গ্যাস অনুসন্ধানে নতুন গতি

শফিক আহমদ শফি, সিলেট: দেশের চলমান গ্যাস সংকট মোকাবিলায় দেশীয় উৎস থেকে উৎপাদন বাড়াতে নতুন করে তৎপরতা শুরু করেছে সিলেট গ্যাস ফিল্ডস লিমিটেড (এসজিএফএল)। নতুন কূপ খননের পাশাপাশি পুরোনো কূপে ওয়ার্কওভার, অনুসন্ধান কার্যক্রম এবং আধুনিক ৩ডি সিসমিক জরিপের মাধ্যমে ভূগর্ভস্থ গ্যাসের সম্ভাব্য মজুদ চিহ্নিত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

গ্যাস সংকটের এই সময়ে সিলেট গ্যাস ফিল্ডের নতুন ও পুরোনো কূপ ঘিরে অনুসন্ধান এবং উৎপাদন বাড়ানোর উদ্যোগকে সম্ভাবনাময় পদক্ষেপ হিসেবে দেখছেন সংশ্লিষ্টরা। এসজিএফএলের আওতায় বর্তমানে ১৫টি কূপের খনন ও পুনর্খননের কাজ এগিয়ে চলছে। জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় ২০৩৫ সালের মধ্যে দেশে ৩০০টি গ্যাসকূপ খনন ও পুনর্খননের মহাপরিকল্পনা নিয়েছে সরকার। এর অংশ হিসেবে প্রথম ধাপে ১৫০টি কূপ খনন ও পুনর্খননের পরিকল্পনা রয়েছে।

এসজিএফএল সূত্রে জানা গেছে, প্রতিষ্ঠানটির আওতায় বর্তমানে ১৫টি কূপে নতুন করে খনন ও পুনর্খননের কাজ চলছে। এর মধ্যে রশিদপুর-১৩ কূপে খননকাজ চলমান। পাশাপাশি ডুপিটিলা-১, সিলেট-১৩ ও হারারগঞ্জ-১সহ কয়েকটি অনুসন্ধানী কূপ নিয়েও কার্যক্রম এগিয়ে চলছে। ইতোমধ্যে কয়েকটি পুরোনো কূপের ওয়ার্কওভার সম্পন্ন হয়েছে। এর আগে গ্যাস সংকট কমাতে রশিদপুর-১৩, ডুপিটিলা-১ ও কৈলাশটিলা-৯ এই তিনটি নতুন গ্যাস ও তেল কূপ খননের উদ্যোগ নেয় এসজিএফএল। এসব কূপ থেকে সম্মিলিতভাবে দৈনিক প্রায় ৩ কোটি ঘনফুট অতিরিক্ত গ্যাস জাতীয় গ্রিডে যুক্ত করার প্রত্যাশা রয়েছে। বর্তমানে প্রতিষ্ঠানটি ১৭টি উৎপাদনশীল কূপ থেকে প্রতিদিন প্রায় ১৪ কোটি ২০ লাখ ঘনফুট গ্যাস জাতীয় গ্রিডে সরবরাহ করছে।

শুধু নতুন কূপ খনন নয়, পুরোনো কূপগুলোর উৎপাদন সক্ষমতা ফিরিয়ে আনাকেও গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। এসজিএলএফ জানিয়েছে, ইতোমধ্যে একাধিক কূপে ওয়ার্কওভার সম্পন্ন হয়েছে। এসব কার্যক্রমের মাধ্যমে অতিরিক্ত গ্যাস জাতীয় সঞ্চালন লাইনে যুক্ত হচ্ছে। প্রতিষ্ঠানটির লক্ষ্য, ধাপে ধাপে উৎপাদন বাড়িয়ে ২০৩১ সালের মধ্যে দৈনিক প্রায় ২৬ কোটি ঘনফুট গ্যাস সরবরাহের সক্ষমতা অর্জন করা।

এদিকে গ্যাসের সম্ভাবনা যাচাইয়ে আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহারও বাড়ানো হচ্ছে। সিলেট গ্যাস ফিল্ডসের আওতাধীন লামিগাঁও, লালাবাজার, দোয়ারাবাজার দক্ষিণ ও রশিদপুর দক্ষিণসহ প্রায় ৮৮২ বর্গকিলোমিটার এলাকায় ৩ডি সিসমিক জরিপ পরিচালনার জন্য আন্তর্জাতিক সেবা প্রদানকারী প্রতিষ্ঠান নিয়োগের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এর মাধ্যমে ভূগর্ভে সম্ভাব্য গ্যাস ও তেলের মজুদের অবস্থান আরও নির্ভুলভাবে চিহ্নিত করার সুযোগ তৈরি হবে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, আমদানিনির্ভর এলএনজির ওপর চাপ কমাতে দেশীয় গ্যাসের অনুসন্ধান ও উৎপাদন বাড়ানোর বিকল্প নেই। গ্যাসের ঘাটতি শিল্প, বিদ্যুৎ উৎপাদনসহ দেশের সামগ্রিক অর্থনীতিতে প্রভাব ফেলছে। নতুন কূপ খননের পাশাপাশি পুরোনো কূপের সর্বোচ্চ উৎপাদন নিশ্চিত করা গেলে জাতীয় গ্রিডে গ্যাস সরবরাহ বাড়ানোর সুযোগ তৈরি হবে।

এসজিএফএলের ব্যবস্থাপনা পরিচালক প্রকৌশলী মো. ফারুক হোসেন বলেন, এরই মধ্যে সিলেট গ্যাস ফিল্ডে কূপ খনন ও ওয়ার্কওভারের কাজ এগিয়ে চলছে। আমাদের আটটি ওয়ার্কওভার শেষ হয়েছে এবং পাঁচটি নতুন কূপ খননের কাজও শেষ হয়েছে। তিনি বলেন, আগের প্রতিবেদনের ভিত্তিতে তাদের ধারণা, টেংরাটিলায় এখনও দুই ট্রিলিয়ন ঘনফুটের (টিসিএফ) বেশি গ্যাস মজুদ থাকতে পারে।

এসজিএফএল বর্তমানে ১৭টি কূপ থেকে দৈনিক প্রায় ১৪ কোটি ঘনফুট গ্যাস জাতীয় সঞ্চালন লাইনে সরবরাহ করছে। ২০৩১ সালের মধ্যে এই সরবরাহ ২৬ কোটি ঘনফুটে উন্নীত করার আশা করছে প্রতিষ্ঠানটি। নির্ধারিত উৎপাদন সক্ষমতা অর্জন করা সম্ভব হলে দেশের গ্যাস সংকট মোকাবিলায় সিলেট গ্যাস ফিল্ড আরও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারবে বলে জানান তিনি।