রাজধানীর হাজারীবাগে সালেক খান বাবু নামে কার্যক্রম নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের এক নেতার রহস্যজনক মৃত্যু হয়েছে। তাকে নির্যাতন শেষে ভবনের ছাদ থেকে ফেলে হত্যা করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন নিহতের মা সুফিয়া বেগম। এ ঘটনায় থানায় হত্যা মামলা করার পর দুজনকে গ্রেপ্তার করেছে হাজারীবাগ থানা পুলিশ।
গত শুক্রবার বিকেলে হাজারীবাগ থানাধীন শংকর-জাফরাবাদ এলাকার আলী মঞ্জিল ভবনে এ ঘটনা ঘটে। নিহত সালেক খান বাবু নিষিদ্ধ সংগঠন ছাত্রলীগের ঢাকা মহানগর উত্তর শাখার সাবেক সহসভাপতি এবং মোহাম্মদপুর থানার ৩৪ নম্বর ওয়ার্ড ছাত্রলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক ছিলেন।
নিহতের মায়ের করা এজাহার সূত্রে জানা গেছে, শুক্রবার বিকেল ৫টা ৪০ মিনিটে রায়েরবাজার জাফরাবাদ এলাকার আলী মঞ্জিলের নিরাপত্তাকর্মী বাধনের সঙ্গে বাবুর (৩৫) কথা কাটাকাটি ও হাতাহাতি হয়। একপর্যায়ে বাধন লোহার অ্যাঙ্গেল দিয়ে বাবুর মাথায় আঘাত করেন। পরে ভবনের আরেক নিরাপত্তাকর্মী মিল্টনসহ কয়েকজন সেখানে জড়ো হয়ে তাকে আবারও মারধর করেন। এরপর সন্ধ্যা ৬টা ১০ মিনিটে মিল্টন বাবুকে ১০ তলা ওই ভবনের ছাদে নিয়ে যান। কিছুক্ষণ পর তারা নিচে নেমে আসেন। এরপর ভবনের দক্ষিণ পাশে টিনের চালের ওপর বাবুকে গুরুতর আহত অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখা যায়।
খবর পেয়ে রাত ৯টায় হাজারীবাগ থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে যায়। পরে ভবনের দক্ষিণ পাশের একটি প্লটের গ্যারেজের টিনের চাল থেকে বাবুর মরদেহ উদ্ধার করে সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করে পুলিশ। এরপর ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহ ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়।
নিহতের মা সুফিয়া বেগম অভিযোগ করে বলেন, ভবনের কেয়ারটেকার মিল্টন ও বাধন চাকমাসহ কয়েকজন মিলে তার ছেলেকে প্রথমে দ্বিতীয় তলায় নিয়ে লোহার রড দিয়ে এলোপাতাড়ি পিটিয়ে ভবনের ছাদে নিয়ে ফেলে দিয়েছে। এ ঘটনায় মিল্টন, বাধন চাকমা এবং অজ্ঞাতনামা আরও ৭-৮ জনের বিরুদ্ধে হাজারীবাগ থানায় মামলা করেছেন তিনি।
সুফিয়া বেগম বলেন, ‘আমার ছেলেকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হয়েছে। সে আওয়ামী লীগের রাজনীতি করত। ওই ভবনে রঙের কাজের বিল বাবদ তার ৩ লাখ টাকা পাওনা ছিল। কোম্পানি তাকে দেড় লাখ টাকা দিয়েছে, বাকি টাকা দিতে চায়নি। এ নিয়ে তাকে কয়েক দফা হুমকি-ধমকিও দেওয়া হয়েছিল।’ তিনি বলেন, টাকা আদায়ে বিএনপির এক নেতার কাছে বিচার দিলে তিনিও টাকা উদ্ধার না করে বিষয়টি চেপে যেতে বলেন। পরে আমার ছেলে কোম্পানিকে হুমকি দিয়েছিল যে আওয়ামী লীগ কোনোদিন ক্ষমতায় এলে এই টাকা দিতে হবে।
গত ১৭ বছর বাবু ওই ভবনটির দেখাশোনা করে আসছিলেন জানিয়ে তার মা বলেন, অনেক চাঁদাবাজির হাত থেকে রক্ষা করেছিল। সেই ভবনের নিরাপত্তাকর্মীরা আমার ছেলেকে পিটিয়ে, ছাদ থেকে ফেলে হত্যা করেছে। এ ঘটনায় পুলিশ দুজনকে গ্রেপ্তার করেছে। আমি রাষ্ট্রের কাছে আমার ছেলে হত্যার সুষ্ঠু বিচার চাই।
এ বিষয়ে হাজারীবাগ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোশাররফ হোসেন বলেন, এ ঘটনায় নিহতের মা বাদী হয়ে থানায় একটি হত্যা মামলা করেছেন। আমরা মামলা নিয়েছি এবং ঘটনাস্থল থেকে দুজনকে গ্রেপ্তার করেছি। এ ছাড়া তদন্ত চলছে। আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
—জা. অর্থনীতি/এএইচএ