কিছু আইনি বাধ্যবাধকতার মধ্য দিয়ে। বিষয়টি অ্যাকসিডেন্টাল আমেরিকানদের বৃদ্ধি করে ব্যয়। এর থেকে মুক্তি পেতে অনেকেই বেছে নিতে চান নাগরিকত্ব ত্যাগের পথ।

২০১৪ সালে তৎকালীন মার্কিন প্রশাসন নাগরিকত্ব ত্যাগের ফি ৪৫০ ডলার থেকে বাড়িয়ে একলাফে করে নির্ধারণ করে দুই হাজার ৩৫০ ডলার। বিষয়টিতে তীব্র আপত্তি জানায় বিশ্বজুড়ে ছড়িয়ে থাকা মার্কিন নাগরিকদের একটি বড় অংশ। এ নিয়ে অ্যাকসিডেন্টাল আমেরিকানদের মধ্যে তৈরি হয় হতাশা ও উদ্বেগ। চড়া ফির কারণে অনেকেই নাগরিকত্ব ত্যাগ করতে পারছিলেন না। একপর্যায়ে আন্তর্জাতিক সংস্থা ও নাগরিক অধিকার জোট এই নীতি পরিবর্তনের জন্য চাপ সৃষ্টি করে। টানা আন্দোলনের পর অবশেষে সাড়া দেয় মার্কিন স্টেট ডিপার্টমেন্ট।
 
তবে ফি কমানো মানে এই নয় যে মার্কিন পাসপোর্ট ত্যাগ কয়েক মিনিটের খেলা। খরচ কমলেও আগের মতোই বহাল নাগরিকত্ব ত্যাগের মূল আইন। দূতাবাস বা কনস্যুলেটে গিয়ে পাসপোর্ট জমা দিলেই বাতিল হবে না নাগরিকত্ব। নির্ধারিত আইনি পথ, দীর্ঘ শুনানি এবং যাবতীয় শর্ত পূরণ করলেই করা যাবে মার্কিন পাসপোর্ট ত্যাগ।  

—জা. অর্থনীতি/এলএটি