জুমার দিনে বেশি বেশি দরুদ পড়ুন (ভিডিও)
ছবি: জাতীয় অর্থনীতি

জাতীয় অর্থনীতি ডেস্ক:

 

জুমার দিনে কেন নবীজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের ওপর বেশি বেশি দরুদ পড়তে বলা হয়েছে? দরুদ কি শুধু ভালোবাসা প্রকাশের আমল, নাকি এর রয়েছে বিশেষ ফজিলতও? হাদিসে দরুদ পাঠের এমন কিছু মর্যাদার কথা এসেছে, যা একজন মুমিনের জন্য অত্যন্ত আশাব্যঞ্জক। বিশেষ করে জুমার দিনে দরুদ পাঠের প্রতি আলাদা উৎসাহ দেওয়া হয়েছে। তাহলে দরুদ পাঠের ফজিলত কী এবং কীভাবে বেশি বেশি দরুদ পড়বেন?

জুমার দিন মুসলমানদের জন্য বিশেষ মর্যাদার একটি দিন। এই দিনে নামাজ, কোরআন তিলাওয়াত, দোয়া এবং আল্লাহর জিকিরের পাশাপাশি নবীজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের ওপর বেশি বেশি দরুদ পাঠের প্রতি উৎসাহ দেওয়া হয়েছে।
দরুদ হলো নবীজির প্রতি সালাম ও আল্লাহর কাছে তার ওপর রহমত ও বরকত প্রার্থনা করা।

কোরআনে আল্লাহ তাআলা বলেছেন, তিনি এবং তার ফেরেশতারা নবীর ওপর দরুদ পাঠ করেন। এরপর মুমিনদেরও নবীর ওপর দরুদ ও সালাম পাঠ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। দরুদ পাঠের প্রথম বড় ফজিলত হলো-আল্লাহর পক্ষ থেকে রহমত লাভের আশা। সহিহ মুসলিমে বর্ণিত হাদিসে নবীজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, যে ব্যক্তি তার ওপর একবার দরুদ পাঠ করে, আল্লাহ তার ওপর দশবার রহমত নাজিল করেন।

অর্থাৎ একজন বান্দা যখন আন্তরিকভাবে নবীজির ওপর একবার দরুদ পাঠ করেন, তখন আল্লাহর পক্ষ থেকে তার জন্য দশগুণ রহমতের সুসংবাদ রয়েছে।

দ্বিতীয় ফজিলত-দরুদ গুনাহ মোচন ও মর্যাদা বৃদ্ধির কারণ হতে পারে। হাদিসে দরুদ পাঠের সঙ্গে গুনাহ মোচন এবং মর্যাদা বৃদ্ধির কথা এসেছে। তাই দরুদ শুধু জিহ্বার একটি উচ্চারণ নয়; এটি একজন মুসলমানের জন্য নেক আমলেরও অংশ।

তৃতীয় বিষয়-দোয়ার সঙ্গে দরুদের সম্পর্ক। হাদিসে এসেছে, নবীজির ওপর দরুদ পাঠ করা দোয়ার গুরুত্বপূর্ণ আদবগুলোর একটি। তাই আল্লাহর কাছে কোনো কিছু চাওয়ার আগে আল্লাহর প্রশংসা এবং নবীজির ওপর দরুদ পাঠ করে দোয়া করা সুন্দর আমল।

চতুর্থ ফজিলত-কিয়ামতের দিন নবীজির নৈকট্যের আশা। হাদিসে এসেছে, কিয়ামতের দিন নবীজির সবচেয়ে নিকটবর্তী হবে সেই ব্যক্তি, যে তার ওপর সবচেয়ে বেশি দরুদ পাঠ করেছে। এবার আসি জুমার দিনের বিশেষত্বে। হাদিসে এসেছে, জুমার দিন নবীজির ওপর বেশি বেশি দরুদ পাঠ করতে। কারণ এ দিনে মুমিনদের দরুদ নবীজির কাছে পেশ করা হয়-এমন বর্ণনাও পাওয়া যায়। তাই জুমার দিন শুধু নামাজ আদায় করেই থেমে না থেকে সুযোগ অনুযায়ী বেশি বেশি দরুদ পড়া যেতে পারে।

কোন দরুদ পড়বেন?

নামাজের শেষ বৈঠকে আমরা যে দরুদে ইবরাহিম পড়ি, সেটি সবচেয়ে পরিচিত ও নির্ভরযোগ্য দরুদগুলোর একটি। এছাড়া নবীজির ওপর সালাম ও দরুদ পাঠের অন্যান্য সহিহ বর্ণনাও রয়েছে। অনেকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দরুদ পাঠের সঙ্গে নির্দিষ্ট পার্থিব ফল বা নিশ্চিত অর্থপ্রাপ্তির নানা দাবি করেন। এসব দাবিকে যাচাই না করে ধর্মীয় সত্য হিসেবে প্রচার করা উচিত নয়। কারণ দরুদের ফজিলত সম্পর্কে সহিহ হাদিসে যে সুসংবাদ এসেছে, সেটিই আমাদের জন্য যথেষ্ট।

দরুদ পাঠের উদ্দেশ্য শুধু কোনো সমস্যা দ্রুত সমাধান করানো নয়। বরং এটি নবীজির প্রতি ভালোবাসা প্রকাশ, তার সুন্নাতের সঙ্গে সম্পর্ক গভীর করা এবং আল্লাহর রহমত লাভের আশায় একটি নেক আমল করা। তাই জুমার দিন নিজের জন্য একটি অভ্যাস তৈরি করতে পারেন। কাজের ফাঁকে, হাঁটতে হাঁটতে কিংবা অবসর সময়ে-সুযোগ পেলেই দরুদ পড়ুন।

কারণ একটি ছোট আমলও আল্লাহর কাছে অনেক বড় হয়ে যেতে পারে। আর জুমার দিনে বেশি বেশি দরুদ পড়ার সবচেয়ে সুন্দর দিক হলো-এটি আপনাকে বারবার আপনার প্রিয় নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের কথা স্মরণ করিয়ে দেয়।

জুমার দিনে দরুদ কেন পড়বেন?

জুমার দিনে নবীজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের ওপর বেশি বেশি দরুদ পাঠের প্রতি উৎসাহ দেওয়া হয়েছে। সহিহ হাদিসে এসেছে, কেউ নবীজির ওপর একবার দরুদ পাঠ করলে আল্লাহ তার ওপর দশবার রহমত নাজিল করেন। আরও বর্ণনায় দরুদ পাঠের মাধ্যমে গুনাহ মোচন ও মর্যাদা বৃদ্ধির কথা এসেছে। কিয়ামতের দিন নবীজির নিকটবর্তী হওয়ার ক্ষেত্রেও বেশি দরুদ পাঠের ফজিলত বর্ণিত হয়েছে। তাই জুমার দিনে সুযোগ পেলেই আন্তরিকভাবে দরুদ পড়ার অভ্যাস করা যেতে পারে।

একবার দরুদে দশবার রহমত

দরুদ শুধু নবীজির প্রতি ভালোবাসা প্রকাশের আমল নয়, এর রয়েছে বিশেষ ফজিলতও। কোরআনে মুমিনদের নবীজির ওপর দরুদ ও সালাম পাঠের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। হাদিসে এসেছে, একবার দরুদ পাঠ করলে আল্লাহ দশবার রহমত নাজিল করেন। জুমার দিন বেশি বেশি দরুদ পাঠের প্রতিও নবীজি উৎসাহ দিয়েছেন। নামাজের শেষ বৈঠকে পড়া দরুদে ইবরাহিম একটি গুরুত্বপূর্ণ দরুদ। তাই জুমার দিন অবসর পেলেই দরুদ পড়ুন, তবে যাচাই ছাড়া কোনো নির্দিষ্ট পার্থিব ফলের দাবি ধর্মীয় সত্য হিসেবে প্রচার করবেন না।

—জা. অর্থনীতি/এলএটি