আন্তর্জাতিক ডেস্ক: ক্যারিবীয় সাগরে একটি নৌযানে মার্কিন সামরিক বাহিনীর হামলায় অন্তত চারজন নিহত হয়েছেন। যুক্তরাষ্ট্রের দাবি, নৌযানটি মাদক পাচারের কাজে ব্যবহৃত হচ্ছিল এবং সেখানে থাকা ব্যক্তিরা ‘মাদক-সন্ত্রাসবাদী’।
রবিবার (৪ অক্টোবর) মার্কিন সাউদার্ন কমান্ড সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে জানায়, ক্যারিবীয় সাগরের প্রতিষ্ঠিত মাদক পাচারের রুট ধরে দ্রুতগতিতে চলা একটি নৌযানে ‘প্রাণঘাতী’ হামলা চালানো হয়েছে। নৌযানটিতে মাদক পাচার করা হচ্ছিল-এমন ‘নিশ্চিত গোয়েন্দা তথ্যের’ ভিত্তিতে হামলা চালানো হয় বলে দাবি করেছে তারা। এতে চারজন নিহত হন।
মার্কিন সাউদার্ন কমান্ড নিহতদের ‘মাদক-সন্ত্রাসবাদী’ হিসেবে উল্লেখ করেছে। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসনের ভাষ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বর থেকে যেসব নৌযানে হামলা চালানো হয়েছে, সেগুলো মাদক পরিবহনে ব্যবহৃত হচ্ছিল।
ক্যারিবীয় সাগর ও প্রশান্ত মহাসাগরের পূর্বাঞ্চলে বিভিন্ন নৌযানে যুক্তরাষ্ট্রের চালানো হামলায় এ পর্যন্ত ২২০ জনের বেশি মানুষ নিহত হয়েছেন।
এসব হামলার বৈধতা নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ের বিশেষজ্ঞ এবং মানবাধিকার আইনজীবীরা প্রশ্ন তুলেছেন। হিউম্যান রাইটস ওয়াচ, অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল এবং জাতিসংঘের স্বাধীন বিশেষজ্ঞরা হামলাগুলোকে ‘বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড’ হিসেবে অভিহিত করেছেন।
জাতিসংঘের মানবাধিকার ও সন্ত্রাসবাদ দমনবিষয়ক বিশেষ র্যাপোর্টিয়ার বেন সল বলেছেন, এ ধরনের হামলা প্রচলিত আন্তর্জাতিক আইনের অধীনে মানবতার বিরুদ্ধে অপরাধ হিসেবে গণ্য হওয়ার শামিল-এমনটা বিশ্বাস করার যৌক্তিক কারণ রয়েছে।
জা.অর্থনীতি/এসআই