অস্ট্রিয়ায় ১৪ বছরের কম বয়সী মেয়েদের হিজাব নিষিদ্ধ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক: অস্ট্রিয়ায় নতুন শিক্ষাবর্ষ শুরুর সঙ্গে সঙ্গে ১৪ বছরের কম বয়সী মেয়েদের স্কুলে হিজাব পরার ওপর নিষেধাজ্ঞা কার্যকর হয়েছে। দেশটির সরকারি ও বেসরকারি-উভয় ধরনের স্কুলেই ‘ঐতিহ্যবাহী মুসলিম’ মাথার আবরণ ব্যবহারে নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়েছে।

নতুন আইনটির পক্ষে সরকারের যুক্তি, অল্প বয়সী মেয়েদের অধিকার ও লিঙ্গসমতা রক্ষা করা। অস্ট্রিয়ার সমন্বয়মন্ত্রী ক্লাউডিয়া বাউয়ার হিজাবকে মেয়েদের ওপর নিপীড়ন ও ছোটবেলা থেকেই নিয়ন্ত্রণের একটি মাধ্যম হিসেবে উল্লেখ করেছেন।

তবে দেশটির মুসলিম সংগঠনসহ বিভিন্ন অধিকারকর্মী এই সিদ্ধান্তের তীব্র বিরোধিতা করছেন। অস্ট্রিয়ার ইসলামিক কমিউনিটি বলেছে, নিষেধাজ্ঞাটি ধর্মীয় স্বাধীনতার মৌলিক অধিকারকে অযৌক্তিকভাবে সীমিত করছে এবং মুসলিম মেয়েদের ওপর বৈষম্যমূলক প্রভাব ফেলছে। সংগঠনটি জানিয়েছে, ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলো সাংবিধানিক আদালতে গেলে তারা আইনি সহায়তা দেবে।

এর আগে ২০২০ সালে অস্ট্রিয়ার সাংবিধানিক আদালত প্রাথমিক বিদ্যালয়ে হিজাব নিষিদ্ধের একটি আইন বাতিল করেছিল। আদালতের মতে, সেটি ধর্মীয় নিরপেক্ষতার নীতির সঙ্গে সাংঘর্ষিক ছিল।

নতুন আইনে কোনো শিক্ষার্থী হিজাব পরে স্কুলে এলে শিক্ষকরা প্রথমে শিক্ষার্থী ও তার অভিভাবকদের সঙ্গে আলোচনা করবেন। একই ঘটনা বারবার ঘটলে শিশু সুরক্ষা কর্তৃপক্ষকে জানানো হবে। শেষ পর্যন্ত অভিভাবকদের সর্বোচ্চ ৮০০ ইউরো জরিমানা হতে পারে।

এদিকে দেশটির ডানপন্থি ফ্রিডম পার্টি আরও কঠোর নিষেধাজ্ঞার দাবি জানিয়েছে। অন্যদিকে কিছু শিক্ষক বলেছেন, আইনটি বাস্তবায়নের দায়িত্ব তাদের ওপর অতিরিক্ত চাপ তৈরি করবে।

ইউরোপে ধর্মীয় পোশাক নিয়ে বিতর্কের মধ্যে অস্ট্রিয়ার নতুন আইনটি ইতোমধ্যে দেশজুড়ে রাজনৈতিক ও সাংবিধানিক বিতর্কের জন্ম দিয়েছে।

সূত্র: বিবিসি

জা.অর্থনীতি/এসআই