জাতীয় অর্থনীতি ডেস্ক:
শহরের বড় বড় ব্যাংকের ঝাঁ-চকচকে শাখা নয়, দেশের আর্থিক ব্যবস্থার আসল জাদুকর এখন প্রত্যন্ত গ্রামের মানুষ! এজেন্ট ব্যাংকিংয়ে জমা হওয়া মোট আমানতের ৮২ শতাংশেরও বেশি আসছে পল্লী অঞ্চল থেকে। গ্রামের এই জমানো টাকায় কীভাবে বদলে যাচ্ছে গোটা দেশের অর্থনীতির সমীকরণ?
একসময় যে গ্রামের মানুষকে সামান্য সঞ্চয় বা বিদেশ থেকে আসা রেমিট্যান্স তুলতে মাইলের পর মাইল পথ পাড়ি দিয়ে শহরে যেতে হতো, আজ ঘরের পাশেই মিলছে সেই সুবিধা।
কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সর্বশেষ চিত্র বলছে, এজেন্ট ব্যাংকিংয়ে মোট আমানত ৫০ হাজার কোটি টাকার মাইলফলক ছাড়িয়ে ৫১ হাজার কোটি টাকা অতিক্রম করেছে।
এর মধ্যে ৪২ হাজার কোটি টাকারও বেশি আমানত এসেছে একা গ্রামীণ জনপদ থেকে-যা শহরাঞ্চলের তুলনায় প্রায় পাঁচ গুণ বেশি!
নিয়মিত লেনদেনের পরিমাণ দেড় লাখ কোটি টাকার কাছাকাছি পৌঁছেছে, যা প্রমাণ করে সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন অর্থপ্রবাহ এখন পুরোপুরি প্রাতিষ্ঠানিক রূপ নিচ্ছে।
এজেন্ট ব্যাংকিং কেবল টাকা লেনদেনের মাধ্যম নয়, এটি প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর ক্ষমতায়নের বড় হাতিয়ার:
সারা দেশে এজেন্ট ব্যাংকিং অ্যাকাউন্টের সংখ্যা পৌনে তিন কোটি ছুঁইছুঁই।
সবচেয়ে আশাব্যঞ্জক দিক হলো, এসব ব্যাংক অ্যাকাউন্টের প্রায় অর্ধেকই নারীদের নামে পরিচালিত হচ্ছে।
ঘরে বসে ক্ষুদ্র সঞ্চয়, সামাজিক সুরক্ষার সরকারি ভাতা ও প্রণোদনা গ্রহণ এবং রেমিট্যান্স পাওয়ার সুবিধা নারীদের আর্থিকভাবে আত্মনির্ভরশীল করে তুলছে।
প্রত্যন্ত অঞ্চলে একটি পূর্ণাঙ্গ শাখা চালু ও পরিচালনা করতে যেখানে বিশাল পরিচালন ব্যয়ের প্রয়োজন হয়, সেখানে স্বল্প খরচে এজেন্ট আউটলেটের মাধ্যমে সেবা দেওয়া ব্যাংকগুলোর জন্যও অত্যন্ত লাভজনক।
ত্রিশটিরও বেশি বাণিজ্যিক ব্যাংক এখন এই নেটওয়ার্কে যুক্ত হয়ে আমানত সংগ্রহ করছে।
শুধু আমানত গ্রহণই নয়, প্রান্তিক কৃষিজীবী ও ক্ষুদ্র উদ্যোক্তাদের মাঝে ঋণ বিতরণের হারও বাড়ছে-যা স্থানীয় অর্থনীতিতে নতুন প্রাণ সঞ্চার করছে।
গ্যাস-বিদ্যুৎ বা ইউটিলিটি বিল পরিশোধ থেকে শুরু করে মেয়াদি আমানত খোলার মতো বহুমুখী সেবা এখন হাতের নাগালে। যদিও চেক ভাঙানো বা বড় বৈদেশিক বাণিজ্যের সুযোগ এতে নেই, তবুও সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন প্রয়োজনে এটি শতভাগ কার্যকর।
২০১৪ সালে যে ব্যবস্থার সূচনা হয়েছিল কেবল পরীক্ষামূলক উদ্যোগ হিসেবে, এক দশকের ব্যবধানে তা আজ গ্রামীণ অর্থনীতির মেরুদণ্ডে পরিণত হয়েছে। শহরের পুঁজিকেন্দ্রিক ধারা ভেঙে গ্রামের সাধারণ মানুষের ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র সঞ্চয় আজ জাতীয় অর্থনীতিকে জোগাচ্ছে বড় শক্তি। আর্থিক অন্তর্ভুক্তির এই নীরব বিপ্লব আগামী দিনে দেশকে আরও টেকসই ও স্বাবলম্বী অর্থনীতির পথে এগিয়ে নিয়ে যাবে।
শহরে নয়, ব্যাংকের টাকা জমছে গ্রামে!
ব্যাংকিং বিপ্লবে শহরকে পেছনে ফেলল গ্রাম! এজেন্ট ব্যাংকিংয়ের মোট আমানতের ৮২ শতাংশের বেশি এখন গ্রামের মানুষের সঞ্চয়। ৫১ হাজার কোটি টাকার বিশাল আমানতের সিংহভাগই জমা পড়েছে প্রত্যন্ত অঞ্চল থেকে—যা শহরের তুলনায় প্রায় পাঁচ গুণ। সাধারণ মানুষের ক্ষুদ্র সঞ্চয়ই এখন চালিকাশক্তি।
এজেন্ট ব্যাংকিংয়ে নারীদের বাজিমাত
ঘরের কাছে ব্যাংকিং সুবিধা পৌঁছে যাওয়ায় বদলে গেছে নারীর অর্থনৈতিক অবস্থান। দেশে এজেন্ট ব্যাংকিংয়ের পৌনে তিন কোটি অ্যাকাউন্টের প্রায় অর্ধেকই এখন নারী গ্রাহকদের। বিদেশ থেকে পাঠানো রেমিট্যান্স গ্রহণ, সরকারি ভাতা ও ক্ষুদ্র সঞ্চয়ের মাধ্যমে প্রান্তিক নারীরাই এখন গ্রামীণ অর্থনীতির বড় শক্তি।
—জা. অর্থনীতি/এলএটি