২২ প্রাথমিক বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষক নেই, ব্যাহত হচ্ছে পাঠদান
ছবি: জাতীয় অর্থনীতি

হিলি (দিনাজপুর) প্রতিনিধি: দিনাজপুরের হাকিমপুর উপজেলায় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোর প্রায় অর্ধেকেরও বেশিতে প্রধান শিক্ষকের পদ শূন্য থাকায় প্রশাসনিক স্থবিরতা সৃষ্টি ও নিয়মিত পাঠদান চরমভাবে ব্যাহত হচ্ছে। উপজেলার মোট ৪৬টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মধ্যে ২২টিতেই প্রধান শিক্ষক নেই। ফলে বাধ্য হয়ে জ্যেষ্ঠ সহকারী শিক্ষকদের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকের অতিরিক্ত দায়িত্ব দিয়ে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের কার্যক্রম চালানো হচ্ছে।

সরেজমিনে উপজেলার নওপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে গিয়ে দেখা যায়, একজন সহকারী শিক্ষককে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক হিসেবে একই সাথে দাপ্তরিক জটিল ফাইলপত্র দেখা ও পাঠদান- দুটি কাজই সামলাতে হচ্ছে। অফিসের প্রশাসনিক কাজের চাপ বাড়লেই তাকে ক্লাস ছেড়ে দপ্তরে বসতে হচ্ছে, যা সামাল দিতে গিয়ে হিমশিম খাচ্ছেন অন্যান্য সহকারী শিক্ষকরা।

উপজেলার শিক্ষা পরিস্থিতির এই দৈন্যদশা নিয়ে চরম উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন স্থানীয় অভিভাবক ও সচেতন মহল। তাদের মতে, একটি উপজেলার অর্ধেক স্কুলেই যদি অভিভাবকতুল্য প্রধান শিক্ষক না থাকেন, তবে শিক্ষার মান ও সার্বিক ব্যবস্থাপনা ধরে রাখা কঠিন।

নওপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক এ কে এম আলমাস জানান, দাপ্তরিক কাজ সামলে নিয়মিত নির্ধারিত ক্লাস পরিচালনা করা অত্যন্ত দুরূহ। জরুরি অফিশিয়াল ফাইল নিয়ে ব্যস্ত থাকলে সহকর্মীদের ওপর অতিরিক্ত ক্লাসের চাপ সৃষ্টি হয়, যা শিক্ষার্থীদের পড়াশোনার ধারাবাহিকতায় ব্যাঘাত ঘটায়।

হাকিমপুর উপজেলা প্রাথমিক প্রধান শিক্ষক সমিতির সভাপতি মো. জামান আলী বলেন, সহকারী শিক্ষকদের ওপর দ্বিবিধ দায়িত্ব চাপিয়ে দেওয়ায় তারা অতিরিক্ত মানসিক ও পেশাগত চাপে ভুগছেন। ফলে প্রাতিষ্ঠানিক কাজের গতি কমছে।

বিষয়টি স্বীকার করে হাকিমপুর উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা আবু মোত্তালেব আলম জানান, শূন্য পদগুলোর কারণে কিছুটা বেগ পেতে হলেও শিক্ষকেরা আন্তরিকতার সাথে কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছেন।

সংশ্লিষ্ট শিক্ষক ও অভিভাবকদের জোর দাবি, দ্রুততম সময়ে শূন্য পদগুলোতে স্থায়ী প্রধান শিক্ষক নিয়োগ দিয়ে প্রাথমিক শিক্ষার মান ও প্রশাসনিক গতিশীলতা ফিরিয়ে আনা জরুরি।  

—জা. অর্থনীতি/এলএটি