মেসির বিদায়ী ম্যাচে প্রতিশ্রুতি ভঙ্গ আর্জেন্টিনার
ছবি: সংগৃহীত

জাতীয় অর্থনীতি স্পোর্টস ডেস্ক: আর্জেন্টাইন ফুটবল তারকা লিওনেল মেসির বিদায়ী ম্যাচ ঘিরে এক অনাকাঙ্ক্ষিত বিতর্ক তৈরি হয়েছে। বিশ্বজয়ী এই তারকার বিশেষ স্মরণীয় ম্যাচে অংশ নিতে বেনিন ফুটবল দল কোনো ধরনের অর্থ দাবি না করলেও, তাদের দেওয়া একটি মাত্র শর্ত আর্জেন্টিনা ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন (এএফএ) রাখেনি বলে অভিযোগ উঠেছে। বিষয়টি নিয়ে আন্তর্জাতিক ক্রীড়াঙ্গনে চরম অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন বেনিনের প্রধান কোচ গার্নোট রোর।

বুয়েনস আইরেসের ঐতিহাসিক এস্তাদিও মনুমেন্টাল স্টেডিয়ামে উপস্থিত ৮৫ হাজার দর্শকের সামনে সম্প্রতি বেনিনকে ৩-০ ব্যবধানে পরাজিত করে আর্জেন্টিনা। ম্যাচের ফলাফল বা পরাজয়ের গ্লানির চেয়ে মাঠের বাইরের ঘটনাতেই বেশি ক্ষুব্ধ ও হতাশ আফ্রিকার দেশটি। বেনিনের কোচ গার্নোট রোর অভিযোগ করেছেন, ম্যাচ খেলার বিনিময়ে তাদের কোনো অর্থ কিংবা ম্যাচ ফি নেওয়া হয়নি। তাদের একমাত্র শর্ত ছিল খেলা শেষে দলের খেলোয়াড়েরা মেসির সঙ্গে নিজস্বী (সেলফি) তুলতে পারবেন এবং জার্সি বিনিময় করবেন। শুরুতে আর্জেন্টিনা এতে সম্মত হলেও পরবর্তীতে সেই প্রতিশ্রুতি রাখা হয়নি।

একটি আন্তর্জাতিক রেডিও সাক্ষাৎকারে গার্নোট রোর নিজের তিক্ত অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরে বলেন, আমরা মাঠে আমাদের সর্বস্ব দিয়ে খেলেছিলাম। কিন্তু ম্যাচ শেষে আর্জেন্টিনার পক্ষ থেকে আমাদের কোনো সম্মান প্রদর্শন করা হয়নি। না দেওয়া হয়েছে মেসির সঙ্গে সেলফি তুলতে, না পাওয়া গেছে কোনো জার্সি। আর্জেন্টিনা দলের ড্রেসিংরুম তো দূরের কথা, মাঠের টানেলেও আমাদের ঢুকতে দেওয়া হয়নি।

বেনিনের কোচ জানান, মূলত নিরাপত্তা বলয়ের অহেতুক কড়াকড়ির কারণে এই অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করে আরও বলেন, আমাদের দলের কয়েকজন ফুটবলার জার্সি বদল করার জন্য এগিয়ে গিয়েছিল, কিন্তু নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা প্রহরীরা কাউকেই ভেতরে প্রবেশ করতে দেয়নি। আমরা বারবার আয়োজকদের সঙ্গে কথা বলার চেষ্টা করেছি। আগে থেকে মৌখিক চুক্তি ও প্রতিশ্রুতি থাকা সত্ত্বেও শেষ পর্যন্ত তা রাখা হয়নি।

তবে পুরো ঘটনায় একমাত্র ব্যতিক্রমী ঘটনাটি ঘটেছে প্রতিপক্ষ কোচ লিওনেল স্কালোনির সৌজন্যমূলক আচরণে। রোর জানান, তারা আর্জেন্টাইন দলকে শুভেচ্ছা হিসেবে একগুচ্ছ ফুল উপহার দিয়েছিলেন, যদিও তা মেসির কাছে পৌঁছেছে কি না তা নিশ্চিত নয়। তবে ২০১৮ সালের একটি জার্সি আর্জেন্টাইন কোচ স্কালোনির কাছে পাঠালে তিনি তাতে অটোগ্রাফ বা স্বাক্ষর করে ফেরত পাঠান। পুরো সফর থেকে এটুকুই একমাত্র প্রাপ্তি বলে আফসোস করেন বেনিনের কোচ।

এদিকে বেনিন ফুটবল ফেডারেশন এই ঘটনার পর সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ক্ষোভ প্রকাশ করে একটি বিজ্ঞপ্তি জারি করেছে। সেখানে বলা হয়েছে, কোনো আর্থিক দাবি না রেখে কেবল পেশাদার সৌজন্যতার খাতিরে ফুটবলাররা খেলতে সম্মত হয়েছিলেন, কিন্তু স্বাগতিক পক্ষের আচরণে তারা ভীষণ মর্মাহত।

আর বিতর্কের জেরে আর্জেন্টিনা ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন এবং স্টেডিয়াম নিরাপত্তা টিমের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ম্যাচ শেষে গ্যালারিতে অতিরিক্ত ভিড় এবং তারকা ফুটবলারদের সুরক্ষাজনিত প্রোটোকলের কারণে নিরাপত্তা কর্মীদের সাময়িক কঠোর পদক্ষেপ নিতে হয়েছিল। কোনো দলকে অসম্মান করার উদ্দেশ্য তাদের ছিল না।