আন্তর্জাতিক ডেস্ক: ভারতের উত্তরপ্রদেশের সাহারানপুরে জেলা কালেক্টরেট চত্বরের ভেতরে থাকা একটি মসজিদ উচ্ছেদ করেছে প্রশাসন। আদালতে আপিল খারিজের মাত্র তিন দিন পর, শনিবার (৫ সেপ্টেম্বর) সকালে মসজিদটি সরিয়ে দেওয়া হয়। তবে ২ সেপ্টেম্বরের জেলা আদালতের আদেশে সরাসরি মসজিদ ভাঙার কোনো নির্দেশ ছিল না; সেখানে আগের উচ্ছেদ-সংক্রান্ত আদেশ বহাল রাখা হয়।
স্থাপনাটি ৩১৫ বর্গমিটার সরকারি জমিতে অবস্থিত বলে দাবি করে প্রশাসন। জমিটি নন-জেডএ খতিয়ানের ৫৩৯ নম্বর দাগের অংশ এবং রাজস্ব নথিতে এটি কালেক্টরেট বা কাছারি জমি হিসেবে উল্লেখ রয়েছে বলে আদালতকে জানানো হয়।
চলতি বছরের ১৬ জুলাই সিটি ম্যাজিস্ট্রেটের আদালত উত্তরপ্রদেশ পাবলিক প্রিমাইসেস (এভিকশন অব আনঅথরাইজড অকুপ্যান্টস) আইন, ১৯৭২-এর আওতায় ওই স্থাপনা থেকে উচ্ছেদের নির্দেশ দেয়। এর বিরুদ্ধে করা আপিল ২ সেপ্টেম্বর খারিজ করে জেলা আদালত। আদালত জানায়, জমির মালিকানা ও বৈধ দখলের দাবির পক্ষে আবেদনকারী নির্ভরযোগ্য প্রমাণ দিতে পারেননি এবং নিম্ন আদালতের আদেশে কোনো আইনগত বা বাস্তবগত ত্রুটি নেই।
প্রশাসনের অভিযোগ, স্থাপনাটি মূলত কালেক্টরেট চত্বরে থাকা একটি বিশ্রামাগার ছিল। পরবর্তীতে সেখানে নামাজ আদায় শুরু হয় এবং কয়েকটি কক্ষ তৃতীয় পক্ষকে ভাড়া দেওয়ারও অভিযোগ ওঠে। অনুমতি ছাড়াই সরকারি ভবনের অংশ ধর্মীয় স্থাপনায় রূপান্তরের অভিযোগও করা হয়।
তবে মসজিদ পরিচালনা কমিটির দাবি, স্থাপনাটি প্রায় ১৫০ বছরের পুরোনো এবং জমির মালিকানা তাদের নামে রয়েছে। মসজিদের মুতাওয়াল্লি তানভীর আহমেদ বলেন, আদালতের আদেশ ছিল উচ্ছেদের, ধ্বংসের নয়। বিষয়টি নিয়ে তারা উচ্চতর আদালতের দ্বারস্থ হবেন বলে জানিয়েছেন।
সূত্র: দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস
জা.অর্থনীতি/এসআই