ড. শহীদুল জাহীদ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ব্যবসায় শিক্ষা অনুষদের ব্যাংকিং অ্যান্ড ইন্স্যুরেন্স বিভাগের অধ্যাপক ও বিভাগীয় সভাপতি। তিনি ব্যাংক, অর্থনীতি ও আর্থিক খাত বিষয়ে একজন গবেষক ও অর্থনৈতিক বিশ্লেষক। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ব্যাংকিংয়ে এমবিএ ও ব্যাংকিং অ্যান্ড ফাইন্যান্সে বিবিএ সম্পন্ন করেন। তিনি জাপানের তোহোকু বিশ্ববিদ্যালয়ের গ্র্যাজুয়েট স্কুল অব ইকোনমিকস অ্যান্ড ম্যানেজমেন্ট থেকে অর্থনীতিতে পিএইচডি ডিগ্রি অর্জন করেছেন। এছাড়া ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ব্যুরো অব বিজনেস রিসার্চের (বিবিআর) চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। তিনি ইউনিয়ন ব্যাংক পিএলসির স্বতন্ত্র পরিচালক ও ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা কমিটির সদস্য ছিলেন। তিনি অর্থ মন্ত্রণালয়ের আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের দুর্যোগ ঝুঁকি অর্থায়ন বিষয়ক কার্যক্রম এবং বিমা উন্নয়ন ও নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষের গবেষণা কমিটির সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন। অত্যন্ত সাবলীল ভাষায় লিখিত ‘অর্থনীতির বহুবচন’ তার অন্যতম পাঠকপ্রিয় গ্রন্থ। সম্প্রতি ব্যাংক খাতের বর্তমান অবস্থা, খেলাপি ঋণের উচ্চহার, খেলাপি ঋণ বৃদ্ধির পেছনে ঋণ অনুমোদনে অনিয়ম, দুর্নীতি এবং ব্যাংক খাতে এত দিনেও কেন সুশাসন প্রতিষ্ঠা না হওয়াসহ নানা বিষয়ে কথা বলেছেন জাতীয় অর্থনীতির সঙ্গে।
সাক্ষাৎকার নিয়েছেন দিদারুল হক
জাতীয় অর্থনীতি: বাংলাদেশের ব্যাংক খাতের বর্তমান সামগ্রিক অবস্থা কী? খেলাপি ঋণ, মূলধন ঘাটতি, তারল্য সংকট ও আমানতকারীদের আস্থার দিক থেকে খাতটি এখন কী ধরনের চ্যালেঞ্জের মুখে রয়েছে?
ড. শহীদুল জাহীদ: বাংলাদেশের ব্যাংক খাত বর্তমানে একটি গভীর সংকটকাল অতিক্রম করছে। স্বাধীনতার পর থেকে এ দেশের ব্যাংকিং খাতের বিকাশ ধারাবাহিকভাবে এগিয়েছে। বিশেষ করে আশির দশকের শুরুতে বেসরকারি উদ্যোগে ব্যাংক প্রতিষ্ঠার অনুমতি দেওয়ার মধ্য দিয়ে এ খাতে নতুন গতি সঞ্চার হয়। পরবর্তী সময়ে বিভিন্ন প্রজন্মের ব্যাংক প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। সব মিলিয়ে দীর্ঘদিন ধরে দেশে প্রায় ৬২টি বাণিজ্যিক ব্যাংক কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছিল। তবে ব্যাংক খাতের এ দীর্ঘ পথচলায় বর্তমানের মতো তীব্র আস্থাহীনতার পরিস্থিতি খুব একটা দেখা যায়নি।
বর্তমানে এ খাতে সুশাসনের ঘাটতি প্রকট হয়ে উঠেছে। পাশাপাশি তারল্যসংকট, খেলাপি ঋণের উচ্চহার এবং ঋণ ব্যবস্থাপনায় অনিয়ম ব্যাংকগুলোর আর্থিক ভিত্তিকে দুর্বল করে তুলেছে। সম্প্রতি প্রকাশিত সরকারি পরিসংখ্যানেও খেলাপি ঋণের যে চিত্র উঠে এসেছে, তা অত্যন্ত উদ্বেগজনক। এ পরিস্থিতিতে নিয়ন্ত্রক সংস্থাকে কয়েকটি ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদ ভেঙে দেওয়ার মতো পদক্ষেপ নিতে হয়েছে। ব্যাংক খাতের অনিয়ম ও দুর্নীতির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট বেশ কয়েকজন ব্যাংকারের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে; তাদের কেউ কেউ দেশ ছেড়েছেন, আবার কেউ কেউ কারাবন্দি রয়েছেন। সব মিলিয়ে সুশাসনের ঘাটতি, আর্থিক দুর্বলতা ও আমানতকারীদের আস্থার সংকট বাংলাদেশের ব্যাংক খাতকে একটি কঠিন পরিস্থিতির মুখে দাঁড় করিয়েছে।
জাতীয় অর্থনীতি: খেলাপি ঋণের উচ্চহার ব্যাংক খাতের জন্য কতটা ঝুঁকিপূর্ণ? খেলাপি ঋণ বৃদ্ধির পেছনে ঋণ অনুমোদনে অনিয়ম, রাজনৈতিক প্রভাব, দুর্বল তদারকি ও ঋণ আদায়ে ব্যর্থতার ভূমিকা কতটা?
ড. শহীদুল জাহীদ: আন্তর্জাতিকভাবে খেলাপি ঋণের গড় হার প্রায় ২ শতাংশ হিসেবে বিবেচিত হলেও বাংলাদেশে এ হার ৩২ শতাংশ ছাড়িয়ে গেছে। অর্থাৎ, বিতরণ করা প্রতি ১০০ টাকা ঋণের বিপরীতে উল্লেখযোগ্য পরিমাণ অর্থ আদায় হচ্ছে না। দক্ষিণ এশিয়ার ভারত, পাকিস্তান, শ্রীলঙ্কা, নেপাল ও ভুটানের মতো দেশেও খেলাপি ঋণের হার অনেক ক্ষেত্রে এক অঙ্কের মধ্যে রয়েছে। বাংলাদেশের বর্তমান পরিস্থিতি তাই অত্যন্ত উদ্বেগজনক। তবে ব্যাংকভেদে এ হারে বড় ধরনের পার্থক্য রয়েছে। কোনো ব্যাংকের খেলাপি ঋণ তুলনামূলক কম হলেও কোনো কোনো ব্যাংকে তা ৯০ থেকে ৯৫ শতাংশ কিংবা তারও বেশি।
এক সময় হলমার্ক, বিসমিল্লাহ গ্রুপ ও বেসিক ব্যাংকের ঋণ কেলেঙ্কারির মতো ঘটনাগুলো মূলত রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকের সুশাসন ও ঋণ ব্যবস্থাপনার দুর্বলতাকে সামনে এনেছিল। কিন্তু সাম্প্রতিক সময়ে সংকট রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকের গণ্ডি ছাড়িয়ে বেসরকারি বাণিজ্যিক ব্যাংক এবং ইসলামি ধারার ব্যাংকগুলোতেও ছড়িয়ে পড়েছে। বিশেষ করে ইসলামী ব্যাংক খাতের সংকট উদ্বেগের নতুন মাত্রা যোগ করেছে। ধর্মীয় মূল্যবোধ ও সুদভিত্তিক ব্যাংকিংয়ের বিকল্প হিসেবে এ ব্যবস্থার প্রতি মানুষের যে আস্থা ও আগ্রহ তৈরি হয়েছিল, তা দেশের আর্থিক খাতের বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। এক সময় ইসলামী ব্যাংকগুলো প্রবাসী আয় সংগ্রহসহ বিভিন্ন আর্থিক সূচকে উল্লেখযোগ্য সাফল্যও দেখিয়েছে। কিন্তু উচ্চ খেলাপি ঋণ ও সুশাসনের ঘাটতি এ খাতের অর্জনকেও প্রশ্নের মুখে ফেলেছে।
বর্তমানে রাষ্ট্রায়ত্ত, বেসরকারি ও ইসলামী— সব ধরনের ব্যাংকের প্রতি আমানতকারীদের আস্থা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। সংকটাপন্ন কয়েকটি ইসলামী ব্যাংক একীভূত করে সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংক গঠনের উদ্যোগও পরিস্থিতির গভীরতা নির্দেশ করে।
মূলত বাণিজ্যিক ব্যাংকের দায়িত্ব হলো আমানত সংগ্রহ, আমানতের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং নিয়ম মেনে সেই অর্থ ঋণ ও বিনিয়োগে ব্যবহার করে তা মুনাফাসহ ফেরত পাওয়া। কিন্তু ঋণ আদায় ব্যাহত হলে ব্যাংকের তারল্য ও আমানত ফেরত দেওয়ার সক্ষমতা দুর্বল হয়। ফলে উচ্চ খেলাপি ঋণ শুধু ব্যাংকের আর্থিক স্থিতিশীলতাকেই নয়, পুরো ব্যাংক ব্যবস্থার মৌলিক ভিত্তি— আমানতকারীদের আস্থাকেও মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করছে।
এই পরিস্থিতি থেকে উত্তরণে ঋণ অনুমোদনে স্বচ্ছতা, রাজনৈতিক ও প্রভাবশালী মহলের হস্তক্ষেপ বন্ধ, কার্যকর তদারকি এবং ইচ্ছাকৃত ঋণখেলাপিদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা জরুরি। একইসঙ্গে ঋণ পুনরুদ্ধার ও ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদের জবাবদিহি নিশ্চিত করতে হবে। অন্যথায় খেলাপি ঋণের বোঝা বাড়ার পাশাপাশি ব্যাংকিং খাতের প্রতি জনগণের আস্থার সংকট আরও গভীর হবে।
জাতীয় অর্থনীতি: ব্যাংক খাতে সুশাসন প্রতিষ্ঠায় এতদিনের উদ্যোগ কেন প্রত্যাশিত ফল দেয়নি? পরিচালনা পর্ষদ, ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ ও নিয়ন্ত্রক সংস্থার জবাবদিহি নিশ্চিত করতে কী ধরনের সংস্কার প্রয়োজন?
ড. শহীদুল জাহীদ: ব্যাংক খাতে সুশাসনের ঘাটতি একদিনে তৈরি হয়নি। সুশাসন প্রতিষ্ঠার মূল শর্ত হলো— একটি কার্যকর ব্যবস্থাপনা কাঠামো, যেখানে ব্যক্তি বা গোষ্ঠীর খামখেয়ালিপনা, স্বজনপ্রীতি ও স্বার্থের দ্বন্দ্বের পরিবর্তে আইন, বিধিবিধান ও জনস্বার্থ প্রাধান্য পাবে। কিন্তু বাংলাদেশের ব্যাংক খাতে এ ব্যবস্থার দুর্বলতা তৈরি হয়েছে একাধিক পক্ষের সম্মিলিত ব্যর্থতায়।
ব্যাংক খাতের সঙ্গে অর্থ মন্ত্রণালয়, বাংলাদেশ ব্যাংক, পরিচালনা পর্ষদ, ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ, উদ্যোক্তা ও সাধারণ শেয়ারহোল্ডার এবং আমানতকারীদের স্বার্থ জড়িত। এতগুলো পক্ষের উপস্থিতি সত্ত্বেও সুশাসনের ঘাটতি তৈরি হওয়া প্রমাণ করে, তদারকি ও জবাবদিহির কাঠামো কার্যকরভাবে কাজ করেনি। ইচ্ছাকৃত ঋণখেলাপি, ঝুঁকিপূর্ণ ব্যবসায়ীদের অনৈতিক তৎপরতা এবং ঋণ অনুমোদনে অনিয়মের পাশাপাশি ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ ও পরিচালনা পর্ষদের দায়ও রয়েছে। কোনো ঋণগ্রহীতা অনৈতিক প্রস্তাব দিলেও ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ এবং পরিচালনা পর্ষদ দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করলে অনিয়ম প্রতিরোধ করা সম্ভব।
এখানে বাংলাদেশ ব্যাংকের তদারকির বিষয়টিও গুরুত্বপূর্ণ। ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদের সভার কার্যবিবরণী ও সিদ্ধান্ত কেন্দ্রীয় ব্যাংকে পাঠানো হয়। ঋণ অনুমোদন, জামানত মূল্যায়ন ও বিনিয়োগসংক্রান্ত বিভিন্ন তথ্যও নিয়ন্ত্রক সংস্থার কাছে থাকে। এত তথ্য ও তদারকি কাঠামো থাকার পরও যখন খেলাপি ঋণ, জামানতবিহীন ঋণ এবং অতিমূল্যায়িত বিনিয়োগের মতো অনিয়ম বাড়ে, তখন প্রশ্ন ওঠে—নিয়ন্ত্রক সংস্থা যথাযথভাবে দায়িত্ব পালন করেছে কি না। কোথাও অনিয়ম শনাক্ত করার পরও ব্যবস্থা না নেওয়া হয়ে থাকলে তার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের জবাবদিহি নিশ্চিত করতে হবে। অর্থাৎ, এ সংকটের পেছনে শুধু ঋণগ্রহীতা নয়, নীতিনির্ধারণী পর্যায় থেকে শুরু করে ব্যাংকের পরিচালনা ও তদারকির সঙ্গে যুক্ত বিভিন্ন পক্ষের দায় রয়েছে।
এ অবস্থা থেকে উত্তরণে প্রথমেই আইনের শাসন ও প্রাতিষ্ঠানিক জবাবদিহি নিশ্চিত করতে হবে। যেসব উদ্যোক্তা বা পরিচালক নিজেদের স্বার্থে ব্যাংককে ঝুঁকির মুখে ফেলেছেন, তাদের ব্যাংক পরিচালনায় পুনরায় যুক্ত করার ক্ষেত্রে সতর্ক থাকতে হবে। পাশাপাশি পরিচালনা পর্ষদে স্বতন্ত্র পরিচালকদের সংখ্যা ও কার্যকর ভূমিকা বাড়ানো প্রয়োজন। বিশেষ করে নিরীক্ষা, ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা ও নির্বাহী কমিটিতে স্বতন্ত্র পরিচালকদের নেতৃত্ব নিশ্চিত করা যেতে পারে। তাদের মতামত যেন শুধু আনুষ্ঠানিকতায় সীমাবদ্ধ না থাকে, সে জন্য সিদ্ধান্ত গ্রহণের প্রক্রিয়ায় কার্যকর ভূমিকা রাখার সুযোগও থাকতে হবে।
তবে সৎ ও দায়িত্বশীল উদ্যোক্তাদের ভূমিকাও গুরুত্বপূর্ণ। যেসব ব্যাংক স্বার্থের দ্বন্দ্ব এড়িয়ে ব্যবস্থাপনাকে পেশাগত স্বাধীনতা দিয়েছে, তাদের চর্চা অনুসরণ করা যেতে পারে। সর্বোপরি, রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক প্রভাবমুক্ত তদারকি, অনিয়মের জন্য দায়ী ব্যক্তিদের জবাবদিহি এবং আমানতকারীদের স্বার্থ সুরক্ষার ব্যবস্থা গড়ে তুলতে হবে। ব্যক্তি নয়, আইন ও প্রাতিষ্ঠানিক নিয়মের ভিত্তিতে ব্যাংক পরিচালনা নিশ্চিত করা গেলেই সুশাসনের ঘাটতি কাটিয়ে ওঠা সম্ভব।
জাতীয় অর্থনীতি: দুর্বল ও সংকটে থাকা ব্যাংকগুলোর ভবিষ্যৎ কী হওয়া উচিত? একীভূতকরণ, পুনর্গঠন, নতুন মূলধন সরবরাহ নাকি প্রয়োজনে অবসায়ন—কোন পরিস্থিতিতে কোন পদক্ষেপ কার্যকর হতে পারে?
ড. শহীদুল জাহীদ: বাংলাদেশ মুক্তবাজার অর্থনীতিতে বিশ্বাস করে। এ অর্থনীতির মূলনীতি হলো, যে প্রতিষ্ঠান সক্ষমতা ও দক্ষতার মাধ্যমে বাজারে টিকে থাকার যোগ্যতা প্রমাণ করতে পারবে, তার টিকে থাকার সুযোগ থাকবে। কোনো প্রতিষ্ঠান যদি দীর্ঘদিন ধরে তার অংশীজনদের জন্য মূল্য সৃষ্টি করতে ব্যর্থ হয়, তাহলে শুধু টিকিয়ে রাখার জন্য সেটিকে বাঁচিয়ে রাখার যৌক্তিকতা নেই।
বর্তমানে বাংলাদেশের ব্যাংক খাতে খেলাপি ঋণের পরিমাণ ৬ লাখ কোটি টাকা ছাড়িয়েছে, যা চলতি অর্থবছরের রাজস্ব আহরণের লক্ষ্যমাত্রা ৫ লাখ ৯৫ হাজার কোটি টাকার চেয়েও বেশি। অন্যদিকে ব্যাংক খাতে মূলধন ঘাটতি ২ লাখ কোটি টাকার ওপরে। অনেক ব্যাংকের মূলধন পর্যাপ্ততার হার নেতিবাচক পর্যায়ে নেমেছে। আমানতকারীরা অর্থ ফেরত পেতে ভোগান্তিতে পড়ছেন, কোথাও কোথাও বিক্ষোভও করছেন। এ পরিস্থিতি ব্যাংকগুলোর আর্থিক দুর্বলতার পাশাপাশি সুশাসন ও তদারকির ঘাটতিও স্পষ্ট করে।
প্রশ্ন হলো, এসব ব্যাংককে বাঁচিয়ে রাখতে সরকার কত দিন জনগণের করের অর্থ ব্যয় করবে? সরকার ইতোমধ্যে বিভিন্নভাবে সহায়তা দিয়েছে। কিন্তু রাষ্ট্রের আর্থিক সক্ষমতারও সীমাবদ্ধতা রয়েছে। জ্বালানি আমদানি, দারিদ্র্যবিমোচন, কর্মসংস্থান সৃষ্টি, সামাজিক সুরক্ষা এবং মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণের মতো গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি দুর্বল ব্যাংকগুলোর বিপুল আর্থিক দায় বহন করা সরকারের জন্য কঠিন।
আমার মতে, প্রতিটি ব্যাংকের ভবিষ্যৎ নির্ধারণে আগে একটি স্বাধীন ও বাস্তবভিত্তিক সম্ভাব্যতা সমীক্ষা করা প্রয়োজন। কোনো ব্যাংক পাঁচ থেকে ১০ বছরের মধ্যে ঘুরে দাঁড়ানোর বাস্তবসম্মত পরিকল্পনা দিতে পারলে শর্তসাপেক্ষে পুনর্গঠন, মূলধন সহায়তা কিংবা একীভূতকরণের বিষয় বিবেচনা করা যেতে পারে। তবে সেই সহায়তার সঙ্গে জবাবদিহি, সুশাসন ও ঋণ আদায়ের সুস্পষ্ট শর্ত থাকতে হবে।
অন্যদিকে কোনো ব্যাংকের পুনরুদ্ধারের বাস্তবসম্মত সম্ভাবনা না থাকলে শুধু জনগণের অর্থ ব্যয় করে সেটিকে অনির্দিষ্টকাল টিকিয়ে রাখার যৌক্তিকতা নেই। সে ক্ষেত্রে আমানতকারীদের স্বার্থ ও আর্থিক স্থিতিশীলতা রক্ষার ব্যবস্থা করে আইনানুগ অবসায়নের পথও বিবেচনা করতে হবে। মূল কথা, সক্ষম ব্যাংককে পুনরুদ্ধারে সহায়তা এবং অকার্যকর ব্যাংকের ক্ষেত্রে দায় নির্ধারণ ও সুশৃঙ্খল সমাধান— এ নীতির ভিত্তিতেই সিদ্ধান্ত নেওয়া উচিত।