জাতীয় অর্থনীতি ডেস্ক: এক পায়ে সাইকেল চালিয়ে কি পুরো শহর পাড়ি দেওয়া যায়? অসম্ভব মনে হলেও প্রতিদিন ঠিক এটাই করছেন কলেজ শিক্ষার্থী সুলাইমান!
মাত্র পাঁচ বছর বয়সে গাছ থেকে পড়ে ভেঙে যায় তার একটি পা। টাকার অভাবে সময়মতো চিকিৎসা হয়নি। একসময় পা-টি হাঁটুর ওপর থেকে কেটে ফেলতে হয়। যে বয়সে শিশুরা দৌড়ে বেড়ায়, সেই বয়সেই সুলাইমান বুঝে গেলেন, জীবন সবার জন্য সমান নয়।
কিন্তু তিনি হার মানেননি। আজ তিনি ফুডপান্ডার ডেলিভারি কর্মী। রোদ হোক কিংবা বৃষ্টি, এক পায়ে প্যাডেল ঘুরিয়ে মানুষের দরজায় পৌঁছে দেন খাবার। ভারসাম্য রাখা কঠিন, পথ দীর্ঘ, সময় বাঁধা। তবু মুখে লেগে থাকে হাসি।
সুলাইমান বলেন, "কারও কাছে হাত পেতে নয়, নিজের পরিশ্রমে চলতে চাই। যত কষ্টই হোক, পড়াশোনা শেষ করতে চাই।"
নিজের পড়ার খরচ চালানোর পাশাপাশি পাশে দাঁড়ান পরিবারের। সহপাঠীরা তাকে দেখেন শ্রদ্ধার চোখে। তার স্বপ্ন উচ্চশিক্ষা শেষ করে একটি ভালো চাকরি।
প্রতিটি ডেলিভারির সঙ্গে সুলাইমান যেন নিজের স্বপ্নকেও এক ধাপ এগিয়ে নিচ্ছেন। সুলাইমানের সংগ্রামী জীবন আমাদের মনে করিয়ে দেয় যে শারীরিক সীমাবদ্ধতা কখনোই মানুষের প্রকৃত শক্তির মাপকাঠি নয়, বরং অদম্য মনোবলই সাফল্যের মূল চাবিকাঠি। প্রতিকূলতা যতই আসুক, যে সাহস নিয়ে দৃঢ়ভাবে দাঁড়িয়ে থাকতে পারে, তার অগ্রযাত্রা কখনো থেমে যায় না।
পরেরবার কোনো ডেলিভারি কর্মী যখন আপনার দরজায় কড়া নাড়বেন, আপনি কি একবার ভাববেন, তার পেছনে কত বড় একটা যুদ্ধের গল্প লুকিয়ে আছে?
—জা. অর্থনীতি/এলএটি