যেভাবে আম্বানিদের পেছনে ফেলছে এই তরুণরা (ভিডিও)
ছবি: জাতীয় অর্থনীতি

জাতীয় অর্থনীতি ডেস্ক: আম্বানি, আদানি কিংবা রতন টাটার মতো শিল্পপতিরা জীবনের মধ্য বয়সে এসে বিশাল সাম্রাজ্য গড়ে তুলেছিলেন। কিন্তু বর্তমান ভারতে ছবিটা অনেকটাই বদলে গেছে। বয়স ৩০ না পেরোতেই হাজার কোটি টাকার সম্পত্তির মালিক হচ্ছেন একদল নতুন প্রজন্মের তরুণ। কোনো পারিবারিক ব্যবসা নয়, কেবল একটি বৈপ্লবিক চিন্তা আর কঠোর পরিশ্রমকে পুঁজি করে তারা চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিচ্ছেন প্রথাগত ধনকুবেরদের।

 

এই তালিকার অন্যতম শীর্ষ নাম অরবিন্দ শ্রীনিবাস। ৩২ বছর বয়সী এই তরুণ আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স বা এআইভিত্তিক সার্চ ইঞ্জিন 'পারপ্লেক্সিটি এআই'-এর সহ-প্রতিষ্ঠাতা ও সিই। আইআইটি মাদ্রাজ ও ইউসি বার্কলে থেকে পড়াশোনা শেষ করে গুগল ও ওপেনএআই-এর মতো প্রতিষ্ঠানে কাজের অভিজ্ঞতা অর্জন করেন তিনি। এরপর সনাতন সার্চ ইঞ্জিনের বিকল্প হিসেবে গড়ে তোলেন পারপ্লেক্সিটি, যা এআইয়ের মাধ্যমে সরাসরি প্রশ্নের সঠিক উত্তর ও উৎস তুলে ধরে। বর্তমানে তার মোট সম্পত্তির পরিমাণ প্রায় ২৮ হাজার ৫০০ কোটি টাকা।

অনলাইন শিক্ষাক্ষেত্রে এক নতুন বিপ্লব ঘটিয়েছেন আলাখ পান্ডে। উত্তরপ্রদেশের প্রয়াগরাজের এই যুবক ২০১৬ সালে মাত্র একটি ইউটিউব চ্যানেল দিয়ে শুরু করেছিলেন 'ফিজিক্স ওয়ালা'। আর্থিক অনটনের কারণে একসময় বাড়ি বিক্রি করে দেওয়া বা পরীক্ষায় ব্যর্থ হওয়া আলাখ পান্ডের লক্ষ্য ছিল সাধারণ শিক্ষার্থীদের কাছে কম খরচে মানসম্মত শিক্ষা পৌঁছে দেওয়া। আজ তার সেই প্রচেষ্টা পরিণত হয়েছে হাজার কোটি টাকার ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানে। প্রায় ১৪ হাজার ৫১০ কোটি টাকার সম্পত্তির মালিক হয়ে তিনি পেছনে ফেলেছেন অনেক বড় তারকাদেরও।

ভারতের কুইক কমার্স খাতকে পুরোপুরি বদলে দিয়েছেন দুই বন্ধু-কাইভাল্য বোহরা ও আদিত পালিচা। স্ট্যানফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের পড়াশোনা ছেড়ে মাত্র ১০ মিনিটে ডেলিভারি দেওয়ার আইডিয়া নিয়ে তারা গড়ে তোলেন 'জেপ্টো'। মাত্র ২২ ও ২৩ বছর বয়সেই তারা নিজেদের প্রতিষ্ঠিত করেছেন সফল উদ্যোক্তা হিসেবে। বর্তমানে কাইভাল্যের সম্পদ প্রায় ৪ হাজার ৪৫০ কোটি টাকা এবং আদিতের সম্পদ ৫ হাজার ৩৫০ কোটি টাকার বেশি।

হসপিটালিটি সেক্টরে বিপ্লব আনা রিতেশ আগরওয়াল মাত্র ১৯ বছর বয়সে শুরু করেছিলেন 'ওওয়াইও রুমস'। ৩২ বছর বয়সে দাঁড়িয়ে তার মালিকানাধীন এই টেক চেইন বিশ্বের অন্যতম বৃহত্তম হোটেল নেটওয়ার্ক। তার বর্তমান সম্পদ প্রায় ১৯ হাজার ৯০০ কোটি টাকা।

অন্যদিকে, সোশ্যাল কমার্স প্ল্যাটফর্ম 'মিশো'-র মাধ্যমে ক্ষুদ্র ও মাঝারি বিক্রেতাদের ক্ষমতায়ন করেছেন ৩৫ বছর বয়সী বিদিত আত্রিয়। জিরো কমিশন মডেলে গড়ে তোলা এই প্ল্যাটফর্মে আজ ১ কোটি ৩০ লাখেরও বেশি উদ্যোক্তা কাজ করছেন, আর বিদিতের সম্পদ পৌঁছেছে প্রায় ৪ হাজার ৫০০ কোটি টাকায়।

তরুণ এই উদ্যোক্তারা প্রমাণ করেছেন, ব্যবসায়িক সফলতার জন্য বয়সের দীর্ঘ অপেক্ষা নয়, প্রয়োজন কেবল সঠিক দূরদর্শিতা ও যুগান্তকারী সমাধান।

শাহরুখের চেয়েও ধনী এই শিক্ষক! চিনে নিন ভারতের তরুণ বিলিয়নেয়ারদের!

আম্বানি কিংবা আদানিরা যেখানে জীবনের মাঝামাঝি এসে ধনকুবের হয়েছেন, সেখানে ভারতের তরুণরা ২০ থেকে ৩০ বছর বয়সেই গড়ে তুলছেন হাজার কোটি টাকার সাম্রাজ্য! ফিজিক্স ওয়ালার প্রতিষ্ঠাতা আলাখ পান্ডে অনলাইন শিক্ষার মাধ্যমে ১৪ হাজার ৫১০ কোটি টাকার মালিক হয়ে চমকে দিয়েছেন সবাইকে। আবার পারপ্লেক্সিটি এআই-এর ৩২ বছর বয়সী সিইও অরবিন্দ শ্রীনিবাসের সম্পত্তি এখন প্রায় ২৮ হাজার ৫০০ কোটি টাকা! অন্যদিকে, স্ট্যানফোর্ডের পড়াশোনা ছেড়ে জেপ্টো গড়ে তোলা ২২ বছরের কাইভাল্য ও ২৩ বছরের আদিত প্রমাণ করেছেন-আইডিয়া শক্তিশালী হলে বয়সের বাধা কোনো ব্যাপারই নয়।

আম্বানিদের টেক্কা দিচ্ছে কারা?

মাত্র ১৯ বছর বয়সে কলেজ ছেড়ে হোটেল বুকিংয়ের সমস্যা মেটাতে কাজ শুরু করেছিলেন রিতেশ আগরওয়াল। আজ ৩২ বছর বয়সে তার ওওয়াইও রুমসের নেটওয়ার্ক বিশ্বজুড়ে ছড়িয়ে পড়েছে, আর তার সম্পদ দাঁড়িয়েছে ১৯ হাজার ১৯৯ কোটি টাকায়! একইভাবে মিশোর বিদিত আত্রিয় ১৩ মিলিয়ন ক্ষুদ্র উদ্যোক্তাকে সঙ্গে নিয়ে গড়ে তুলেছেন ৪,৫০০ কোটি টাকার প্রতিষ্ঠান। আম্বানিদের প্রথাগত ব্যবসার বাইরে গিয়ে প্রযুক্তির শক্তিতে নিজেদের ভাগ্য বদলে ফেলা এই তরুণরা প্রমাণ করছেন-নতুন ভারতের ব্যবসার চালিকাশক্তি এখন আইডিয়া ও দ্রুত বাস্তবায়ন।

—জা. অর্থনীতি/এলএটি