আন্তর্জাতিক ডেস্ক: জিনগতভাবে পরিবর্তিত শূকরের কিডনি ব্যবহার করে ৯ মাসেরও বেশি সময় ডায়ালাইসিস ছাড়াই বেঁচে থাকার রেকর্ড গড়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের ৬৬ বছর বয়সী টিম অ্যান্ড্রুজ। পরে তিনি সফলভাবে একজন মৃত মানবদাতার কিডনি প্রতিস্থাপন করিয়েছেন। চিকিৎসাবিজ্ঞানে এটিই প্রথম ঘটনা, যেখানে শূকরের কিডনি মানব কিডনি প্রতিস্থাপনের আগ পর্যন্ত ‘সেতু’ হিসেবে কাজ করেছে।
অ্যান্ড্রুজ দীর্ঘদিন ধরে টাইপ-২ ডায়াবেটিসজনিত শেষ পর্যায়ের কিডনি রোগে ভুগছিলেন। মানব কিডনি পাওয়ার সম্ভাবনা ছিল মাত্র ৯ শতাংশ, অন্যদিকে অপেক্ষার সময় মারা যাওয়া বা তালিকা থেকে বাদ পড়ার ঝুঁকি ছিল ৪০ শতাংশের বেশি।
২০২৫ সালের জানুয়ারিতে ম্যাসাচুসেটস জেনারেল হাসপাতালের চিকিৎসকেরা তাঁর শরীরে ‘উইলমা’ নামের একটি ইউকাটান মিনিয়েচার শূকরের জিন-পরিবর্তিত কিডনি প্রতিস্থাপন করেন। মানুষের রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থা যাতে অঙ্গটিকে সহজে প্রত্যাখ্যান না করে এবং সম্ভাব্য ভাইরাসের ঝুঁকি কমে, সে জন্য শূকরের জিনোমে ৬৯টি পরিবর্তন আনা হয়েছিল।
চিকিৎসকদের তথ্য অনুযায়ী, কিডনিটি ২৭১ দিন বা প্রায় নয় মাস কার্যকর ছিল। এরপর কিডনির রক্তনালিতে ক্ষতি দেখা দিলে সেটি অপসারণ করা হয়। কয়েক মাস ডায়ালাইসিসে থাকার পর অ্যান্ড্রুজ একজন মৃত মানবদাতার কিডনি পান, যা ছয় মাসের পর্যবেক্ষণে ভালোভাবে কাজ করেছে।
গবেষণায় তাঁর শরীরে নতুন মানব-টিস্যু অ্যান্টিবডি বা শূকরের কোনো রোগজীবাণুর উপস্থিতি পাওয়া যায়নি। তবে চিকিৎসকেরা সতর্ক করে বলেছেন, এটি মাত্র একজন রোগীর অভিজ্ঞতা। নিরাপত্তা ও দীর্ঘমেয়াদি কার্যকারিতা নিশ্চিত করতে আরও বড় পরিসরে ক্লিনিক্যাল ট্রায়াল প্রয়োজন।
সূত্র: দ্য গার্ডিয়ান
জা.অর্থনীতি/এসআই