৫০৬ কোটি টাকার বিদ্যুৎ বিল নেমে এলো ২ হাজারে
ছবি সংগৃহীত

মাগুরা প্রতিনিধি: এক মাসে বিদ্যুৎ খরচ হয়েছে ২৩৫ ইউনিট। এতেই এক গ্রাহকের নামে ৫০৬ কোটি ৮৩ লাখ ১১ হাজার ৫৯৩ টাকার বিল করার ঘটনায় মাগুরা পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির আড়পাড়া জোনাল অফিসের ডেপুটি জেনারেল ম্যানেজারসহ (ডিজিএম) ৪ জনকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়েছে।

মঙ্গলবার (২৯ সেপ্টেম্বর) রাতে বিভিন্ন গণমাধ্যমে ‘এক গ্রাহকের ২৩৫ ইউনিটের বিদ্যুৎ বিল ৫০৬ কোটি টাকা’ সংক্রান্ত প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। এরপরই এই নোটিশের কথা জানা যায়।

সেপ্টেম্বর মাসে ওই বিলটি ইস্যু করা হয় মাগুরা সদর উপজেলার মঘি ইউনিয়নের কেচুয়াডুবি গ্রামের মোছা. আলেয়া খাতুনের নামে।

বিলের তথ্য অনুযায়ী, এক মাসে ২৩৫ ইউনিট বিদ্যুতের জন্য ওই বিলে ডিমান্ড চার্জ হিসেবে দেখানো হয় ৪৮২ কোটি ৬৯ লাখ ৬৩ হাজার ৪২২ টাকা। এর সঙ্গে ২৪ কোটি ১৩ লাখ ৪৮ হাজার ১৭১ টাকা ভ্যাট। মোট বিল দাঁড়ায় ৫০৬ কোটি ৮৩ লাখ ১১ হাজার ৫৯৩ টাকা।

মাগুরায় এক গ্রাহকের ৫০৬ কোটি ৮৩ লাখ টাকা বিদ্যুৎ বিল!

নির্ধারিত সময়ের মধ্যে বিল পরিশোধ না করলে মাশুলসহ ওই বিল বেড়ে ৫৩০ কোটি ৯৬ লাখ ৫৯ হাজার ৭৬৪ টাকা হওয়ার কথা উল্লেখ ছিল। অথচ ২৩৫ ইউনিট বিদ্যুৎ ব্যবহারের প্রকৃত বিল হওয়ার কথা ছিল মাত্র ১ হাজার ৯৬৩ টাকা। বিলম্ব মাশুলসহ যার পরিমাণ দাঁড়াত ২ হাজার ৫৬ টাকা।

অস্বাভাবিক এই বিল দেখে হতবাক হয়ে যান গ্রাহকসহ তার পরিবারের সদস্যরা। পরে বিদ্যুৎ বিভাগের কর্মকর্তারা দ্রুত বিলটি সংশোধন করেন। ৫০৬ কোটির বিল নেমে আসে ২ হাজারে।

গ্রাহক মোছা. আলেয়া খাতুন বলেন, এ ধরনের ভুলের কঠোর প্রতিকার হওয়া জরুরি।

মাগুরা পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির আড়পাড়া জোনাল অফিসের ডেপুটি জেনারেল ম্যানেজার (ডিজিএম) মো. রেজাউল করিম বলেন, গ্রাহকের মিটার পরিবর্তনের কারণে ভুলবশত মিটারের সিল নম্বরের ডিজিটগুলো ডিমান্ড চার্জের ঘরে পোস্টিং হয়ে যাওয়ায় এই অস্বাভাবিক বিলটি তৈরি হয়েছে। পরে বিলটি সংশোধন করা হয়েছে। গতকাল গ্রাহক সংশোধিত বিল পরিশোধ করেছেন।

মাগুরা পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির জেনারেল ম্যানেজার মো. মহিদুল ইসলাম বলেন বলেন, বিল তৈরির ক্ষেত্রে এমন বড় ভুলের কারণে সংশ্লিষ্ট ডিজিএম মো. রেজাউল করিম, বিলিং সুপারভাইজার ও বিলিং সহকারী সোমা রানীসহ মোট ৪ জনকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়েছে।

—জা.অর্থনীতি/এনজে