ফিরোজ শাহ, জামালপুর: জামালপুরের ৩ উপজেলায় দীর্ঘদিন ধরে সহকারী কমিশনার (ভূমি) বা এসিল্যান্ড না থাকায় ব্যাহত হচ্ছে ভূমি সেবা।
ইসলামপুর, দেওয়ানগঞ্জ ও মাদারগঞ্জ উপজেলা ভূমি অফিসে গুরুত্বপূর্ণ এ পদ শূন্য থাকায় জমিজমা সংক্রান্ত বিভিন্ন কাজে ভোগান্তিতে পড়েছেন সেবাগ্রহীতারা। দূর-দূরান্ত থেকে ভূমি অফিসে এসে কাঙ্ক্ষিত সেবা না পেয়ে ফিরে যেতে হচ্ছে অনেককে।
জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, বদলিজনিত কারণে ইসলামপুর উপজেলা ভূমি অফিসের সহকারী কমিশনার (ভূমি) পদটি গত ৮ আগস্ট থেকে, দেওয়ানগঞ্জে ২৫ আগস্ট থেকে এবং মাদারগঞ্জে ২২ সেপ্টেম্বর থেকে শূন্য রয়েছে।
‘প্রশাসন সাংবাদিকদের প্রতিপক্ষ নয়, পারস্পরিক সমন্বয় জরুরি’
সহকারী কমিশনার (ভূমি) না থাকায় নামজারি, জমির মালিকানা পরিবর্তন, মিউটেশন, খারিজ সংশোধন, খারিজ বাতিলের মামলা ও শুনানিসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ ভূমি সেবা ব্যাহত হচ্ছে। এতে দিনের পর দিন ভূমি অফিসে ঘুরেও অনেক সেবাগ্রহীতা তাদের কাজ শেষ করতে পারছেন না।
ইসলামপুর উপজেলার চিনাডুলী ইউনিয়নের চরনন্দনের পাড় এলাকার বাবলু সরকার বলেন, প্রায় ২ মাস ধরে ভূমি অফিসে কর্মকর্তা না থাকায় তিনি একটি খারিজের সংশোধনী করতে পারছেন না। দ্রুত এ সমস্যার সমাধান চান তিনি।
একই উপজেলার পাথর্শী ইউনিয়নের পূর্ব গামাড়িয়া এলাকার নসু মোল্লা বলেন, বেশ কিছুদিন ধরে একটি মিউটেশন কাজের জন্য এসিল্যান্ড অফিসে ঘুরছেন। এসিল্যান্ড না থাকায় কাজটি আটকে আছে। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা অতিরিক্ত দায়িত্বে থাকলেও তিনি নিয়মিত ভূমি অফিসে না বসায় ভোগান্তি হচ্ছে বলে জানান তিনি।
সংস্কারে ব্যয় ২৯ কোটি টাকা, সেই খাল এখন ময়লার ভাগাড়
দেওয়ানগঞ্জ উপজেলার চর আমখাওয়া ইউনিয়নের মজিবর হক বলেন, জমির নামজারি করতে বেশ কিছুদিন ধরে ভূমি অফিসে ঘুরছেন। কর্মকর্তা না থাকায় তার কাজ আটকে আছে। দ্রুত একজন সহকারী কমিশনার (ভূমি) নিয়োগের দাবি জানান তিনি।
মাদারগঞ্জ উপজেলার চর পাকেরদহ ইউনিয়নের মরিয়ম খাতুন বলেন, তার খারিজ বাতিলের একটি মামলা রয়েছে। সহকারী কমিশনার (ভূমি) না থাকায় মামলার শুনানি হচ্ছে না। ফলে তার কাজও আটকে আছে।
এ বিষয়ে বুধবার (৭ অক্টবর) জামালপুরের জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ ইউসুপ আলী বলেন, জেলার তিনটি উপজেলায় বর্তমানে সহকারী কমিশনার (ভূমি) পদ শূন্য রয়েছে। পাশাপাশি আরও তিনটি উপজেলায় বদলিজনিত কারণে এ পদ শূন্য হওয়ার প্রক্রিয়ায় রয়েছে। সেবাগ্রহীতারা যাতে প্রয়োজনীয় ভূমি সেবা থেকে বঞ্চিত না হন, সে জন্য উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাদের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। সমস্যার দ্রুত সমাধানের জন্য ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে চিঠির মাধ্যমে জানানো হয়েছে।
—জা. অর্থনীতি/এনজে