জাতীয় অর্থনীতি ডেস্ক:
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআইয়ের দ্রুত বিকাশে বদলে যাচ্ছে বিশ্ব। পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে পৌঁছেছে যে, একসময় যে কম্পিউটার প্রোগ্রামারের চাকরিকে সবচেয়ে নিরাপদ মনে করা হতো, আজ সেটিও মারাত্মক ঝুঁকিতে। এই অনিশ্চিত সময়ে ২০২৬ সালের গ্র্যাজুয়েটদের ভবিষ্যৎ একদিকে যেমন সম্ভাবনাময়, অন্যদিকে তেমনই আশঙ্কাজনক। আগামী এক দশকে আরও বহু পেশা বিলুপ্ত হতে পারে, আর শিক্ষাব্যবস্থায় বড় পরিবর্তনের কোনো বিকল্প থাকছে না। কারণ, শিক্ষা এখন আর জীবনের একটি নির্দিষ্ট ধাপে শেষ হওয়ার বিষয় নয়; পরিবর্তিত প্রযুক্তির সঙ্গে টিকতে হলে নতুন করে শেখার প্রক্রিয়া আজীবন চালিয়ে যেতে হবে।
তবে এই প্রযুক্তিগত অগ্রগতির প্রাথমিক ধাক্কায় সম্পদ ও সুযোগের বৈষম্য তীব্র হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। সেই সঙ্গে এআইয়ের তৈরি ভুয়া লেখা ও ছবির অবাধ বিস্তার সমাজে গভীর বিভ্রান্তি তৈরি করছে, যা প্রকারান্তরে শ্রমবাজার এবং গণতন্ত্রের জন্যও বড় চ্যালেঞ্জ।
কিন্তু এসব আশঙ্কার মধ্যেও সবচেয়ে বড় সত্য হলো-মানুষের জীবনের গভীর অনুভূতি ও অভিজ্ঞতা শুধু প্রযুক্তি দিয়ে তৈরি করা সম্ভব নয়। জেনারেটিভ এআই হয়তো চমৎকার গান বা উপন্যাস লিখে দিতে পারে, কিন্তু তার নিজস্ব কোনো জীবন বা বাস্তব অভিজ্ঞতা নেই। মানুষের আবেগ, সফলতা, ব্যর্থতা এবং কষ্টের অভিজ্ঞতা থেকে যে সম্পর্কের সৃষ্টি হয়, এআই তা কখনো প্রতিস্থাপন করতে পারবে না। তাই মানুষের সঙ্গে মানুষের গভীর সংযোগনির্ভর পেশাগুলো ভবিষ্যতেও শুধু টিকেই থাকবে না, বরং এই ধরনের নতুন নতুন কাজের ক্ষেত্র তৈরি হবে।
শিল্পবিপ্লবের মতো এই নতুন যুগেও চিন্তাশীল মানুষের প্রয়োজন সবচেয়ে বেশি। শুধু প্রযুক্তিগত দক্ষতা অর্জন করলেই চিন্তাশীল হওয়া যায় না; এর জন্য প্রয়োজন সাহিত্য, ইতিহাস চর্চা, নতুন ভাষা শেখা কিংবা বৈচিত্র্যময় অভিজ্ঞতায় নিজেকে সমৃদ্ধ করা। একা কোনো ‘জিনিয়াস’ নয়, বরং মানুষের সম্মিলিত প্রভাবেই বড় পরিবর্তন আসে। তাই এআইয়ের দ্রুত পরিবর্তনের এই সময়ে ভয় পেয়ে তড়িঘড়ি সিদ্ধান্ত না নিয়ে, নিজেদের জ্ঞান, চিন্তাশক্তি ও মানবিক সম্পর্ক গড়ে তোলার সক্ষমতাকেই সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দিতে হবে।
আইটি ইঞ্জিনিয়ারদের দিন শেষ?
যে কোডিং শিখে লাখ টাকার চাকরি পাওয়া যেত, এআই নাকি এখন সেই প্রোগ্রামারদের চাকরিই কেড়ে নিচ্ছে! ২০২৬ সালে দাঁড়িয়ে আপনি কি এখনো পুরনো স্কিল নিয়েই ভাবছেন? জেনে রাখুন, এআই গান লিখতে পারে, কোডিং করতে পারে, কিন্তু মানুষের মতো বাস্তব জীবন অভিজ্ঞতা আর গভীর অনুভূতি তার নেই। প্রযুক্তিগত দক্ষতা তো লাগবেই, কিন্তু আগামী দিনে টিকে থাকতে চাইলে মানবিক সংযোগ, ক্রিটিক্যাল থিংকিং আর জীবনব্যাপী শেখার মানসিকতাই হবে আপনার সবচেয়ে বড় হাতিয়ার। ভয় না পেয়ে আজই নিজেকে বদলান।
এআই তৈরি করছে ভুয়া দুনিয়া!
এআইয়ের ভুয়া ছবি আর তথ্যে ছেয়ে গেছে চারপাশ, যা কেবল শ্রমবাজার নয়, সমাজকেও হুমকির মুখে ফেলছে। এমনকি প্রোগ্রামারদের চাকরিও এখন ঝুলন্ত সুতোয়! কিন্তু তাই বলে কি মানুষের ভবিষ্যৎ শেষ? একদমই নয়। শিল্পবিপ্লবের সময়ও মানুষ নতুন পথ খুঁজে নিয়েছিল। জেনারেটিভ এআই উপন্যাস লিখলেও আপনার বাস্তব অভিজ্ঞতার জায়গা নিতে পারবে না। নতুন ভাষা শিখুন, ইতিহাস জানুন এবং মানুষের সঙ্গে যোগাযোগের ক্ষমতা বাড়ান-এই তিন কৌশলই আপনাকে এআইয়ের যুগেও অপরাজেয় রাখবে।
—জা. অর্থনীতি/এলএটি