উপাচার্য পুনর্বহাল: দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত চলবে আন্দোলন
ছবি: সংগৃহীত

চুয়েট প্রতিনিধি: চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (চুয়েট) নবনিযুক্ত উপাচার্যকে অপসারণ করে দায়িত্ব গ্রহণের মাত্র ৫৬ দিনের মাথায় পদে রদবদল হওয়া উপাচার্য অধ্যাপক ড. আবু সাদাত মোহাম্মদ সায়েমকে পুনর্বহালের দাবিতে প্রশাসনিক ও একাডেমিক শাটডাউন, গণঅবস্থান এবং গণস্বাক্ষর কর্মসূচি পালন করছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের সাধারণ শিক্ষার্থীরা। দাবিকৃত দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন অব্যাহত রাখার কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়েছেন শিক্ষার্থীরা।

বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) দ্বিতীয় দিনের মতো বিশ্ববিদ্যালয়ের মূল ফটক সংলগ্ন স্বাধীনতা চত্বরে অবস্থান নিয়ে শিক্ষার্থীরা দিনভর গণঅবস্থান কর্মসূচি পালন করেন। একই সাথে বিশ্ববিদ্যালয়ের সকল বিভাগ ও ব্যাচের শিক্ষার্থীদের সমন্বয়ে এক যোগে গণস্বাক্ষর সংগ্রহ কর্মসূচি পরিচালিত হয়।

শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভ সূত্রে জানা গেছে, গত সোমবার শিক্ষা মন্ত্রণালয় থেকে জারি করা এক আকস্মিক প্রজ্ঞাপনে অধ্যাপক ড. শেখ শরীফুল আলমকে চুয়েটের নতুন উপাচার্য হিসেবে নিয়োগ প্রদান করা হয়। কোনো নির্দিষ্ট ও যৌক্তিক কারণ দর্শানো ছাড়াই মাত্র ৫৬ দিন পূর্বে নিযুক্ত উপাচার্য অধ্যাপক ড. আবু সাদাত মোহাম্মদ সায়েমকে অপসারণের সিদ্ধান্ত আসায় পুরো ক্যাম্পাসে চরম ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। প্রজ্ঞাপন জারির পরদিন মঙ্গলবার থেকেই একযোগে প্রশাসনিক কর্মকাণ্ড স্থবির করে শাটডাউন ও গণঅবস্থান শুরু করেন শিক্ষার্থীরা।

আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীরা এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে তাদের অবস্থান পরিষ্কার করে উল্লেখ করেন যে, দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই অধ্যাপক সায়েম শিক্ষার্থীদের সাথে সরাসরি যোগাযোগের মাধ্যমে প্রশাসনিক জটিলতা নিরসন এবং সুশাসন প্রতিষ্ঠায় নজিরবিহীন ভূমিকা রেখেছিলেন। তার স্বল্পমেয়াদি মেয়াদে আন্তর্জাতিক বিশ্ববিদ্যালয়ের সাথে শিক্ষার্থী বিনিময় (এক্সচেঞ্জ প্রোগ্রাম), অ্যালামনাই নেটওয়ার্ক বিস্তৃতকরণ, গবেষণা ফান্ড বৃদ্ধি ও পেশাগত দক্ষতা উন্নয়নে যে দূরদর্শী পরিকল্পনা ও প্রকল্প গ্রহণ করা হয়েছিল-হঠাৎ এই প্রশাসনিক রদবদলের ফলে তা মারাত্মক ক্ষতির মুখে পড়বে।

সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে শিক্ষার্থীরা স্পষ্ট করে জানান, এই আন্দোলন সম্পূর্ণ অরাজনৈতিক ও শিক্ষার্থীকেন্দ্রিক। দীর্ঘ শিক্ষকতা ও সফল প্রশাসনিক ভূমিকার জন্য তৈরি হওয়া সাধারণ শিক্ষার্থীদের আস্থার জায়গা থেকেই অধ্যাপক সায়েমকে পুনর্বহালের এ দাবি। শিক্ষা মন্ত্রণালয় চুয়েট শিক্ষার্থীদের যৌক্তিক দাবি মেনে না নেওয়া পর্যন্ত ক্লাসবর্জনসহ সব ধরনের স্মারকলিপি প্রদান ও শাটডাউন কর্মসূচি অব্যাহত থাকবে।

—জা. অর্থনীতি/এলএটি