‘আমার তো একটাই ছেলে, আমি বাঁচব ক্যামনে’
ছবি: জাতীয় অর্থনীতি

কুবি প্রতিনিধি: ‘আমার ছোট্ট ছেলে কী অন্যায় করেছে, আমি এটার জবাব চাই! আমি কোনো বিচার মানি না, আমাকে উত্তর দিতে হবে। আমি বাঁচব ক্যামনে? আমার তো ছেলে একটাই! আমি ক্যামনে আমার জীবন পার করব?’-একমাত্র সন্তান ইশায়াত শাহরিয়ার ওরফে অপ্রতিমকে হারিয়ে এভাবেই অঝোরে বিলাপ করে কান্নায় ভেঙে পড়ছেন মা ড. নাহিদা বেগম। তিনি কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের (কুবি) বাংলা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক।

শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬) দুপুরে কোটবাড়িস্থ বাসভবনে শোকসন্তপ্ত পরিবারটিকে সমবেদনা জানাতে যান স্থানীয় সংসদ সদস্য (এমপি) মনিরুল হক চৌধুরী। তিনি সেখানে পৌঁছালে সন্তানহারা মায়ের হৃদবিদায়ক বিলাপ ও আর্তনাদে এক হৃদয়বিদারক পরিবেশের সৃষ্টি হয়।

আরও পড়ুন: অপ্রতিম হত্যায় সিসিটিভি ফুটেজ দেখে আরও ২ জন আটক

কান্নাজড়িত কণ্ঠে কান্না সামলাতে না পেরে অপ্রতিমের মা বলতে থাকেন, ‘আমি কোন দেশে থাকি? এটা কোন দেশ? একটা ছেলে বের হলে তাকে মেরে ফেলতে হবে?’

এ সময় পাশে দাঁড়িয়ে অঝোরে কাঁদতে কাঁদতে শিশুটির বাবা কে এম ফিরোজ শাহরিয়ার আফসোস করে বলেন, ‘কেবলমাত্র একটা ফোনের জন্য আমার অবুঝ ছেলেটাকে এভাবে মেরে ফেলল এরা!’

আরও পড়ুন: কুবি শিক্ষিকার ছেলে অপ্রতিমের মৃত্যুর ঘটনায় আটক ১

সন্তানহারা পিতা-মাতার এমন করুণ চিত্র ও মর্মান্তিক আর্তনাদ দেখে উপস্থিত সংসদ সদস্য মনিরুল হক চৌধুরী নিজেও চোখের জল ধরে রাখতে পারেননি। তাঁকেও হতবিহ্বল হয়ে রুমাল দিয়ে চোখের জল মুছতে দেখা যায়। তিনি শোকস্তব্ধ পরিবারটিকে সান্ত্বনা দেওয়ার চেষ্টা করেন এবং অপরাধীদের দ্রুততম সময়ে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির আশ্বাস দেন।

আরও পড়ুন: যেভাবে জঙ্গলে মিলল অপ্রতিমের মরদেহ

উল্লেখ্য, শুক্রবার বিকেলে মায়ের আইফোন নিয়ে বের হওয়ার পর নিখোঁজ হয় বর্ডার গার্ড পাবলিক স্কুলের সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থী অপ্রতিম। আজ শনিবার দুপুরে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয় সংলগ্ন বিজয়নগর ইউনিয়নের সানন্দা এলাকার লালমাই পাহাড়ের নির্জন জঙ্গল থেকে তার ক্ষতবিক্ষত মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। দামী মুঠোফোন ছিনতাইয়ের উদ্দেশ্যে তাকে হত্যা করা হয়েছে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করছে পুলিশ। এ ঘটনায় সিসিটিভি ফুটেজ পর্যালোচনার মাধ্যমে ইতোমধ্যে ৩ তরুণকে গ্রেফতার করে পুলিশ হেফাজতে নেওয়া হয়েছে।

—জা. অর্থনীতি/এলএটি