জাতীয় অর্থনীতি সারাবাংলা: পৈতৃক সম্পত্তিতে ন্যায্য অধিকার না পাওয়া পর্যন্ত বাবার দাফনে সম্মতি দেবেন না-মেয়ের এমন অনড় অবস্থানে কেটে গেছে দীর্ঘ ১৮ ঘণ্টা। গাইবান্ধার সাদুল্লাপুর উপজেলার ধাপেরহাট ইউনিয়নের বোয়ালীদহ গ্রামে বাবার মরদেহের সামনে সম্পত্তি বণ্টন নিয়ে ভাই-বোনের এমন বিরোধে তীব্র চাঞ্চল্য ও শোকাবহ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে।
সোমবার (১২ অক্টোবর) বিকেল সাড়ে ৪টা পর্যন্ত জানাজা ও দাফন নিয়ে অনিশ্চয়তা চলছিল।
মৃত ব্যক্তির নাম নাজির উদ্দিন বেপারী। তার ছেলে ইদ্রিস আলী এবং মেয়ে হালিমা বেগম।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, সোমবার দুপুরে বার্ধক্যজনিত কারণে নাজির উদ্দিন বেপারী মারা যান। মৃত্যুর পর পারিবারিকভাবে দাফনের আনুষঙ্গিক প্রস্তুতি নেওয়া হয় এবং স্থানীয় মসজিদে মাইকিং করে জানাজার সময় ঘোষণা করা হয়। তবে দাফনের ঠিক পূর্বমুহূর্তে পৈতৃক সম্পত্তিতে নিজের অধিকার দাবি করে দাফনকাজে বাধা দেন মেয়ে হালিমা বেগম।
মেয়ে হালিমার অভিযোগ, বাবা জীবিত ও অসুস্থ থাকার সুযোগ নিয়ে ভাই ইদ্রিস আলী চক্রান্তের মাধ্যমে স্থাবর সব সম্পত্তি নিজের নামে রেজিস্ট্রি করে নেন। এর ফলে তিনি পৈতৃক সম্পত্তি থেকে সম্পূর্ণ বঞ্চিত হন। হালিমা বেগম সাফ জানিয়ে দেন, সম্পত্তিতে তার আইনি ও ন্যায্য হিসাব বুঝিয়ে না দেওয়া পর্যন্ত তিনি দাফনে কোনোভাবেই সম্মতি দেবেন না।
এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে নিহতের স্বজন ও উপস্থিত গ্রামবাসীর মধ্যে অসন্তোষ ও উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ এবং ৬ নম্বর ধাপেরহাট ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদকসহ স্থানীয় নেতৃবৃন্দ বিষয়টি শালিসের মাধ্যমে মীমাংসার উদ্যোগ নেন। ওই সময় হালিমা বেগমকে তাৎক্ষণিকভাবে ১ লাখ ৫০ হাজার টাকা নগদ দিয়ে রফাদফার প্রস্তাব দেওয়া হলেও তিনি তা প্রত্যাখ্যান করেন।
হালিমা বেগম অনড় থেকে জানান, তিনি কোনো নগদ অর্থ চান না; বরং সম্পত্তিতে নিজের আইনি ও ন্যায্য অধিকার প্রতিষ্ঠা চান।
একদিকে ঘরে পড়ে রয়েছে বাবার নিথর মরদেহ, আর অন্যদিকে অধিকার আদায়ে মেয়ের এমন অনড় অবস্থান-এমন হৃদয়বিদারক দৃশ্যে পুরো এলাকায় শোক ও বিষাদ নেমে এসেছে। তবে জালিয়াতি বা জমি হস্তান্তরের অভিযোগের বিষয়ে ভাই ইদ্রিস আলীর তাৎক্ষণিক কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি। স্থানীয়দের মতে, সংশ্লিষ্ট দলিলপত্র নিরপেক্ষভাবে যাচাই-বাছাই করা হলেই বিরোধের আসল সত্যতা উন্মোচিত হবে।
—জা. অর্থনীতি/এলএটি