যশোর প্রতিনিধি: মালয়েশিয়ায় অবস্থানরত এক প্রবাসীকে অস্ট্রেলিয়ায় উচ্চ বেতনের প্রলোভন দেখিয়ে ইন্দোনেশিয়ায় পাচার, জিম্মি ও নির্যাতনের মাধ্যমে মুক্তিপণ আদায়ের ঘটনায় মানবপাচারকারী চক্রের সদস্য মোস্তাকিম মিয়া ওপেলকে (৩০) গ্রেপ্তার করেছে অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)।
সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) গভীর রাতে নরসিংদীর মাধবদী থানা পুলিশের সহায়তায় স্থানীয় কান্দাইল বাসস্ট্যান্ড এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।
গ্রেপ্তারকৃত মোস্তাকিম মিয়া ওপেল নরসিংদী জেলার মাধবদী থানার কান্দাইল মোল্লাপাড়া এলাকার বাসিন্দা।
সিআইডি সূত্র জানায়, যশোরের কোতোয়ালি মডেল থানায় মানব পাচার প্রতিরোধ ও দমন আইনে দায়েরকৃত মামলায় (মামলা নং-৪৩) মোস্তাকিমকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, ভুক্তভোগী প্রবাসী মো. জসীম উদ্দীন দীর্ঘদিন ধরে মালয়েশিয়ায় অবস্থান করছিলেন। সেখানে থাকাকালে তাকে অবৈধ উপায়ে অস্ট্রেলিয়া পাঠিয়ে লোভনীয় চাকরির প্রতিশ্রুতি দেয় একটি পাচারকারী চক্র।
চুক্তিকৃত ৮ লাখ টাকার মধ্যে জসীম মালয়েশিয়ায় আসামিদের নগদ ৪ লাখ ৯০ হাজার টাকা প্রদান করেন। পরবর্তীতে তাকে অস্ট্রেলিয়া পাঠানোর নামে অবৈধভাবে সমুদ্রপথে ইন্দোনেশিয়ায় নিয়ে একটি নির্জন স্থানে বন্দি করে রাখা হয়। সেখানে তার ওপর অমানুষিক শারীরিক নির্যাতন চালিয়ে ভুক্তভোগীর স্বজনদের কাছে মোটা অঙ্কের মুক্তিপণ দাবি করে পাচারকারীরা। প্রাণ বাঁচাতে জসীমের স্বজনরা দেশীয় দুটি ব্যাংক অ্যাকাউন্টের মাধ্যমে মোট ১৬ লাখ টাকা জমা দিতে বাধ্য হন।
তদন্তে নেমে ব্যাংকিং ট্রানজেকশন ট্র্যাক করে সিআইডি প্রথমে ইয়াসিন (২৫) ও হুমায়ুন (৩৮) নামে দুই আসামিকে গ্রেপ্তার করে। তাদের প্রাপ্ত স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিতে মূল পরিকল্পনাকারী পলাতক আসামি মো. আতিকুর হাসানের নাম বেরিয়ে আসে।
অনুসন্ধানে নিশ্চিত হওয়া গেছে, আতিকুর মালয়েশিয়া থেকে জিম্মি বাণিজ্যের সুতা নাড়াতেন এবং দেশে তার আপন ভাই মোস্তাকিম মিয়া ওপেল মূল দেশীয় এজেন্ট হিসেবে পুরো অর্থ লেনদেন পরিচালনা করতেন।
যশোর সিআইডি কার্যালয়ে আনার পর প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে মানবপাচার ও অর্থ লেনদেনের সাথে নিজের প্রত্যক্ষ সম্পৃক্ততার কথা স্বীকার করেছে মোস্তাকিম। তদন্তকারী কর্মকর্তা জানান, মামলাটি অত্যন্ত স্পর্শকাতর হওয়ায় আসামির জামিনের বিরোধিতা করে আদালতে প্রতিবেদন পেশ করা হয়েছে এবং চক্রের অন্যান্য পলাতক সদস্যদের আইনের আওতায় আনতে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
—জা. অর্থনীতি/এলএটি