আন্তর্জাতিক ডেস্ক: পশ্চিমবঙ্গের মেদিনীপুরে বিয়ের কয়েক মাসের মধ্যেই এক তরুণীর অস্বাভাবিক মৃত্যুকে কেন্দ্র করে চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। বিলাসবহুল বিএমডব্লিউ কেনার জন্য বাবার কাছ থেকে ১০ লাখ টাকা আনার চাপ এবং দাম্পত্য কলহের অভিযোগ তুলেছে নিহতের পরিবার। এ ঘটনায় তরুণীর স্বামী ও শ্বশুরকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। তবে এটি হত্যা, নাকি আত্মহত্যা-তা এখনো নিশ্চিত নয়। ঘটনার তদন্ত চলছে।
মৃত তরুণীর নাম স্নেহা চক্রবর্তী (২৫)। তার বাবার নাম ধ্রুব চক্রবর্তী। তিনি কলকাতা পুলিশের লালবাজারে কর্মরত। স্নেহার বাবার বাড়ি মেদিনীপুর শহরের ডাকবাংলো রোড এলাকায়। অন্যদিকে, তার শ্বশুরবাড়ি পশ্চিম মেদিনীপুরের যমুনাবালি এলাকায়। স্বামী রণদীপ জানা বালু ও পরিবহন ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত পরিবারের সদস্য।
পরিবারের দাবি, দীর্ঘদিনের প্রেমের সম্পর্কের পর দুই পরিবারের সম্মতিতে তাদের বিয়ে হয়। বিয়ের সময় শ্বশুরবাড়ির চাহিদা অনুযায়ী যৌতুকও দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু বিয়ের পর থেকেই স্নেহার ওপর মানসিক ও শারীরিক নির্যাতন চালানো হচ্ছিল বলে অভিযোগ করেছেন তার বাবা। মেয়ের সংসার টিকিয়ে রাখার আশায় দুই পরিবারের মধ্যে একাধিকবার সমঝোতার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল বলেও জানান তিনি।
ধ্রুব চক্রবর্তীর অভিযোগ, সম্প্রতি বিএমডব্লিউ কেনা নিয়ে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে বিরোধ দেখা দেয়। বাবার কাছ থেকে ১০ লাখ টাকা এনে দেওয়ার জন্য স্নেহাকে চাপ দেওয়া হচ্ছিল। তার দাবি, স্নেহা এই প্রস্তাবে রাজি না হওয়ায় অশান্তি আরও বাড়ে। ঘটনার আগের রাতেও তাকে মারধর করা হয়েছিল বলে অভিযোগ করেছেন তিনি। তবে এসব অভিযোগের সত্যতা এখনো স্বাধীনভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
গত বৃহস্পতিবার যমুনাবালিতে শ্বশুরবাড়ি থেকে স্নেহার ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করা হয়। শ্বশুরবাড়ির সদস্যদের দাবি, তিনি আত্মহত্যা করেছেন। কিন্তু মেয়ের মৃত্যুকে আত্মহত্যা বলে মানতে নারাজ তার বাবা। তার সন্দেহ, স্নেহাকে হত্যা করে ঘটনাটি আত্মহত্যা হিসেবে দেখানোর চেষ্টা করা হয়েছে। এ ঘটনায় মেদিনীপুর কোতোয়ালি থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন তিনি। 
অভিযোগের ভিত্তিতে পুলিশ রণদীপ জানা ও তার বাবা রতন জানাকে গ্রেপ্তার করেছে। ভারতীয় সংবাদমাধ্যমের সর্বশেষ প্রতিবেদন অনুযায়ী, মেদিনীপুর আদালত রণদীপকে চার দিনের পুলিশি হেফাজত এবং রতন জানাকে ১৪ দিনের বিচার বিভাগীয় হেফাজতে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন।
পুলিশ মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য পাঠিয়েছে। তদন্তকারীরা মৃত্যুর প্রকৃত কারণ, নির্যাতনের অভিযোগ এবং ঘটনার আগের সময়ের পরিস্থিতি খতিয়ে দেখছেন। নিহতের পরিবার অভিযুক্তদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করেছে। এখন ময়নাতদন্তের ফলাফল ও তদন্তের অগ্রগতির দিকেই তাকিয়ে রয়েছে দুই পরিবারের সদস্যসহ স্থানীয় বাসিন্দারা। অভিযোগ প্রমাণিত হলে এ ঘটনায় আইনি পদক্ষেপের পরবর্তী ধাপ নির্ধারিত হবে।
জা.অর্থনীতি/এসআই